• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৩৮ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]

ডাকসু নির্বাচনে জামায়াতের গুটি হিসেবে কাজ করেছে এনসিপি: তুহিন খান

রাকিন আবসার অর্ণব / ৭২ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : সোমবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২৫

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) কার্যত জামায়াতে ইসলামীর “পন” হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে এনসিপি থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব তুহিন খান।

বুধবার মধ্যরাতে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তুহিন খান জানান, ২০২৫ সালের ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের পরপরই তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। পোস্টের সঙ্গে তিনি তার স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক পদত্যাগপত্রের কপি প্রকাশ করেন, যার তারিখ ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫।

পদত্যাগপত্রে তুহিন খান উল্লেখ করেন, এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ও সাংগঠনিক কাঠামো তার রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে আর সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তিনি লেখেন, দলটি ক্রমে একটি ত্রুটিপূর্ণ ও ভঙ্গুর পথে এগোচ্ছে, যা শেষ পর্যন্ত এর রাজনৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতা ও প্রাসঙ্গিকতা হারানোর ঝুঁকি তৈরি করছে।

ডাকসু নির্বাচনের পর দলের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করে তুহিন খান বলেন, নির্বাচনের ফলাফল ও ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে তিনি এই সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, এনসিপি অদূর ভবিষ্যতে জামায়াতের সঙ্গে জোটে যেতে পারে, কিংবা ইতোমধ্যেই সেই রাজনৈতিক বাস্তবতায় প্রবেশ করেছে। তার ভাষায়, এনসিপি যদি বিএনপির মতো অবস্থানে থেকে জামায়াতের সঙ্গে জোট করত, সেটি আপত্তিকর হতো না। কিন্তু বাস্তবে এনসিপি জামায়াতের সঙ্গে “লোয়ার হ্যান্ডে” থেকে সম্পর্ক গড়ে তুলছে, যা দলটিকে স্বাধীন রাজনৈতিক শক্তির বদলে অন্যের রাজনীতির সহায়ক শক্তিতে পরিণত করছে।

পদত্যাগপত্রে তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, দলটি নিজস্ব সংগঠন ও আদর্শিক ভিত্তি গড়ে তোলার বদলে স্বল্পমেয়াদি জোট ও লজিস্টিক নির্ভরতার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছে। এর ফলে এনসিপি ও এর ছাত্র সংগঠন বারবার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ব্যর্থ হচ্ছে এবং অন্যের রাজনৈতিক খেলায় পনের ভূমিকা নিচ্ছে।
ডাকসু নির্বাচনে এনসিপি-সমর্থিত ছাত্র সংগঠনের ভরাডুবির জন্য মুক্তিযুদ্ধ প্রশ্নে জামায়াত-শিবির বিরোধিতাকে দায়ী করার প্রচেষ্টাকেও তিনি নাকচ করেন। তার মতে, প্রকৃত কারণ ছিল পার্টির পক্ষ থেকে সুস্পষ্ট রাজনৈতিক দিকনির্দেশনার অভাব, ক্যাম্পাসে সংগঠন গড়ে তুলতে ব্যর্থতা, কার্যকর ভোটজোট তৈরি করতে না পারা এবং নির্বাচনের সময় কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ড।

এর আগে বিভিন্ন টিভি টকশোতে তুহিন খান মন্তব্য করেছিলেন, ২০১৯ সালের ডাকসু ছিল ‘ফানি ডাকসু’ এবং পরবর্তী নির্বাচন ছিল ‘ডামি ডাকসু’। তার মতে, জামায়াত-শিবির এখন আর মজলুম অবস্থানে নেই; বরং প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে তাদের প্রভাব রয়েছে এবং তারা কার্যত ক্ষমতার অংশীদার।

পদত্যাগপত্রে তুহিন খান আরও লেখেন, দলটির অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, স্পষ্ট রাজনৈতিক আদর্শ ও কৌশল নির্ধারণ, শক্তিশালী সাংগঠনিক চেইন অব কমান্ড এবং ব্যক্তিনির্ভর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে না এলে এনসিপি একটি ফাঁপা রাজনৈতিক কাঠামোয় পরিণত হবে।

তিনি জানান, পদত্যাগের পর দীর্ঘদিন তিনি বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেননি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এনসিপির একাধিক নেতাকর্মীর পদত্যাগের প্রেক্ষাপটে তিনি নিজের পদত্যাগপত্র প্রকাশ্যে আনতে বাধ্য হন। পোস্টের শেষাংশে তিনি এনসিপির নেতাকর্মীদের মঙ্গল কামনা করলেও বলেন, বর্তমান কাঠামোর বাইরে থেকেই তিনি মানুষের জন্য রাজনীতি করার পথ খুঁজবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
April 2026
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
April 2026
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031