• রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৪ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
ফ্যাশনের নান্দনিকতায় মডেল জারা মনি আদি বুড়িগঙ্গা চ্যানেলে প্লাস্টিক বর্জ্য ও অবৈধ দখলের অভিযোগ, ইসলামবাগ-কামরাঙ্গীরচর এলাকায় অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি ট্রাম্পের ভাইরাল স্যুট কি ‘মেড ইন বাংলাদেশ’? বলিউডের শক্তিশালী অভিনেতা নানা পাটেকর মারা গেছেন আজ প্লাবনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এক গোল ও দুই অ্যাসিস্টে বিদায়ী ম্যাচে চিরচেনা লিয়নেল মেসি শিশুদের বিকাশের সুযোগ দিলে দেশের ভিত্তি মজবুত হবে : প্রধানমন্ত্রী রাইস ট্রান্সপ্লান্টার প্রযুক্তির মাধ্যমে ধান চাষাবাদ” শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস তারকা জুটি প্রীতম-শেহতাজ বিচ্ছেদের মাধ্যমে সম্পর্কের ইতি টানলেন চমক নিয়ে ঈদে আসছে আরশাদ-ইকবালের ‘নসিব’

কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত কুতুব শাহ মসজিদ

মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম / ২১৯ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই, ২০২৬

রাকিবুল ইসলাম খান: কিশোরগঞ্জ জেলার অষ্টগ্রাম উপজেলায় অবস্থিত কুতুব শাহ মসজিদ (বা কুতুব মসজিদ) বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের প্রাচীনতম মুসলিম স্থাপত্যগুলোর একটি। এটি মূলত ১৬শ শতকের শেষভাগে সুলতানি আমলের স্থাপত্যরীতির আদলে নির্মিত একটি ঐতিহাসিক মসজিদ।

কুতুব মসজিদের ইতিহাস

​নামকরণ ও প্রতিষ্ঠা: স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, হযরত শাহ জালাল (র.)-এর সঙ্গী আউলিয়াদের একজন, প্রখ্যাত দরবেশ হযরত কুতুব শাহ (র.) এই এলাকায় ইসলাম প্রচারের উদ্দেশ্যে এসেছিলেন। তাঁর নামানুসারেই এই মসজিদটির নামকরণ করা হয়। মসজিদের প্রাঙ্গণেই তাঁর সমাধি (মাজার) রয়েছে।

​নির্মাণকাল: মসজিদের গায়ে কোনো স্পষ্ট শিলালিপি না থাকায় এর সঠিক নির্মাণসাল নির্ধারণ করা যায়নি। তবে প্রত্নতত্ত্ববিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতে (যেমন অধ্যাপক আহমদ হাসান দানি), এটি ১৬শ শতকের শেষভাগে (প্রায় ১৫৭৬–১৫৮৬ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী সময়ে) সুলতানি শাসনের শেষ ও মোগল আমলের সূচনালগ্নে নির্মিত হয়।

​সংরক্ষিত পুরাকীর্তি: ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ আমলে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর একে সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে ঘোষণা করে।

​স্থাপত্যশৈলী ও প্রধান বৈশিষ্ট্য

​গম্বুজ ও মিনার: আয়তাকার এই মসজিদে মোট ৫টি গম্বুজ রয়েছে মাঝখানের গম্বুজটি আকারে কিছুটা বড় এবং বাকি চারটি অপেক্ষাকৃত ছোট। মসজিদের চার কোণে ৪টি অষ্টভুজাকৃতির বুরুজ বা মিনার রয়েছে, যেগুলোতে রিং বা স্ফীত বলয়ের কাজ করা।

​প্রবেশপথ ও মিহরাব: মসজিদের পূর্ব দিকে ৩টি এবং উত্তর ও দক্ষিণে ১টি করে মোট ৫টি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে। পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে ৩টি সুসজ্জিত মিহরাব।

​কার্নিশ ও অলঙ্করণ: সুলতানি আমলের চিরাচরিত রীতি অনুযায়ী মসজিদের ছাদের কার্নিশগুলো বাঁকানো (curved cornices)। বাইরের দেয়ালে টেরাকোটা বা পোড়ামাটির নকশা ও চমৎকার প্যানেলিংয়ের কাজ রয়েছে, যা শেরপুরের খেরুয়া মসজিদের নকশার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।

​হাওর পরিবেষ্টিত অষ্টগ্রামের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই ঐতিহ্যবাহী মসজিদটি চার শতাধিক বছর ধরে বাংলায় সুলতানি ও মোগল স্থাপত্যের এক নীরব সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

লিখক :- মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম
সম্পাদক/ প্রকাশক :- লিটল ম্যাগাজিন “চট্টলানামা”
সাধারণ সম্পাদক :- বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা