সারাদেশে আল কায়েদা, আইসিস এবং হামাসের পতাকা সংক্রামক ব্যাধির মতো বিস্তার লাভ করার অন্তত পাঁচদিন আগেই নবনীতা চৌধুরীর সাথে কথোপকথনে আমিই প্রথম বলেছিলাম – একজন বিতর্কিত উগ্রবাদী নেতা এসব কাজের আহ্বান জানাচ্ছেন। দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো আমার কথা আমলে নেয়নি। এখন শুধু ওই আন্তর্জাতিক সন্ত্রা/সী সংগঠনগুলোর পতাকাই ওড়ানো হচ্ছেনা, রীতিমত অ/স্ত্র উঁচিয়ে ছবি তুলে ওসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। এমনকি শিশুদের দিয়েও এসব করানো হচ্ছে। এগুলো কিন্তু ভালো লক্ষণ নয়!
কয়েকদিন আগে আমি নবনীতা চৌধুরীর সাথে অন্য আরেকটা কথোপকথনে বললাম – দেশে যেহেতু হামাস চলে এসেছে তাই এরা নিজেদের উপস্থিতি জানান দিতে বড় ধরনের নাশকতা ঘটাবে। এজন্যে সরকারকে সাবধান হতে হবে।
আমার কথাটা প্রচারিত হতেই হামলে পড়লো জামাত, জঙ্গি – এমনকি বিএনপি! বিএনপির লোকেরা তো একধাপ এগিয়ে গিয়ে আমাকে গ্রেফতারের দাবিও জানাতে শুরু করলো। তাহলে এথেকে কি বার্তা পেলো সবাই? বাংলাদেশে জ/ঙ্গিবাদের পুনরুত্থান, যা ইউনুস জমানা থেকে ঘটেছে, এটার বিস্তার লাভ হোক এটাই কি বিএনপি চায়? জামাতের উদ্দেশ্য অবশ্য আমরা সবাই জানি। সন্ত্রা/সী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের ভেতর থেকে জন্মানো জামাত বিশ্বের বহু দেশেই কালো তালিকাভুক্ত কিংবা নিষিদ্ধ। কিন্তু বিএনপিও কেনো সন্ত্রা/সী সংগঠনগুলোর কিংবা এসবের নাটের গুরুদের পক্ষ নিচ্ছে? রহস্যটা কি?
২০০৩ সালে আমি লিখেছিলাম- বাংলাদেশের মাদ্রাসায় জঙ্গি উত্থান ঘটছে। এই কারণে বিএনপি-জামাত জোট সরকার আমার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মিথ্যে মামলা দায়ের করে। আমাকে কারাগারে আটকে রাখে মাসের পর মাস। ওই সময়ে আমার আম্মা মারা গেলে বিএনপি-জামাত আমাকে প্যারোলের আদেশ হওয়ার পরও মায়ের জানাজায় অংশ নিতে দেয়নি। কারণ? বিএনপি চায়নি আমাকে প্যারোলে মুক্তি দিতে জঙ্গিদের অখুশি করতে।
এরপর ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি ওই মামলাতেই আওয়ামীলীগ সরকার আমাকে সার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়ায় মেজর জেনারেল তারেক আহমেদ সিদ্দিকী অপকর্ম আর দুর্নীতির তথ্য প্রকাশের অভিযোগে। ঢাকা মহানগর দায়রা জজকে সরাসরি গোয়েন্দা সংস্থার বড়কর্তা দিয়ে ফোন করিয়ে ফরমায়েশি ওই রায় ঘোষণা করানো হয়। যদিও এই মামলার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালেই মার্কিন কংগ্রেসে ৪০৯ ভোটে রেজোলিউশন পাস হয়। একইভাবে অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্ট, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন পার্লামেন্ট, কানাডিয়ান পার্লামেন্টসহ ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও বিল পাস হয়। এই কারণে, ২০২৪ সালের ৫ অগাষ্ট পরবর্তী সময়ে অন্য একটা দেশের পাসপোর্ট নিয়ে তারেক আহমেদ সিদ্দিকী ব্রিটেনে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে সেদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হয়নি। ভবিষ্যতেও তারেক সিদ্দিকী যাতে আমেরিকা কিংবা অন্য কোনো পশ্চিমা দেশে প্রবেশ করতে না পারেন এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ইমিগ্রেশন বিভাগকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসে গৃহীত রেজোলিউশনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে আমাকে ভবিষ্যতে কখনোই হয়রানি করা যাবেনা। অথচ, নবনীতা চৌধুরীর সাথে কথোপকথনে বাংলাদেশে জ/ঙ্গি হামলার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক বার্তা প্রকাশের পর বিএনপির লোকেরা আমার বিরুদ্ধেই অপপ্রচারে নেমেছে – হয়রানির চেষ্টা করছে। একইভাবে হয়রানির চেষ্টা করছে জামাতের কথিত ফ্যাক্টচেকার শু/য়োর – যে বেশ আগে থেকেই দুর্বৃত্ত ইউনুস আর ডাস্টবিনের পৃষ্ঠপোষকতা ভোগ করছে।
মোদ্দা কথায়, ইউনুস, জামাত এবং বিএনপি সম্মিলিতভাবে পতাকার অজুহাতে জ/ঙ্গিদের তাণ্ডবে প্রকাশ্যে সমর্থন কিংবা মদদ দিচ্ছে। অথচ এই পতাকা কান্ডের পেছনে আছেন মুফতি হারুন ইজহার, যিনি আওয়ামীলীগ শাসনামলে গ্রেফতার হয়েছিলেন পাকিস্তানি সন্ত্রা/সী গোষ্ঠী লস্কর ই তৈযবার সাথে মিলে ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসে হামলা ষড়যন্ত্রের অভিযোগে।
এক্ষেত্রে আমার প্রশ্ন – বিএনপির একটা অংশ কেনো নাশকতা ষড়যন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিলো? কারা এরা? এদেরকে এক্ষুনি চিহ্নিত করে গ্রেফতার না করা হলে আমরা কি বার্তা পাবো? আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কী বার্তা পাবে?
স্থানীয় গণমাধ্যম “বাংলা স্ট্রিম” এবং “সুখবর ডট কম-কে ধন্যবাদ পতাকা কান্ডের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্যে। দেশের সব গণমাধ্যমের এ বিষয়ে এক্ষুনি সোচ্চার হওয়া জরুরি। পাশাপাশি দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে বলবো – এক্ষুনি সক্রিয় হোন! তা না হলে দেশের ভাবমূর্তি আরও ক্ষুণ্ন হবে। দেশ গভীর সঙ্কটে পড়বে। এমনকি, জ/ঙ্গি তৎপরতার বিষয়ে নীরব থাকার অভিযোগে দেশের ওপর আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে। সাবধান হোন!
পাতাকাকান্ড নিয়ে নবনীতা চৌধুরীর সর্বশেষ কন্টেন্টের লিঙ্ক নিচে দিলাম। শুনে দেখতে পারেন।