গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ওয়াসিম। পেশায় একজন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবসায়ী। মাত্র কয়েক মাস আগেও যিনি নানান কাজে নিজের পায়ে ঘুরে বেড়াতেন আজ তার ঠোঁই হয়েছে হুইল চেয়ারে। দাবি করা চাঁদা দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তার স্থানীয় মাতৃসংগঠণের ছাত্র নেতা পরিচয়ধারীর নির্দেশে চালানো হামলায় আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তির পর এক পা কেটে ফেলেন চিকিৎসকরা।
বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন ক্র্যাব মিলিনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তোলেন গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ নম্বর ওয়ার্ডের কৃষক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোঃ ওয়াসিম ও তার পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পরিকল্পিতভাবে ওয়াসিমের উপর ধারালো অস্ত্র ও লোহার পাইপ এবং লাঠি সোটা নিয়ে হামলা চালায় একদল কিশোর তরুণ। যাদের মধ্যে ছিল নাজমুল, অপু, ইকবাল, ফরমান আসিফ, রনি, গোলাম রব্বানী, হামজা, কিং নাসির, হামীম ও ইমনসহ আরও আট-দশজন। পরবর্তীতে পরিবারটি জানতে পারে হামলার কারণ চাঁদা না দেয়া।
ভুক্তভোগিদের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে প্রধান হুকুমদাতা ছিলেন গজীপুর মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মোমিনুর রহমান। যদি ওই হামলার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে হামলাকারীদের বিচার দাবি করেন এস এম মোমিনুর রহমান। তবে অন্তরালে আমার উপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলা না নেয়ার নির্দেশনাও পুলিশকে প্রদান করেন তিনি। তার এ কাজে গাজীপুরের গাছা থানার সাবেক ওসি মহোদয় সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।
ভুক্তেভোগি ওয়াসিম জানান, আহত অবস্থায় হাসপাতালে পড়ে থাকা আমার হয়ে আমার পরিবার বারবার থানার দরজায় গিয়ে করা নেড়ে পায়নি পুলিশের কোন সহমর্মিতা। পরে ব্যর্থ হয়ে চলতি বছরের ০৮ এপ্রিল আদালতে মামলা দায়ের করার পরও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিচার পাচ্ছেন না তারা। তার দাবি, উল্টো প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ানো আসামীরা ওয়াসিমের পরিবারকে নানা হুমকি ধামকী দিচ্ছে।
ওয়াসিম সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আমি আপনাদের মাধ্যমে প্রশাসনকে বলতে চাই আমার ইটা বালু রডের ব্যবসা শান্তিপূর্ণভাবে চালাতে হলে বর্তমানে বড় অংকের টাকার বিনিময়ে গাছা থানা বিএনপির সভাপতি প্রার্থী মোমিনুরের অবৈধ আর্থিক সুবিধা দাবি অনুযায়ী করেন।
তার স্ত্রী মুন্নি আক্তার বলেন, আমার পরিবারে রয়েছেন বৃদ্ধ শাশুড়ি, শারীরিক প্রতিবন্ধী স্বামী স্ত্রী ও এক সন্তান। পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হিসেবে আমার অক্ষম হয়ে পড়া পুরো পরিবারকে আর্থিক ও মানসিক সংকটে ফেলেছে। প্রিয় কলম সৈনিকেরা, আমরা সরজমিনে গাছা থানায় এলাকায় গেলে জানবেন, এস এম মমিনুল রহমান গাজীপুর মহানগরের একসময়কার রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে এলাকায় চাঁদাবাজি, দখল ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
মুন্নি জানান, গাছা থানা এলাকা আবাসিক ও শিল্প কারখানা সমৃদ্ধ এলাকা হওয়ায় বিভিন্ন গ্রুপের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়েছে এস এম মমিনুর রহমানের নেতৃত্বে। যার কারণে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় প্রকাশ্যে কথা বলতে ভয় পান। কেউ এস এম মমিনুর এর বিরুদ্ধে কথা বললেই হয় হামলা নইলে মামলার শিকার হতে হয়।
তার দাবি, আমরা বারবার প্রশাসনের কাছে গিয়েছি, কিন্তু এখনো কার্যকর কোনো বিচার পাইনি। ঘটনার পর মামলা হলেও তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া প্রত্যাশিত গতিতে এগুতে বাধা দিচ্ছে মমিনুল গং। তাদের পেশী শক্তি আর অবৈধ অর্থের সামনে আমরা অসহায়। অসহায় গাছার শিল্প কারখানার মালিকসহ সাধারণ সব মানুষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন হলেও বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের দলীয় প্রভাব ও ভাবমূর্তি ব্যবহার করে অতীতের মত ব্যবহার করা হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। তাদের ফাঁদে পা দিচ্ছেন অসৎ পুলিশ সদস্যদের কেউ। যাতে করে আমার মত ভুক্তভোগীদের কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে পুরো পুলিশ বাহিনী। হতাশ হয়ে পড়ছি আমরা।
পরিবারটি গণমাধ্যমের সহায়তায় এই হামলার দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান পুলিশ প্রশাসন ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরপ্রতি।