ইসলামে সপ্তাহের সাত দিনের মধ্যে শুক্রবারকে দেওয়া হয়েছে বিশেষ মর্যাদা। হাদিসে এসেছে “জুমা দিনই হলো সাপ্তাহিক ঈদ।” এ দিনটি ছুটি কাটানোর দিন মনে করে ঘুমিয়ে থাকার দিন না, শুক্রবার আত্মশুদ্ধি ও সামাজিক বন্ধনকে দৃঢ় করার দিন।
প্রথমেই রয়েছে গোসল ও পরিচ্ছন্নতা। জুমার নামাজের আগে গোসল করা, পরিষ্কার পোশাক পরা এবং সুগন্ধি ব্যবহার করা সুন্নত। এটি একজন মুসলমানকে দেহ-মন উভয় দিক থেকেই সতেজ করে তোলে এবং মুসলিম সমাজকে করে সুন্দর ও সুশৃঙ্খল।
দ্বিতীয় করণীয় হলো জুমার নামাজে অংশগ্রহণ। এ নামাজ মসজিদে জামাতে আদায় করা ফরজ। আগেভাগে মসজিদে যাওয়া বেশি সওয়াবের কারণ। খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা ফরজের অন্তর্ভুক্ত, তাই এ সময়ে কোনো কথা বলা বা অমনোযোগী থাকা গুরুতর গোনাহ।
তৃতীয়ত, কোরআন তিলাওয়াতের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে সূরা কাহফ পাঠ করলে আল্লাহ তায়ালা বান্দাকে এক সপ্তাহের জন্য নূর ও সুরক্ষা দান করেন।
চতুর্থত, জুমার দিনে বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ। নবী করিম (সা.)-এর ওপর দরুদ পাঠ করলে তাঁর সুপারিশ পাওয়ার আশা জাগে।
এ ছাড়া শুক্রবারে একটি বিশেষ সময় রয়েছে, যখন বান্দার দোয়া কবুল হয়। অনেক আলেমের মতে, আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত এ সময় দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই দোয়া ও ইস্তেগফারে সময় কাটানো উচিত।
আরেকটি উত্তম কাজ হলো কবর জিয়ারত। সাহাবা-তাবেয়িনরা শুক্রবারে কবর জিয়ারত করে মাগফিরাতের দোয়া করতেন।
শুক্রবার শুধুই বিশ্রাম বা বিনোদনের দিন মনে করা প্রকৃত মুমিনের কাজ না, এই পবিত্র দিন আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও সমাজে ভ্রাতৃত্ব গড়ে তোলার দিন। আসুন, আমরা সবাই পবিত্র শুক্রবারকে যথাযথ মর্যাদায় পালন করি এবং নেক আমলের মাধ্যমে আমাদের জীবনকে আলোকিত করি।
মুফতী মাহদী হাসান কাসেমী
নায়েবে মোহতামিম
মাদরাসাতু ইবনি আব্বাস রা: দক্ষিণ খান ঢাকা
সিনিয়র শিক্ষক – ইন্টারন্যাশনাল এরাবিক লার্নিং সেন্টার, উত্তরা।