• শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১০:০১ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
মোংলা থেকে উত্তরাঞ্চল পর্যন্ত জ্বালানি অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে : প্রধানমন্ত্রী ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে জুলাই হত‍্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখালো ডিবি দ্বিতীয় পদ্মা ও যমুনা সেতু নির্মাণে পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকানদেরকে হটিয়ে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিল ডেমোক্র্যাটরা বাংলাদেশে আমি আর কোন বিনিয়োগ করতে চাইবো না: সালমান মুক্তাদির নারায়ণগঞ্জে ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গার্মেন্টস খাতে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করলে আইনি ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুঞ্জন পেরিয়ে শুটিংয়ে আসছেন মধুমিতা সরকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা পরিবর্তন পোশাকখাতে অস্থিরতার পেছনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত মালিক-শ্রমিকরা দায়ী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ

মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম / ২৩৬ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬

মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম: স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত চট্টগ্রামের অতি প্রাচীন চন্দনপুরা মসজিদ। নগরীর চকবাজার ওয়ার্ডের সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কে এটি অবস্থিত। মসজিদের চারদিকে যেন রঙের মেলা। হরেক রঙ ব্যবহার করা হয়েছে স্থাপনার প্রতিটি অংশে। লতা-পাতার নকশা আর নানান কারুকাজে সৌন্দর্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুনিপুণ হাতে। অনেক দূর থেকে দেখা যায় মসজিদটির বাহ্যিক সৌন্দর্য।

সিরাজ-উদ-দৌলা সড়কের পশ্চিম পাশে মোগল স্থাপনা শিল্পের আদলে ১৮৭০ সালে মাটি ও চুন সুরকির দেয়াল আর টিনের ছাদের মসজিদ প্রতিষ্ঠা করেন আব্দুল হামিদ মাস্টার। তখনও মাটির দেয়ালে কারুকাজে ভরপুর ছিল। তার বংশধর ব্রিটিশ সরকারের ঠিকাদার আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৪৬ সালে এই মসজিদের সংস্কার কাজে হাত দেন।

মসজিদের কারিগর ও নির্মাণ সামগ্রী ভারত থেকে আনা হয়। এতে সেই সময়ে প্রায় পাঁচ লাখ টাকারও অধিক খরচ হয়। চারপাশের দেয়ালগুলো ভেন্টিলেশন সিস্টেমের। দেয়ালের ফাঁক গলে ঢুকছে আলো। আলোর ঝরণাধারায় ভেতরটা করছে ঝলমল,আছে বাতাসের কোমল পরশ।

আবু সৈয়দ দোভাষ একই নকশায় নগরীর কোতোয়ালীর মোড় এলাকায় শ্বশুর বাড়িতেও ১টি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। তবে সেটি এই মসজিদ থেকে আকারে ছোট ছিল। অনেকের কাছে এ মসজিদ চন্দনপুরা বড় মসজিদ বা তাজ মসজিদ নামেও পরিচিত। এখন মসজিদটির বয়স ১৫৫ বছর।

চট্টগ্রামের পর্যটন শিল্পের পরিচয় তুলে ধরতে মসজিদটির ছবি ব্যবহার করা হয় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রকাশনায়। প্রকাশনাগুলোতে এ মসজিদের ছবি থাকায় বিদেশ থেকে পর্যটকরাও আসেন এখানে। আবু সৈয়দ দোভাষ সেই সময়ে কলকাতা থেকে কারিগর ও দিল্লীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে উপকরণ এনে প্রায় ১৩ শতক জায়গার ওপর দোতলা মসজিদটি গড়ে তুলেন।

মসজিদে রয়েছে ছোট-বড় ১৫টি গম্বুজ। প্রতিটি গম্বুজে যাওয়ার জন্য আছে সিঁড়ি। গম্বুজ ও সিঁড়িতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে মোগল স্থাপত্য নিদর্শনের প্রতিচ্ছবি। গম্বুজের চারপাশে রয়েছে জান্নাতের সুসংবাদ পাওয়া ১০ সাহাবীর নাম। যখন মাইকের ব্যবহার ছিল না,তখন ৪তলা সমান উঁচু মিনারে উঠে আজান দেয়া হতো। এরকম ২টি মিনার এখনও আছে।

আবু সৈয়দ দোভাষ ১৯৫০ সালে এ মসজিদ পুনর্নির্মাণ কাজ শেষ করেন। এখন প্রতি ৫ বছর পর একবার রঙ করা হয়। একবার রঙ করার কাজ শেষ করতে প্রায় ৩ থেকে ৪ মাস সময় লাগে। এ মসজিদে বড় গম্বুজটি ছিল প্রায় ১৩ মণ রুপা ও পিতলের তৈরি। এ কাজের কারিগরের অভাবে সংস্কার কাজও সঠিকভাবে করা যায় না। বৈরি আবহাওয়ায় এসব জিনিস যেমন নষ্ট হয়েছে তেমনি সংস্কারের সময়ও অনেক কিছু হারিয়ে গেছে।

প্রতিদিনই নতুন নতুন মানুষ এ মসজিদ দেখতে আসেন। আশপাশেও অনেক নতুন মসজিদ গড়ে উঠেছে। এরপরও এ মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বাড়ছে। সাধারণত দিনে গড়ে ৮ থেকে ৯শ’ লোক নামাজ পড়েন এ মসজিদে। শুক্রবারে হাজার তিনেক ছাড়িয়ে যায়। তখন মসজিদে জায়গা সংকুলন না হলে রাস্তা বন্ধ করে সেখানেই নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।।

মোহাম্মদ নাজমুল হক শামীম
সম্পাদক/প্রকাশক:- “চট্টলানামা” লিটল ম্যাগাজিন।
সাধারণ সম্পাদক :- বাংলাদেশ ইতিহাস চর্চা পরিষদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা