ফরিদুল আলম ফরিদ: আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র অঙ্গনে বাংলাদেশের জন্য নতুন এক গৌরবের নাম হয়ে উঠেছে মানবিক গল্পভিত্তিক সিনেমা ‘ময়না’। নারীর সংগ্রাম, মাতৃত্বের আবেগ এবং সমাজের কঠিন বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে নির্মিত এ চলচ্চিত্রটি দেশ ছাড়িয়ে এখন প্রশংসিত হচ্ছে বিশ্বমঞ্চেও।
তরুণ নির্মাতা মনজুরুল ইসলাম মেঘ পরিচালিত সিনেমাটির কাহিনী ও প্রযোজনায় রয়েছেন আলিম উল্লাহ খোকন। জীবনের গভীর অনুভূতি ও সামাজিক বাস্তবতাকে সংবেদনশীলভাবে পর্দায় তুলে ধরায় সিনেমাটি দর্শক ও সমালোচকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে।
‘ময়না’র বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন রাজ রিপা, আমান রেজা, কায়েস আরজুসহ আরও অনেকে। বিশেষ করে নাম ভূমিকায় রাজ রিপার অভিনয় দর্শকদের হৃদয়ে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে। তার আবেগঘন ও সাবলীল অভিনয় সিনেমাটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

ময়না চলচ্চিত্রে নাম ভূমিকায় অভিনয় করেছেন রাজ রিপা। ছবি: সংগৃহীত
চলচ্চিত্রটি শুধু বিনোদনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়; এটি সমাজের নানা বাস্তব চিত্র তুলে ধরে দর্শকদের ভাবতে শেখায়। নারীর আত্মত্যাগ, পারিবারিক টানাপোড়েন এবং জীবনসংগ্রামের গল্প অত্যন্ত মর্মস্পর্শীভাবে উপস্থাপন করায় সিনেমাটি পেয়েছে ব্যাপক প্রশংসা।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে ‘ময়না’। ইতালিতে অনুষ্ঠিত ‘গালফ অব নেপলস ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল’-এ সিনেমাটি অর্জন করেছে ‘স্পেশাল মেনশন ফিচার ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড’। একইসঙ্গে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া একমাত্র এশীয় চলচ্চিত্র হিসেবেও এটি বিশেষ সম্মান অর্জন করে।
এবার সিনেমাটি প্রদর্শিত হতে যাচ্ছে দক্ষিণ কোরিয়ায়, যা দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের জন্য আরেকটি বড় অর্জন। আরও গর্বের বিষয় হলো, সিনেমাটির কাহিনীকার আলিম উল্লাহ খোকনকে উৎসবের উদ্বোধনী ও সমাপনী রেড কার্পেট অনুষ্ঠানে ‘ভিআইপি অতিথি’ হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে একজন বাংলাদেশি কাহিনীকারের এমন সম্মাননা দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গনের জন্য নিঃসন্দেহে বিশেষ প্রাপ্তি।
সংশ্লিষ্টদের মতে, ‘ময়না’ কেবল একটি সিনেমা নয়; এটি বাংলাদেশের সংস্কৃতি, জীবনবোধ এবং মানবিক গল্পকে বিশ্বদরবারে তুলে ধরার একটি সফল প্রয়াস। এমন অর্জন ভবিষ্যতে বাংলা চলচ্চিত্রকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও শক্ত অবস্থানে পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
