• বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৪:৩৯ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সংবাদ শিরোনাম
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি আলোচনা কেন থমকে আছে, নেপথ্যে কী? মিথ্যা চাঁদাবাজি ও মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে পাংশায় সংবাদ সম্মেলন বাংলাদেশের সাবেক স্পিনার মোহাম্মদ রফিক: সম্ভাবনার আড়ালে চাপা পড়ে থাকা এক উইকেট শিকারীর গল্প অন্যায়কারী যদি আমার কাছের মানুষও হয় তবু্ও তাকে ছাড় দেওয়া হবে না: হারুণ অর রশিদ এমপি Visual organization and focus dynamics ধান-চালের সরকারি দাম নির্ধারণ করেছে সরকার রিহ্যাব নির্বাচন: আপিল উপেক্ষা করে ফলাফল ঘোষণায় বিতর্ক, নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অদক্ষতার অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন দফার আলোচনার কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে ইরান সংরক্ষিত নারী প্রার্থীদের চূড়ান্ত নাম ঘোষণা করল বিএনপি এনসিপিতে যোগ দিচ্ছেন ইসহাক সরকার !

‘পুতুল’ থেকে প্রধানমন্ত্রী খালেদা: ছোটবেলায় কেমন ছিলেন বেগম জিয়া

ফরিদুল আলম ফরিদ / ১৪৮ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

ছোটবেলায় হ্যাংলা-পাতলা ছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মাছ মোটেও খেতে চাইতেন না, পছন্দ করতেন মাংস। তরকারির মধ্যে আলু আর ঢেড়শ। গান গাইতেন, নাচেও জিতেছেন পুরস্কার। বাংলাদেশের ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বাল্যকালে কেমন ছিল চলুন জানা যাক।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষ বছর—১৯৪৫। বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ভয়াবহতা তখনও থামেনি পুরোপুরি। জাপানি বাহিনী মিয়ানমারের সীমানা ঘেঁষে চলে এসেছে। সুভাষচন্দ্র বসুর নেতৃত্বে আজাদ হিন্দ ফৌজ পৌঁছে গেছে আসামে। এমনই অস্থির এক সময় বাংলাদেশের উত্তরবঙ্গের ছায়াঘেরা শহর— দিনাজপুরে জন্ম নেন ভবিষ্যতের জাতীয় নেতা ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

তিনি আরও বলেছেন, “ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দীন আহমদের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ার পর ১৯৯১ সালের ১৯ মার্চ সংবাদমাধ্যমে খালেদা জিয়ার প্রকৃত জন্ম তারিখ ১৫ আগস্ট বলে প্রকাশিত হয়। সেই সময় জন্ম তারিখ নিয়ে প্রশ্ন ওঠেনি।”

শিশুটি ছিল অপার সুন্দর। যেন পুতুল! পরিবারের ডাক্তার অবনী গোস্বামী পরামর্শ দিয়েছিলেন নবজাতকের নাম রাখা হোক “শান্তি”। তিনি বলেছিলেন, যুদ্ধের এত ধ্বংসের মাঝে এই শিশুর জন্ম মানুষকে শান্তির বার্তা দিক।

কিন্তু পরিবারের কাছে সে ছিল অন্যরকম। মাহফুজ উল্লাহ লিখেছেন, ‘শিশুটি পুতুলের মতো কমনীয় ও সুন্দর হওয়ায় সবাই তাকে ‘পুতুল’ নামে ডাকতে পছন্দ করতেন। নামটি তার বড় বোন সালিমা আক্তার বিউটির দেওয়া।”

মাসিক ম্যাগাজিন ‘নিপুণ’-এর প্রধান সম্পাদক মোস্তাফা জব্বার খালেদা জিয়ার বাবা এস্কান্দার মজুমদার এবং মা তৈয়বা মজুমদারের সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। ‘নিপুণ’-এর ১৯৮৪ সালের মে সংখ্যায় সাক্ষাৎকারটি ছাপা হয়েছিলো। সাক্ষাৎকারে এস্কান্দার মজুমদার বলেছিলেন, “খালেদা ছিল সবার আদরের। দেখতে শুনতেও সবার চেয়ে ভালো ছিল। সেজন্য আমরা পুতুল বলেই ডাকতাম।”

এছাড়াও পরিবারে তার ছিল আরও একটি আদরের নাম—“টিপসি”। মাহফুজ উল্লাহ উল্লেখ করেছেন, “তার বড় বোন খুরশিদ জাহান চকলেট তাকে ‘টিপসি’ বলে ডাকতেন, যদিও পরে এ নামে কেউ আর তাকে ডাকতেন না।”

এভাবেই ‘শান্তি’, ‘পুতুল’ এবং ‘টিপসি’— এই তিন নামেই বেড়ে ওঠেন ভবিষ্যতের দেশনেত্রী। তবে তার বাবা-মা আনুষ্ঠানিকভাবে তার নাম রেখেছিলেন খালেদা খানম। পরে জিয়াউর রহমানের সঙ্গে বিয়ের পর এটি হয়ে ওঠে— বেগম খালেদা জিয়া।

শৈশবে খালেদা জিয়া ছিলেন প্রাণবন্ত, উচ্ছল, আর নিজের জগতে মগ্ন। মাহফুজ উল্লাহর বইতে পাওয়া যায়, তিনি ৫ বছর বয়সে তিনি ভর্তি হন সেন্ট জোসেফ কনভেন্ট স্কুলে।

 জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কিছু দূর্লভ ছবি

সেখানে গ্রেড ফোর পর্যন্ত পড়েন। ১৯৬০ সালে দিনাজপুর সরকারি স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন এবং সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হন। ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেন। পড়াশোনা, খেলাধুলা, নাচ— সব জায়গাতেই ছিল তার উজ্জ্বল উপস্থিতি।

মাহফুজ উল্লাহ লিখেছেন, ‘খালেদা সবসময় স্কুলের বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় পারদর্শিতা প্রদর্শন করতেন। আরবি শেখার জন্য বাসায় একজন গৃহশিক্ষকও ছিল। তার বাবা আশেপাশে কোথাও না থাকলে তিনি বোনদের সঙ্গে সিনেমা দেখতে যেতেন।

জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার কিছু দূর্লভ ছবি

খালেদার জিয়ার চুল অনেক লম্বা ছিল। ‘গোসল করার পর চুল শুকানো তার পক্ষে কঠিন হয়ে যেত। হেয়ার ড্রায়ার ছিল না। বাইরে কোথাও যেতে হলে মা তার চুল বেঁধে দিতেন।” লিখেছেন মাহফুজ উল্লাহ।

পুতুল ভালোবাসতেন ফুল। আর ভালোবাসতেন শিল্পচর্চা—বিশেষ করে নাচ। মাহফুজ উল্লাহর ভাষায়, পুতুল তার চাচাতো বোন নার্গিসের সঙ্গে স্কুলে নাচ শিখতেন। দিনাজপুরের বাইরেও অনেক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতেন। তার মা নাচ শেখার জন্য গৃহশিক্ষকও নিয়োগ করেছিলেন।

তার বোনদের সঙ্গে সম্পর্কও ছিল গভীর। ‘বিউটির সঙ্গে ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একই বিছানায় ঘুমাতেন। তিন বোনের মধ্যে পুতুলই ছিলেন সেরা রাঁধুনি।’

চকলেট ছিল তার খুব প্রিয় এবং আজীবন তিনি ভালো মানের চকলেটের অনুরাগী ছিলেন।

তার মা তৈয়বা মজুমদার স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলা থেকেই হালকা-পাতলা ছিলো খালেদা। মাছ একেবারেই খেত না। মাংস ছিলো খুব প্রিয়… ভালো খাবারদাবারের প্রতি ঝোক ছিলো।

এছাড়াও তিনি যোগ করেছিলেন, ‘তরকারির মধ্যে আলু আর ঢেড়শ বেশি পছন্দ করতেন। খুব গোছানো ও পরিষ্কার থাকতে ভালোবাসতো। নিজ হাতে ঘর গোছাতো। ছোট দুই ভাইকেও নাওয়া-খাওয়া করাতো।’

আরও বলেন, ‘অন্যের কাজ পছন্দ হতো না… বায়না ধরত না… অপচয় পছন্দ করতো না। তবে পড়াশুনায় ভালো ছিল। নাচ শিখেছে ওস্তাদের কাছে। অনেক ফাংশনে নেচে পুরস্কার পেয়েছে।’

সূত্রঃ ইত্তেফাক অনলাইন থেকে সংগৃহীত।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
April 2026
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
April 2026
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031