সাংবাদিক পরিচয়ে রাজধানীর কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে মেহেদী হাসান নামে এক ভুয়া হলুদ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। কথিত ওই সাংবাদিক ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষকে হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায় করেন। এছাড়া অভিযুক্ত ব্যক্তি নিজেকে নাম সর্বস্ব আন্ডার গ্রাউন্ড ‘ অগ্রযাত্রা প্রতিদিন ’ নামে একটি পত্রিকার সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন। এসব ঘটনায় ইতোমধ্যে অনেক ভুক্তভোগী বিভিন্ন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন।
ব্যাংকার ও ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, মেহেদী হাসানের নেতৃত্বে সাংবাদিক পরিচয়ে সংঘবদ্ধ কয়েকটি চক্র ব্যাংকার, সরকারি কর্মকর্তা, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের হয়রানি করে আসছে। দেশের প্রথম সারির একটি ব্যাংকের ব্যাবস্থাপনা পরিচালককে ব্ল্যাকমেইল করে চাদাবাজির উদ্দেশ্য হাসিল করার লক্ষে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভুঁইফোড় নামসর্বস্ব অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন ।
পরবর্তীতে ঐ ব্যবস্থাপনা পরিচালককে মেহেদী হাসান ম্যাসেজ লিখেন ‘ মোট ৫ হাজার কপি বাড়তি ছাপানো হয়েছে আজ । আপনি নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে আমাদের একটা ভিডিও নিউজ হ্যাক করিয়ে বড় অপরাধ করেছেন,এর জবাব আপনাকে দিতে হবে। দেখতে থাকুন।
পরে এসব নিউজ ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। সেই টাকা কথিত সাংবাদিকরা মিলে ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভুক্তভোগী বলেন, আমার ছোট বোনের স্বামীর প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নামসর্বস্ব অগ্রযাত্রা প্রতিদিন পত্রিকায় কথিত হলুদ সাংবাদিক মেহেদি হাসান সংবাদ প্রকাশ করেন। এরপর ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর আবার আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই চক্রটি বিভিন্ন সময় সাধারণ মানুষদের টার্গেট করে সংবাদ প্রকাশের ভয়ভীতি দেখিয়ে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, বাড়ি, কারখানা থেকে নিয়মিত চাঁদাবাজি করেন। এরই মাঝে মেহেদী হাসানের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীরা আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি গ্রহন করছেন ।
কথিত সাংবাদিক ও জড়িত চাদাবাজদের বিষয়ে ডিএমপির ডিবি প্রধান বলেন , কাউকে হয়রানি এবং কারও কাছ থেকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতিয়ে নিলে অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।