• শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২৬ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
সংবাদ শিরোনাম
এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা সরকারের ২ মাস পূর্তিতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন আজ ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক এখন খুবই ভালো: ডোনাল্ড ট্রাম্প মরণোত্তর স্বাধীনতা পুরস্কার পেলেন খালেদা জিয়া, গ্রহণ করলেন নাতনী জাইমা রহমান বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর আ.লীগ সরকারের হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: সংসদে আইনমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্রবন্দরের সংযোগ সড়ক: লাভ করবে ঠিকাদার, খরচ বহন করবে সরকার রাজবাড়ীতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে সহস্রাধিক এয়ার ফ্লো মেশিন স্থাপনের পরিকল্পনা লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ বাংলাদেশ ও নিউজিল্যান্ডের মধ্যকার ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে আশাবাদী মোহাম্মদ রফিক

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংগ্রাম ও ত্যাগের মহাকাব্য

শুভ্র আজাদ / ৯২ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
সংগ্রাম ও ত্যাগের মহাকাব্য
বাংলাদেশের রাজনীতিতে কিছু নাম আছে, যেগুলো কেবল ব্যক্তি নয়—একটি যুগ, একটি আদর্শ, একটি সংগ্রামের প্রতিচ্ছবি।

সেই নামগুলোর অন্যতম, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।
তিনি শুধু বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নন—
তিনি একজন স্ত্রী, যিনি স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হারিয়েছেন;
তিনি একজন মা, যিনি সন্তানদের নিয়ে স্বৈরাচার, ষড়যন্ত্র আর নির্যাতনের মুখে অবিচল থেকেছেন;
তিনি একজন নেত্রী, যিনি ক্ষমতার চেয়েও গণতন্ত্রকে বড় করে দেখেছেন।

১৯৭১: নীরব ত্যাগের শুরু
মুক্তিযুদ্ধের সময় বেগম খালেদা জিয়া সরাসরি রাজনীতিতে ছিলেন না,
কিন্তু তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধার সহধর্মিণী—
যার স্বামী তখন জীবন বাজি রেখে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন, যুদ্ধ পরিচালনা করেছেন।
এই সময় তাঁর জীবন ছিল অনিশ্চয়তায় ভরা—
একজন স্ত্রী হিসেবে ভয়, একজন মা হিসেবে শঙ্কা, একজন দেশপ্রেমিক নারীর নীরব ত্যাগ—
এই নীরব ত্যাগই তাঁকে ভবিষ্যতের কঠিন পথের জন্য প্রস্তুত করেছিল।

১৯৮১: রক্তাক্ত ট্র্যাজেডি ও নেতৃত্বের সূচনা
১৯৮১ সালের ৩০ মে—
বাংলাদেশ ইতিহাসের এক ভয়াবহ অধ্যায়।
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শহীদ হলেন।
এক মুহূর্তে তিনি হারালেন স্বামীকে, সন্তানরা হারাল বাবাকে, দেশ হারাল এক মহান দেশপ্রেমিককে।
সেই শোক তাঁকে ভেঙে দিতে পারত।
কিন্তু ইতিহাস সাক্ষী—
তিনি ভেঙে পড়েননি।
বরং শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে তিনি রাজনীতির কঠিন ময়দানে পা রাখেন।

১৯৯০: স্বৈরাচার পতনের আপোষহীন নেত্রী
এরশাদবিরোধী আন্দোলনে
বেগম খালেদা জিয়া হয়ে ওঠেন ৯০–এর গণঅভ্যুত্থানের অগ্নিকণ্ঠ।
হুমকি, গ্রেপ্তার, নির্যাতন—কিছুই তাঁকে দমাতে পারেনি।
তিনি আপোষ করেননি, মাথা নত করেননি।
তার নেতৃত্বেই পতন ঘটে স্বৈরাচারের।
গণতন্ত্র ফিরে পায় তার শ্বাস।

১৯৯১: প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী
১৯৯১ সালে তিনি হলেন
বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী।
পুরুষশাসিত রাজনীতিতে একজন নারীর নেতৃত্ব—এটি ছিল এক বিপ্লব।
সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা,
বাকস্বাধীনতা,
গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—
এই সবই তাঁর সরকারের বড় অর্জন।

১৯৯৬ ও ২০০১: ক্ষমতা নয়, জনগণই মুখ্য
ক্ষমতা তাঁর কাছে চিরস্থায়ী ছিল না।
১৯৯৬ সালে তিনি শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন—
বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
২০০১ সালে আবার জনগণের রায়ে প্রধানমন্ত্রী।
দারিদ্র্য হ্রাস, অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষায় অগ্রগতি—
এই সময়কাল ছিল তাঁর শাসনের শক্তিশালী অধ্যায়।
২০০৬–২০০৮: ওয়ান–ইলেভেন ও কারাবরণ
এই সময় তিনি দেখেছেন
রাষ্ট্রযন্ত্রের নির্মমতা।

গ্রেপ্তার, মামলা, মানসিক নির্যাতন—
কিন্তু মাথা নত করেননি।
কারাগারের অন্ধকার কক্ষেও
তিনি ছিলেন গণতন্ত্রের প্রতীক।
২০০৮–২০২৪: মামলা, কারাগার ও অসুস্থতার মধ্যেও লড়াই
এই দীর্ঘ সময়ে
তাঁর ওপর নেমে আসে একের পর এক মামলা।
কারাবরণ, গুরুতর অসুস্থতা, চিকিৎসা সংকট—
সবকিছুর মাঝেও তিনি রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু।
তিনি কথা বলতে না পারলেও
তাঁর নীরবতা কথা বলেছে।

তিনি রাস্তায় নামতে না পারলেও
তাঁর নামেই মানুষ আন্দোলনে নেমেছে।
একজন মা, একজন আদর্শ
দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া
আমাদের কাছে কেবল একজন রাজনৈতিক নেত্রী নন—
তিনি আদর্শিক মা।

যিনি শিখিয়েছেন—
ক্ষমতার চেয়ে আত্মমর্যাদা বড়,
জীবনের চেয়ে আদর্শ বড়,
আর আপোষ নয়—সংগ্রামই শেষ কথা।

উপসংহার
ইতিহাস একদিন লিখবে—
এই দেশে অনেক শাসক এসেছেন,
কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মতো সংগ্রামী নারী খুব কমই এসেছে।
তিনি ছিলেন, আছেন, থাকবেন—
বাংলাদেশের গণতন্ত্রের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে।
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরোও খবর
April 2026
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031  
April 2026
S M T W T F S
 12345
6789101112
13141516171819
20212223242526
2728293031