নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার পণ্য উধাও, ক্ষতিগ্রস্ত মালিক-বায়ার-দেশের সুনাম; তদন্ত ও কঠোর ব্যবস্থার দাবিদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাক শিল্পকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে একাধিক গার্মেন্টস কারখানার কিছু Factory QC Man (কোয়ালিটি কন্ট্রোল কর্মী)–এর বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর অভিযোগ।
অভিযোগ রয়েছে, পর্তুগালভিত্তিক বিভিন্ন বায়ার সংশ্লিষ্ট কিছু কারখানায় কর্মরত কয়েকজন Factory QC Man প্রতিদিন ল্যাপটপ ব্যাগসহ বিভিন্ন কৌশলে হাজার হাজার টাকার এক্সপোর্টমুখী পণ্য কারখানা থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। এর ফলে একদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কারখানা মালিকরা, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদেশি বায়ারদের আস্থা এবং দেশের তৈরি পোশাক শিল্পের আন্তর্জাতিক সুনাম।
অপরাধ অনুসন্ধানী একটি সূত্রের দাবি, অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালিত অনুসন্ধানে কয়েকজন ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন রবিউল ইসলাম সবুজ, আলম ও রাশেদসহ আরও কয়েকজন Factory QC Man। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সূত্রগুলোর দাবি, কিছু ক্ষেত্রে Factory QC Man-দের বিরুদ্ধে গার্মেন্টসের জিএম, পিএম, লাইনম্যানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পণ্য, নগদ অর্থ, সিগারেট এবং ব্যক্তিগত আপ্যায়নের সুবিধা গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে। যদিও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
কিউসি প্রোডাক্টের নামে বাজারে বিক্রি!
অনুসন্ধানে আরও অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও লাইভ বিক্রয় কার্যক্রমে "কিউসি প্রোডাক্ট" বা "এক্সেস প্রোডাকশন" হিসেবে বিপুল পরিমাণ পোশাক বিক্রি হচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বিক্রেতা দাবি করেছেন, তারা এসব পণ্য বিভিন্ন উৎস থেকে সংগ্রহ করেন এবং অনেক ক্ষেত্রেই এগুলোকে ফ্যাক্টরির অতিরিক্ত উৎপাদন (Excess Production) হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়।
তবে শিল্প সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র প্রশ্ন তুলেছে- বাজারে বিক্রি হওয়া সব পণ্যই কি প্রকৃতপক্ষে এক্সেস প্রোডাকশন, নাকি এর আড়ালে সংঘবদ্ধভাবে এক্সপোর্ট পণ্য সরিয়ে নেওয়ার কোনো চক্র সক্রিয় রয়েছে?
আরো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ বেরিয়ে এসেছে অনুসন্ধানী দলের বিচক্ষণ তৎপরতায় যা আজ ওপেন সিক্রেট অনেক স্টক বাইং হাউজ ব্যবসায়ীরাও জড়িয়ে পড়েছে এই চক্রের সঙ্গে অনেক বড় ভূমিকা অনেক বড় ভূমিকায় আর তাদের জন্যই uc bandra মূলত হয়েছে লোভী হয়েছে চোর এবং দেশের শত্রু এদেরকে দেশদ্রোহী বললেও ভুল হবেনা। হাউজও এলাকাভিত্তিক শোরুমে ব্যবসায়ীদের সুপার ইনটেক, এক্সক্লুসিভ ,ফেন্সি প্রোডাক্ট ইত্যাদি বলে প্রোডাক্টের চরম মূল্য হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার নচিকেতা গিয়ে দাঁড়ায় লক্ষ লক্ষ টাকার হিসেবে।
রিপিট অর্ডার হারানোর শঙ্কা
শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, বিদেশি বায়ারদের আস্থা নষ্ট হলে বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্প দীর্ঘমেয়াদে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। একাধিক মালিকপক্ষের প্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পণ্যের গুণগত মান, পরিমাণ ও নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে বিদেশি ক্রেতারা রিপিট অর্ডার কমিয়ে দিতে পারেন।
তাদের ভাষ্য, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প একসময় কম খরচে উন্নতমানের পণ্য সরবরাহের জন্য বিশ্ববাজারে বিশেষ সুনাম অর্জন করেছিল। কিন্তু অভ্যন্তরীণ অনিয়ম ও দুর্বল তদারকি সেই অবস্থানকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে।
গেট চেকিং নিয়েও প্রশ্ন?
সচেতন মহলের অভিযোগ, কারখানায় প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যথাযথ তল্লাশি কার্যকর না হওয়ায় অনেক অনিয়ম ধরা পড়ছে না। কিছু ক্ষেত্রে গেটম্যান বা নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রভাবিত করার অভিযোগও উঠেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিজিএমইএ ও প্রশাসনের ভূমিকা কোথায়?
শিল্পসংশ্লিষ্ট সচেতন মহল, শ্রমিক প্রতিনিধি ও গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্ন-এ ধরনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও শিল্প মালিকদের সংগঠন কী পদক্ষেপ নিয়েছে?
তাদের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন, কারখানাগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা চালু এবং দোষী প্রমাণিত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ, বিদেশি বায়ার প্রতিনিধি এবং শিল্প মালিকদের সংগঠনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।