• বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৯ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা শুরু পেশাগত সততা ও প্রশাসনিক জয়ে পুন প্রতিষ্ঠিত বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী ডিবি হারুন ১৮৫০ শতাংশ জমি তার ভাইকে লিখে দেন মাছপাড়া কলেজে গুণীজন সংবর্ধনা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আজ পাংশায় পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের প্রস্তাবিত স্থান পরিদর্শনে মন্ত্রী-উপদেষ্টাসহ প্রতিনিধি দল হাসনাবাদ হাই স্কুলের এডহক কমিটির সভাপতি কৃষিবিদ শরীফ হোসেন খান আমাদের বাবাকে জেলের ভেতরেই মেরে ফেলতে চায় ওরা: শঙ্কা ইমরান খানের দুই ছেলের বিশ্বে সর্বোচ্চ বেতন পান যে দেশের প্রধানমন্ত্রী এবং কত? বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ ঝাঁড়লেন পরীমনি

পেশাগত সততা ও প্রশাসনিক জয়ে পুন প্রতিষ্ঠিত বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান

বিশেষ প্রতিবেদক / ৮ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বিআইডব্লিউটিএ’র অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান

​বিশেষ প্রতিবেদক, ​ঢাকা: বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (পুর) মো. সাইদুর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগের চূড়ান্ত পরিসমাপ্তি টেনেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দীর্ঘ প্রশাসনিক অনুসন্ধান, প্রাতিষ্ঠানিক নথি পর্যালোচনা ও নিরপেক্ষ তদন্ত শেষে কোনো ধরনের দুর্নীতির প্রমাণ না পাওয়ায় তাঁকে ও তাঁর স্ত্রীকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করে অনুসন্ধান নথিভুক্ত (পরিসমাপ্তি) করেছে দেশের সর্বোচ্চ দুর্নীতিবিরোধী এই সংস্থাটি।

​দুদক প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (বিশেষ অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক স্মারকে (স্মারক নম্বর: ০০.০১.০০০০.০০০.৫০১.০১.০০৩৭.১৭.১৫) স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, সাইদুর রহমান ও তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনীত যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন ও প্রমাণহীন। ফলে কমিশন কর্তৃক আইনগতভাবে এই অনুসন্ধানের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।

​স্বার্থান্বেষী মহলের ষড়যন্ত্র ও ভুঁইফোড় মিডিয়ার অপপ্রচার
​বিআইডব্লিউটিএ’র উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা যায়, দীর্ঘ ও গৌরবময় কর্মজীবনে প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান অত্যন্ত দক্ষতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। নৌপথ ড্রেজিং, ক্যাপিটাল ড্রেজিং ও বন্দর অবকাঠামো উন্নয়নে একাধিক বড় বড় প্রকল্পে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতির সুযোগ বন্ধ এবং অনৈতিক চাপের বিরুদ্ধে সব সময় শক্ত অবস্থান নেওয়ার কারণে একটি নির্দিষ্ট সিন্ডিকেট ও স্বার্থান্বেষী মহল তাঁর ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।

​উক্ত কুচক্রী মহলটি সাইদুর রহমানের পেশাগত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এবং তাঁকে প্রশাসনিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার হীন উদ্দেশ্যে পরিকল্পিত চক্রান্তে লিপ্ত হয়। এরই ধারাবাহিকতায় কিছু ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল ও নাম সর্বস্ব মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর, অসম্পূর্ণ ও অসত্য তথ্য সরবরাহ করে মনগড়া সংবাদ পরিবেশন করা হয়।

​কর্মকর্তাদের ক্ষোভ ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান
​বিআইডব্লিউটিএ’র একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, সাইদুর রহমানের মতো একজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এভাবে ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “সরকারি কাজের প্রক্রিয়ায় একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষমতা ও দায়িত্ব কতটুকু, তা না জেনে এবং কোনো তথ্য যাচাই-বাছাই না করেই সংবাদ প্রকাশ করা অন্যায়। সততার সাথে কাজ করার পরও যদি অপপ্রচারের শিকার হতে হয়, তবে নিষ্ঠাবান কর্মকর্তারা মানসিক বল হারিয়ে ফেলবেন।”
​তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমের দায়িত্ব অনিয়ম তুলে ধরা, তবে অনুসন্ধানের আগে কোনো সত্যতা না মেনে কেবল কারো ব্যক্তিগত বা স্বার্থান্বেষী তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রচার বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার নীতিমালার পরিপন্থী।

​প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের বক্তব্য ​দুদকের আইনি স্বীকৃতি ও চূড়ান্ত পরিসমাপ্তির পর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মো. সাইদুর রহমান বলেন, ​”আমি দীর্ঘ কর্মজীবনে সব সময় প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সবার উপরে স্থান দিয়েছি। কোনো দিন কোনো অনিয়ম বা অনৈতিক প্রস্তাবের কাছে নতি স্বীকার করিনি। বস্তুনিষ্ঠ অনুসন্ধানকে আমি সব সময় স্বাগত জানাই। কিন্তু মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার শুধু একজন কর্মকর্তা এবং তাঁর পরিবারকে সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে না, বরং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন করে।”

​তিনি বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার আহ্বান জানিয়ে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, “যেকোনো সংবাদ প্রকাশের আগে অফিশিয়াল নথি, সরকারি নিয়মাবলী এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা উচিত। দুদকের এই রায়ের মাধ্যমে প্রমাণ হলো- ষড়যন্ত্র সাময়িক অন্ধকার তৈরি করতে পারে, কিন্তু সত্যকে কখনো ধামাচাপা দিয়ে রাখা যায় না।”

​আইন ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দুদকের এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও পরিষ্কার রায় কেবল প্রকৌশলী সাইদুর রহমানের ব্যক্তিগত সততার পুনর্বাসনে সহায়তা করবে না, বরং সরকারি সংস্থায় ষড়যন্ত্রকারীদের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে একটি বড় প্রশাসনিক বার্তা হিসেবে কাজ করবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা