
আবু আফরান মো: নোমান: রাজধানীর উত্তর বাড্ডা-সাঁতারকুল এলাকায় পিচ্চি ফয়সাল নামে পরিচিত এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিশোর গ্যাং পরিচালনা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, চাঁদাবাজি, অপপ্রচার এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও ভুক্তভোগীদের দাবি, রাজনৈতিক পরিচয়কে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এলাকায় একটি শক্তিশালী প্রভাববলয় গড়ে তুলে দীর্ঘদিন ধরে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে তাঁর কর্মকাণ্ড আরও বেপরোয়া ও সংঘবদ্ধ রূপ নেয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কিশোরদের ব্যবহার করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, প্রতিপক্ষকে ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। এলাকাবাসীর দাবি, সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছেন না; কারণ প্রতিবাদ করলেই শুরু হয় ভয়ভীতি, অপপ্রচার ও মামলা দেওয়ার হুমকি।
একাধিক সূত্র জানায়, স্থানীয় ব্যবসায়ী সুমনকে কেন্দ্র করে প্রথমে পরিকল্পিত অপপ্রচার শুরু করা হয়। পরে তাঁকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগের অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন সাংবাদিক অনুসন্ধানে নামলে তাদের কাছেও পৌঁছে যায় একাধিক অডিও ক্লিপ।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, ওই অডিও ক্লিপগুলোতে সরাসরি হুমকি, চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং দেখে নেওয়ার মতো বক্তব্য রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধান বন্ধ করতে প্রথমে বিভিন্নভাবে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করা হয়। পরে অর্থের প্রস্তাব দিয়েও বিষয়টি ম্যানেজ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে দাবি করেন কয়েকজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি ভয়ভীতির সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো, সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা কিংবা মিথ্যা মামলায় জড়ানোর ভয় দেখানো হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীরা বলছেন, এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু ব্যক্তি নিরাপত্তার জন্য নয়, সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, অডিও ক্লিপের ফরেনসিক যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা জানতে পিচ্চি ফয়সালের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও যাচাই কার্যক্রম চলমান রয়েছে।