সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৮:৪৩ অপরাহ্ন

চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি পরিচালক মতিন রহমান এর শুভ জন্মদিন

ফরিদুল আলম ফরিদ
  • প্রকাশ সময়ঃ সোমবার, ৩০ মে, ২০২২
  • ৯৮ বার পড়া হয়েছে
ড. মতিন রহমান
চলচ্চিত্র পরিচালক, চলচ্চিত্রের শিক্ষক, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
জন্ম: ৩০ মে, ১৯৫২ ফেসবুকের তথ্যানুযায়ী, বাংলা উইকিপিডিয়া বলছে ১৮ মার্চ, ১৯৫২।
আজিজুর রহমানের সহকারী হিসেবে বাংলা চলচ্চিত্রে আগমন হলেও অচিরেই তিনি একজন সফল পরিচালক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেন। তার পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র লাল কাজল। ১৯৯৩ সালে অন্ধ বিশ্বাস চলচ্চিত্র পরিচালনা করে অর্জন করেন বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক প্রদত্ত জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের জীবন্ত কিংবদন্তি পরিচালক মতিন রহমান। এবার চলচ্চিত্র নিয়ে বিশেষ গবেষণার জন্য পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন এই নির্মাতা। যার মাধ্যমে এক যুগান্তকারী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন তিনি। কারণ বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের মধ্যে তিনিই প্রথম এই সম্মান অর্জন করেন। তার এই সাফল্যে দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনে এক অন্য রকম উচ্ছ্বাস বয়ে যাচ্ছে। বলা যায়, প্রায় সবাই মতিন রহমানকে তার এই সাফল্যের জন্য অভিনন্দিত করছেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল ‘বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে লোকজ উপাদানের প্রয়োগ কৌশল ও নন্দন ভাবনা’।
ঋত্বিক ঘটকের ‘তিতাস একটি নদীর নাম’, এ জে কারদারের ‘জাগো হুয়া সাভেরা’, জহির রায়হানের ‘বেহুলা’, সালাহউদ্দিনের ‘রূপবান’, আমজাদ হোসেনের ‘গোলাপী এখন ট্রেনে’ এবং হুমায়ুন আহমেদের ‘আগুনের পরশমনি’ এই ছয়টি সিনেমার নির্মাণে লোকজ উপাদানের প্রয়োগ কীভাবে হলো এবং তার নন্দন ভাবনা ছিল কিনা তা নিয়েই গবেষণা করেছেন মতিন রহমান। সিনেমাগুলোর গানে, সংলাপে, পোশাকে লোকজ উপাদানের প্রয়োগ বিশ্লেষণ করে মতিন রহমান প্রমাণ করেছেন, এসব সিনেমাতে নন্দন ভাবনা ছিল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের ড. আমিনুল ইসলাম দুর্জয়ের অধীনে মতিন রহমান এই গবেষণা করেন। তার পরীক্ষক হিসেবে ছিলেন ড. কাবেরী গায়েন ও ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ। নিজের এমন সাফল্যে বেশ উচ্ছ্বসিত মতিন রহমান।
তিনি বলেন, ‘সিনেমা নির্মাণের শুরু সময় থেকেই বই পড়ার প্রতি আমার ভীষণ আগ্রহ ছিল। আমার সবসময়ই মনে হতো যে সিনেমা নির্মাণ করতে হলে নিজেকে বেশি বেশি জানতে হবে। এর বিকল্প নেই। কারণ আমি মনে করি, সিনেমা হলো নানা শিক্ষার সংমিশ্রণ। ফলে সিনেমা নির্মাণ করতে গিয়ে আমার সবসময়ই আগ্রহ ছিল এর শেষ কোথায়, তা দেখার। সেই আগ্রহ থেকেই আমার অর্জিত বিষয়ের ওপর গবেষণার আগ্রহ জন্মায়। তবে এই গবেষণাটা একান্তই আমার নিজের জন্য, নিজের আনন্দের জন্য। কোনো রকম প্রচারণায় যাওয়ার ইচ্ছা আমার কখনোই ছিল না। তবে এটা সত্যি, চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে গবেষণায় নিজেকে সম্পৃক্ত করার মধ্যদিয়ে নিজেকেও নতুন করে আবিষ্কার করেছি। জানি এটি এভারেস্ট বিজয়ের মতো কোনো ঘটনা নয়, তবে আমার এই অর্জনে আমি তৃপ্ত।
মতিন রহমান দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে রাজধানীর স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটিতে শিক্ষকতা করছেন। বর্তমানে তিনি সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তিনি জানান, বর্তমানে ভাষা আন্দোলনের ওপর বিশদ পড়াশোনা করছেন। যদি তিনি সিনেমা নির্মাণের ওপর কোনো উপাদান পেয়ে যান, তবে এই বিষয়ের ওপর সিনেমা নির্মাণের আগ্রহআছে তার।
মতিন রহমান ১৯৫২ সালের ১৮ মার্চ বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার শান্তাহারে জন্মগ্রহণ করেন। সাত ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। শৈশব কাটে ও গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করেন শান্তাহারে।[৩] পরে ১৯৭৩ সালে ঢাকায় এসে আলমগীর কবির ফিল্ম ইন্সটিটিউটে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশুনা করেন। তিনি বাংলাদেশে সাংবাদিকতাসহ চলচ্চিত্র বিষয়ে মাস্টার্স ডিগ্রিপ্রাপ্ত প্রথম ছাত্র।
মতিন রহমান চলচ্চিত্রকার আজিজুর রহমানের সহকারী হিসেবে বাংলা চলচ্চিত্রে পদার্পণ করেন। আজিজুর রহমানের সহকারী হিসেবে তিনি অশিক্ষিত (১৯৭৮), মাটির ঘর (১৯৭৯), ছুটির ঘণ্টা (১৯৮০) এবং মহানগর (১৯৮১) চলচ্চিত্রে কাজ করেন।
১৯৮২ সালে নির্মিত লাল কাজল পরিচালক হিসেবে তার প্রথম চলচ্চিত্র।[৫] এরপর নির্মাণ করেন চিৎকার, স্বর্গ নরক, স্নেহের বাঁধন, জীবন ধারা। ১৯৮৯ সালে পরিচালনা করেন পাকিস্তানের ইকবাল কাশ্মীরীর একটি গল্প থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে সাংবাদিক ও চলচ্চিত্রকার আহমদ জামান চৌধুরীর লেখা কাহিনী নিয়ে রাঙা ভাবী এবং ময়মনসিংহ গীতিকার লোককাহিনী অবলম্বনে বীরাঙ্গনা সখিনা। ১৯৯২ সালে পরিচালনা করেন অন্ধ বিশ্বাস। এই ছায়াছবিতে তার যার সহকারী হিসেবে চলচ্চিত্রে আসা সেই আজিজুর রহমান তার সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেন। এই চলচ্চিত্র পরিচালনার জন্য তিনি শ্রেষ্ঠ পরিচালক বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। পরবর্তীতে তিনি নির্মাণ করেন সালমান শাহ ও শাবনূর জুটিকে নিয়ে তোমাকে চাই (১৯৯৬), মন মানে না, রিয়াজ, শাকিল খান ও শাবনূর অভিনীত বিয়ের ফুল (১৯৯৯) ও নারীর মন (২০০০), রিয়াজ, শাবনূর, ও ফেরদৌস আহমেদ অভিনীত এ মন চায় যে…! (২০০০), রিয়াজ ও শাবনূর অভিনীত মাটির ফুল (২০০৩) ও মহব্বত জিন্দাবাদ। ২০০৪ সালে রিয়াজ ও শ্রাবন্তিকে নিয়ে নির্মাণ করেন কমেডি ধাঁচের রং নাম্বার। ২০০৫ সালে নির্মাণ করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত গল্প অবলম্বনে রাক্ষুসী। এতে প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেন রোজিনা ও ফেরদৌস আহমেদ। ২০০৮ সালে পরিচালনা করেন তোমাকেই খুঁজছি।
চলচ্চিত্র পরিচালনার পাশাপাশি তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয়ও করেছেন। তিনি প্রথম আজিজুর রহমান পরিচালিত অতিথি চলচ্চিত্রে কাজী চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি তার নিজের পরিচালিত স্নেহের বাঁধন চলচ্চিত্রে শাবানার স্বামী চরিত্রে অভিনয় করেন। পরবর্তীতে তিনি নারীর মন ছায়াছবিতে শিক্ষক, বউ শাশুড়ীর যুদ্ধ ছায়াছবিতে ডাক্তার ও রাক্ষুসী ছায়াছবিতে পূর্ণিমার বাবার চরিত্রে অভিনয় করেন। এছাড়া তিনি দিলশাদুল হক শিমুল পরিচালিত লিডার চলচ্চিত্রে খল চরিত্রে অভিনয় করেন।
তিনি ২০০২ সাল থেকে ঢাকার বেসরকারী স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ-এ ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়া বিভাগে শিক্ষকতা করছেন। ২০১৩ সালে তিনি নন্দিত সাহিত্যিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত দুটি চলচ্চিত্র নিয়ে একটি বই প্রকাশ করেন। বইটির নাম “হুমায়ূন আহমেদ-এর শেষ ও প্রথম চলচ্চিত্র”।
মতিন রহমান নাসিম খানমের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের দুই মেয়ে নওশীন ও নওরীন এবং এক ছেলে মৃত্তিক রহমান। তারা ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করেন।

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From