মনির হোসেন (বেনাপোল প্রতিনিধি): ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে যশোরের রাজগঞ্জ এলাকার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
আজ শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে সাতটার দিকে ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা সূত্রে জানা যায়, সকালে ভাঙ্গা থেকে খুলনার দিকে যাচ্ছিল একটি ট্রাক। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি অ্যাম্বুলেন্সের সঙ্গে ট্রাকটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় অ্যাম্বুলেন্সটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হন এবং আরও দুইজন গুরুতর আহত হন।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ভাঙ্গা হাইওয়ে পুলিশ, স্থানীয় থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিহতরা হলেন রাজগঞ্জ চাকলা পাড়ার বাসিন্দা রহমত উল্লাহর পুত্র নিশান হোসেন (২৭), কন্যা নীলা আক্তার (৩৪) এবং তার জামাতা মিজানুর রহমান (৪০)। একই পরিবারের তিনজনের একসঙ্গে এমন আকস্মিক মৃত্যুর খবরে রাজগঞ্জ এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এলাকায় শোকাহত মানুষের ভিড় জমে ওঠে এবং স্বজনদের আহাজারিতে পুরো পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে।
ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কের মুনসরাবাদ এলাকায় ট্রাক ও অ্যাম্বুলেন্সের মুখোমুখি সংঘর্ষে যশোরের রাজগঞ্জ এলাকার একই পরিবারের তিনজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, নিহতরা পারিবারিক প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্সে করে যাত্রা করছিলেন। দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে রাজগঞ্জ এলাকায় শোক ও হতবাক অবস্থার সৃষ্টি হয়। অনেকেই এই দুর্ঘটনাকে অত্যন্ত হৃদয়বিদারক বলে মন্তব্য করেছেন।
দুর্ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ভাঙ্গা-খুলনা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়। ফলে মহাসড়কের দুই পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। তবে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন সরিয়ে নেওয়ায় পরে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানা পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।