হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলা নানা অনিয়ম সাম্প্রতিক সময়ে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। যাত্রী হয়রানি, অতিরিক্ত লাগেজের নামে অর্থ আদায়, দালালচক্রের দৌরাত্ম্যসহ অভিযোগগুলো কয়েক দিনের মধ্যেই অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছেন দেশি ও বিদেশি যাত্রীরা। এ পরিবর্তনের পেছনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নওশাদ খানের তৎপরতাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিমানবন্দর সূত্র জানায়, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকেই নওশাদ খান নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। যাত্রী টার্মিনালের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে দ্রুত উপস্থিত হয়ে অভিযোগের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন তিনি। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে জরিমানা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ায় বিমানবন্দরের ভেতরে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে অনিয়মকারীদের মধ্যে।
সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নওশাদ খানের অভিযানসংক্রান্ত ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও আলোচনার সৃষ্টি হয়। সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরা যাত্রী এরফান আইডিএনকে বলেন, আমি সৌদি আরব থাকতেই ফেসবুকে তাঁর ভিডিও দেখেছি। তখনই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, যদি কখনো বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে দেখা হয়, কৃতজ্ঞতা জানাব।
এরফান আইডিএনকে আরও বলেন, আমি বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ২২ হাজার টাকা দামের একটি ঘড়ি কিনেছিলাম তাঁকে উপহার দেওয়ার জন্য। ভাগ্যক্রমে বিমানবন্দরে তাঁর সঙ্গে দেখাও হয়। আমি উপহার দিতে চাইলে তিনি বিরক্ত হয়ে বলেন, এতে তাঁকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হবে, তাই অনুগ্রহ করে চলে যেতে বলেন। তাঁর এই দায়িত্বশীল আচরণে আমি খুবই খুশি হয়েছি।
বিমানবন্দরের যাত্রীরা বলছেন, সাম্প্রতিক এই পরিবর্তনের ফলে যাত্রীদের ভোগান্তি কমেছে এবং সেবার মান কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে তারা মনে করেন, এই ধারা বজায় রাখতে হলে নিয়মিত তদারকি ও কঠোর অবস্থান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা ফেরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। যাত্রীদের আস্থা ফেরাতে এ ধরনের কার্যক্রম নিয়মিত হওয়া দরকার।