• বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ০১:৫২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
শেষবার বিদায় মুহূর্তে মেসির জার্সি কে পাবেন? ‘প্রাথমিক শিক্ষা পদক’ প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূ নিখোঁজ, ফতুল্লা মডেল থানায় জিডি সফল ব্যবসায়ী শওকত আলী চৌধুরী: ব্যাংকিং ও শিল্প খাতে সফলতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত সিরাজগঞ্জের যমুনার চরে ‘আর্জেন্টিনা বটগাছ’ মেসির জাদুতে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা, কানসাস সিটিতে আরও এক মহাকাব্য লিখলেন ফুটবল-সম্রাট মালয়েশিয়া প্রবাস থেকে গীতিকার শফিকুল আলমের স্বপ্নপূরণ, একসঙ্গে রেকর্ড হলো তিনটি মৌলিক বাংলা গান নতুন প্রজন্মের সংগীত পরিচালক ই এস আভিরের ব্যস্ত সময়: একদিনে তিন মৌলিক গানের রেকর্ডিং সম্পন্ন মগবাজারে একসঙ্গে তিনটি মৌলিক গানের অডিও রেকর্ডিং সম্পন্ন, শিগগিরই প্রকাশ পাবে জনতা টিভিতে আমিনবাজারে ১.২ কিলোমিটার মহাসড়কজুড়ে বর্জ্য অপসারণ ও নিমগাছ রোপণ করা হবে: মীর শাহে আলম

মাদকের ক্ষমতাধর শামীম ঘুরেফিরে আবারো সেই ঢাকায়

নিজস্ব প্রতিবেদক / ৭৯ বার পড়া হয়েছে
প্রকাশ সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর সাবেক কর্মকর্তা শামিম আহমেদ। ছবি- সংগৃহীত

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সবচেয়ে ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মেট্রো উত্তরের উপ-পরিচালক শামিম আহমেদ। আওয়ামী, অন্তর্বর্তী ও বর্তমান আমলেও ঘুরেফিরে ঢাকায়ই দায়িত্ব পালন করছেন। নানা অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে ঢাকায় রাখতে বাধ্য হচ্ছে অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, ২০০৯ সালে সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে দায়িত্ব পালন শুরু করেন। পরে সহকারী পরিচালক (বগুড়া), উপ-পরিচালক চট্রগ্রাম মেট্রো, উপ-পরিচালক ঢাকা গোয়েন্দা, উপ-পরিচালক নারায়ণগঞ্জ, উপ-পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক টাংগাইলে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু ঢাকার বাইরে বেশিদিন তাকে থাকতে হয়নি। ঘুরেফিরে আবারো উপ-পরিচালক ঢাকা মেট্রো উত্তরের দায়িত্ব পালন করছেন।
এই শামীম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে ক্ষমতাসীনদের আশীর্বাদ পুষ্ট হয়ে শামীম আহমেদ ঢাকা-চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বহাল ছিলেন। সে সময় অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে ওঠা অনুমোদনহীন রেস্টুরেন্ট, বার, সিসা লাউঞ্জসহ বিভিন্ন স্পট থেকে তিনি কোটি কোটি টাকা আয় বহির্ভূত অর্থ উপার্জন করেছেন। রাজধানীর ধনীদের কাছে বিলাসী আবাসন হিসেবে খ্যাত পূর্বাচলে তার একাধিক প্লট এবং পৈতৃক এলাকায় প্লট, ধানিজমিসহ অসংখ্য সম্পদের মালিক বনে গেছেন বলেও জানা গেছে।
সূত্র জানায়, বর্তমানে শামীম আহমেদ রাজধানীর উত্তরের উপ-পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ার পর আগের থেকেও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। গুলশান-বনানী এলাকার অভিজাত হোটেল, সিসা লাউঞ্জ ও বার থেকে অভিযানের ভয় দেখিয়ে তার নিয়ন্ত্রিত ‘স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কমিটি’ নামক একটি কথিত ‘কমিটি সিন্ডিকেট’ মোটা অংকের অর্থ আদায়ের মিশনে নেমেছে।
কথিত ওই কমিটির সদস্যরা শামীম আহমেদের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করেন। এসব ভয়-ভীতির পরে চাহিদা অনুযায়ী অর্থ না মিললে কখনও কখনও উক্ত প্রতিষ্ঠানের সামনে কথিত কমিটির ব্যানারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। কথিত রয়েছে, উক্ত স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবে সরাসরি সম্পৃক্ত রয়েছেন শামীম আহমেদ। এমন মানববন্ধনের পর উপ-পরিচালক শামীম আহমেদ অভিযান পরিচালনা করে কাঙ্ক্ষিত অর্থ হাতিয়ে নেন।
সম্প্রতি বনানীর ১১ নম্বর রোডে ‘হেইজ সিসা লাউঞ্জে’ এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে। অনৈতিক সুবিধা না পেয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের সামনে মানববন্ধন করেছিল স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কমিটি। সেই মানববন্ধনের কয়েকদিনের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ।
শামীমের নেতৃত্বে পরিচালিত অধিকাংশ অভিযানে অর্থ লেনদেন ও অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কারণে প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার যন্ত্রাংশ ভেঙে নষ্ট করা হয়। পরে সেগুলো জব্দ তালিকায় যুক্ত করা হয়, যাতে কোনো প্রমাণ পরবর্তীতে কেউ শনাক্ত করতে না পারেন। রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান-বনানীতে উক্ত কথিত কমিটির অধিকাংশ সদস্যই ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে।
মাদকের ভয়াল থাবা রোধে কাজ করা আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানে এমন দুর্নীতিবাজ, অর্থলোভী, চাঁদাবাজ ও ধান্দাবাজদের দৌরাত্ম্যের কারণে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনেক সফলতা থাকলেও তা ম্লান হয়ে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে গুলশানের একটি অভিজাত এলাকার হোটেল কর্তৃপক্ষ জানায়, শামীম আহমেদ বর্তমান পদে দায়িত্বে বসার পর থেকে এলাকার সকল ব্যবসায়ী আতঙ্কে রয়েছেন। কথিত স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কমিটির ব্যানারে গুলশান-বনানী জুড়ে চলছে কোটি কোটি টাকার চাঁদাবাজি ও ফিটিং বাণিজ্য, যা সকলের কাছে ‘ওপেন সিক্রেট’।
সংশ্লিষ্ট খাতের অনেকেই মনে করেন, মাদকের ছোবল নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা নিজেই টাকার নেশায় বুদ হয়ে থাকলে ‘অভিযান নামক নাটক’ মঞ্চস্থ করে সমাজের ও রাষ্ট্রের মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। সূত্র আরও জানায়, বিগত সরকারের আমলে শামীম আহমেদ আওয়ামী লীগের নামধারী বিভিন্ন সংগঠনের সাথে যুক্ত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদকসহ এমন সময়ে তার সবগুলো বদলিই ছিল গুরুত্বপূর্ণ ও লাভজনক।
স্বাধীন বাংলা মাদকবিরোধী কমিটির উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি ওই সংগঠনের অফিসে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। এছাড়াও শামীমের ‘ক্যাশিয়ার’ হিসেবে পরিচিত উপ-পরিদর্শক নাজমুলের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা তোলার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা