ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি: ফরিদপুরের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নে মো. পান্নু ফকির ওরফে জামু (৫৮) নামে জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক এক নেতাকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। গত ২৪ জুন বুধবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে যদুনন্দী মৌজার জগন্নাথী কারিকরপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত পান্নু ফকিরের বাড়ি সালথা থানার কুমারকান্দা গ্রামে। স্থানীয়দের দাবি, জমিজমা সংক্রান্ত একটি সালিশ বৈঠক শেষে বাড়ি ফেরার পথে একদল দুর্বৃত্ত তার ওপর হামলা চালায়। পরে তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় ফেলে রেখে যায় হামলাকারীরা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, জগন্নাথী কারিকরপাড়ার জনৈক হবু গাজীর ভিটার প্রায় ২০০ গজ উত্তরে শাহীন ও জনৈক ইব্রাহিমের পাটক্ষেত এলাকায় পান্নু ফকিরের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা চাইনিজ কুড়াল, রামদা, লোহার হাতুড়ি, বাঁশের লাঠি ও লোহার রডসহ বিভিন্ন অস্ত্র ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরদিন ২৫ জুন বৃহস্পতিবার সকালে যদুনন্দী মৌজার একটি গ্রামীণ সড়ক এলাকা থেকে পুলিশ পান্নু ফকিরের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. রুমান ফকির (২০) বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি ১৮৯৮-এর ১৫৪ ধারার বিধান অনুযায়ী দায়ের করা মামলাটির নম্বর ২১; তারিখ ২৬ জুন ২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার এজাহারে সরাসরি হত্যার অভিযোগে ১৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন—আঃ রব মোল্যা (৫৮), সিদ্দিক মাতুব্বর (৫৬), রুহুল মাতুব্বর (৪৫), মাসুদ মোল্যা (৩৮), শামীম মোল্যা (৩৫), আলামিন ফকির (৩৫), সোহরাব ফকির (৩৮), নাহিদ মাতুব্বর (৩০), এনামুল মাতুব্বর (৪০), হাচান মাতুব্বর (৩৬), মাসুদ মাতুব্বর (৩৩), অহিদ মোল্যা (৩৮), নাজিরুল মোল্যা (৪২) ও কবির মোল্যা। এছাড়া মামলায় আরও ৮ থেকে ১০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে ওই সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সালিশ শেষে বাড়ি ফেরার সময় পান্নু ফকির হামলার শিকার হন বলে তাদের দাবি। তবে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়।
স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম না প্রকাশ করার সূত্রে জানান, ঘটনার দিন সকালে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল বাক বিতন্ডা ও হাতা হাতি হয়। এলাকার মানুষ মিমাংসার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে সালথা থানার ওসি বিকাল নাগাদ সবাইকে থানায় ডাকেন। রাত ১০ টার দিকে অন্যদের সাথে নিহত মোঃ পান্নু ফকির ওরফে জমুকেও থানা থেকে ছেড়ে দেন। থানা থেকে বাড়ি ফেরার পথে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের পর এলাকায় উত্তেজনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।
এদিকে, মামলার তদন্তের অগ্রগতি, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানা গেলে তা প্রতিবেদনে আরও সংযোজন করা যাবে।