রাজধানীর হাতিরপুল এলাকায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মেঘ এহসান নামের এক রুপান্তরিত তরুণীকে দফায় দফায় ধর্ষণ ও কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আলিফ রুহানি নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগীর দাবি, প্রেমের ফাঁদে ফেলে তাকে একাধিকবার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় দেড় বছর আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আলিফ রুহানির সাথে মেঘ এহসানের পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে রুহানি সুকৌশলে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, রুহানি পরিকল্পিতভাবে তাকে এই প্রেমের ফাঁদে ফেলেছিলেন।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, পরিচয়ের এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর গত ১৫ ফেব্রুয়ারি, হাতিরপুলের পুকুরপাড় মসজিদ সংলগ্ন একটি বাসায় মেঘ এহসানের সাথে দেখা করতে আসেন। সেখানে তাকে প্রথমবার জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। ভুক্তভোগীর দাবি, ওই দিন তাকে টানা তিনবার ধর্ষণ করা হয়।
ঘটনা জানাজানির ভয়ে এবং মেঘের মুখ বন্ধ রাখতে আলিফ রুহানি তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখান। সরল বিশ্বাসে মেঘ তাতে রাজি হন। এরপর ২১ মার্চ বিয়ের কথা বলে পুনরায় দেখা করতে ডেকে তাকে আবারও ধর্ষণ করা হয়। ১৩ এপ্রিল বিয়ের চূড়ান্ত আলাপ করার নাম করে ডেকে নিয়ে তাকে তৃতীয় দফায় ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ মেঘের।
বারবার প্রতারিত হওয়ার পর মেঘ এহসান বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকলে আলিফ রুহানির প্রকৃত রূপ বেরিয়ে আসে। তিনি বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানান এবং উল্টো মেঘের ওপর শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। অভিযোগ উঠেছে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে রুহানি মেঘের কাছ থেকে বিভিন্ন সময়ে ১.৫০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। ধর্ষণের বিষয়টি কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে।
ভুক্তভোগী তরুণীর দাবি, আলিফ রুহানির এই অপকর্মের বিষয়ে তার মা আঁখি বেগম এবং বড় বোন মিতু আক্তার শুরু থেকেই অবগত ছিলেন। কিন্তু তারা রুহানিকে বাধা না দিয়ে বরং পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও বেরিয়ে এসেছে যে, আলিফ রুহানি অনলাইনে একটি সক্রিয় চক্রের মতো কাজ করেন। তিনি নিয়মিত ফেসবুকসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তরুণীদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলেন এবং পরবর্তীতে একই কায়দায় ধর্ষণ ও অর্থ আত্মসাৎ করেন।
বর্তমানে ভুক্তভোগী তরুণী চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং অভিযুক্ত আলিফ রুহানি ও তার সহযোগীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
উল্লেখ্য, আলিফ রুহানী এর আগেও নির্জনা স্মৃতি আফরিন নামক জনৈক নারীর সাথে এক প্রতারনার ফাঁত পেতে পুলিশের গ্রেফতার হন। বর্তমানে তার তালিকায় আদিবাসি তরুনী ঐশ্বর্য চাকমা সিমিসহ জয়রা, সাফা নামের একাধিক তরুনী রয়েছে। যাদের সাথে প্রতিনিয়ত প্রেমের প্রতারনা করে যাচ্ছেন অভিযুক্ত।
মেঘ এহসান, তার সম্পর্কের সামাজিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন।