সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী: ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ লাভের শুনানিতে মার্কিন সিনেট-কে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন দৃঢ়তার সাথে বলেন তিনি বাংলাদেশকে চীনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া ঠেকিয়ে দেয়াকে প্রাধান্য দেবেন। তখন বাংলাদেশে ইউনুস ক্ষমতায়। ক্রিস্টেনসন এবং মার্কিন গোয়েন্দারা নিশ্চিত ছিলো নির্বাচনে জামাতে ইসলামী বিপুল বিজয় পাবে। আর এমনটা হলে ওয়াশিংটন যা বলতো এটাই তামিল করতো জামাত। কিন্তু বিধি বাম। বাংলাদেশের মানুষ জামাতের ক্ষমতায় আরোহণের ক্ষীন সম্ভাবনাটা ঠেকিয়ে দেয় বিএনপিকে ভোট দিয়ে।
আজ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীন যাচ্ছেন। বিপুল সম্ভাবনা নিয়ে। বেইজিংয়ের সাথে ঢাকার একাধিক চুক্তি হবে – এমনটাই ভাবছে চীন। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ঐতিহাসিক গ্রেট হলে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করবেন বলে জানা গেছে। এক্ষেত্রে রাশিয়াও মনেপ্রাণে চায়, বাংলাদেশের সাথে চীনের গভীর সম্পর্ক স্থাপিত হোক। যাতে এদেশে মার্কিন দাদাগিরির অবসান ঘটে।
ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে ঢাকাস্থ ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত সারা কুক-ও জামাতের পক্ষে প্রচণ্ড দৌড়ঝাঁপ করেছেন। তাঁর খায়েশও মুখ থুবড়ে পড়েছে বাংলাদেশীদের ব্যালটের কাছে।
আমি নিশ্চিত, গতরাতে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন-এর ঘুম হয়নি একদম। কারণ, প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর যদি সফল হয়ে যায় তাহলে তার চাকরিটাই নড়বড়ে হয়ে যাবে। মার্কিন নীতিনির্ধারকরা ক্রিস্টেনসন-এর দিকে অভিযোগের আঙ্গুল তুলবেন। অন্যদিকে মাথা গরম ট্রাম্প যে কি করবেন – বলা মুশকিল। দিল্লিতে বসে থাকা ট্রাম্পের বন্ধু ও ব্যবসায়িক পার্টনার সার্জিও গোর আছেন আরো বিপদে। কারণ, বিএনপি সরকার তাদের কব্জা থেকে বের হয়ে গেলে এই অঞ্চলে আমেরিকার প্রভাব ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হবে।
ইরানে ট্রাম্প মার খেয়েছেন। এতে সন্দেহ নেই। ট্রাম্প চেয়েছিলেন ইরানে রেজিম চেঞ্জ ঘটাতে। সেদেশের জনগণকে প্রকাশ্যে উস্কানিও দিয়েছেন। কিন্তু ট্রাম্প জানতেন না, ইরানের জনগণ বাংলাদেশি কিংবা নেপালিদের মতো গাধা নয়। ওরা নিজেদের দেশটাকে মার্কিন কিংবা পশ্চিমা কলোনি হতে দেবেনা কিছুতেই। ইরানে ট্রাম্পের পরাজয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোও এবার নড়েচড়ে বসবে। এতোকাল ওরা ভাবতো আমেরিকাই তাদের রক্ষাকর্তা। কিন্তু এবার ওরা বুঝে গেছে – আমেরিকার শক্তির দৌড় কদ্দুর।
বাংলাদেশও সম্ভবত এটা বুঝতে শুরু করেছে। একারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দিকেই ঝুঁকলেন। ঠিক যেমন তাঁর মা লুক ইষ্ট পলিসি-কে প্রাধান্য দেন। লুক ইষ্ট মানেই হলো পশ্চিমাদের হলুদ চোখ অবজ্ঞা করা।
সবচেয়ে বড় কথা হলো, বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার মতো অঢেল টাকা আছে চীনের – যা আমেরিকার নেই। আমেরিকা এখন একটা দেনাগ্রস্থ দেশ, যারা টিকেই আছে কাগজে ডলার ছেপে। ওদের জাতীয় দেনার পরিমাণ ত্রিশ ট্রিলিয়ন ডলারের ঊর্ধ্বে। অর্থাৎ, এই দেনা কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব। এদিকে চীন ও রাশিয়ার নেতৃত্বে ব্রিকস দেশগুলো ডলার নিয়ন্ত্রিত অর্থনীতি থেকে এরই মাঝে বের হয়ে যেতে শুরু করেছে। এই দলে ভারতও আছে।
ইরানের কাছে মার খাওয়ার পর খুব সম্ভবত আমেরিকা এবার ইউক্রেইনে তাদের দখলদারি চেষ্টায় শেষবারের মতো শক্তি প্রয়োগ করে দেখবে। যদি ব্যর্থ হয় – তাহলে ইউক্রেইন থেকেও আমেরিকা ও তাদের ন্যাটো মিত্রদের বিদায় ঘণ্টা বেজে উঠবে।
বাংলাদেশ চীন মুখী হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একদম সরাসরি আমেরিকার হলুদ চোখ অবজ্ঞা করেই চীনে যাচ্ছেন। অসহায়ের মতো তাঁকিয়ে দেখবেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসন। রাগে ফুসবে মার্কিনিরা।