রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১২:১৪ অপরাহ্ন

লকডাউনে শিক্ষা কার্যক্রমঃ জাহিদুর রহমান

জাহিদুর রহমান
  • Update Time : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ৪৭ Time View

প্রায় দেড় বছর হলো পুরো বিশ্ব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এ ভাইরাস মোকাবিলার জন্য পৃথিবীর অনেক দেশই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখাকে একটি কৌশল হিসেবে অনুসরণ করেছে। ইউনেস্কোর তথ্যমতে করোনা সংক্রমণের সর্বোচ্চ মাত্রার সময়ে ১৯০টিরও বেশি দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। বাংলাদেশে গত বছরের মার্চ মাস থেকে অদ্যাবধি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ আছে। ইউনেস্কোর তথ্যমতে বাংলাদেশ সবচেয়ে দীর্ঘ সময়ের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। টানা এক বছরের বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটির মতো শিক্ষার্থী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে – একথা অনস্বীকার্য। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার পিছনে বড় যুক্তি হলো শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সমাগম হলে করোনা ছড়ানোর আশংকা বাড়বে, ঝুঁকিতে পড়বে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম।

এদিকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীদের সামাজিক দক্ষতা তৈরী এবং অনুশীলনের সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়; পাশাপাশি দীর্ঘদিন বাসায় থাকা এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে না যাওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক ও মনোসামাজিক কল্যাণের উপর পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। আবার মোবাইল ও কম্পিউটার ভিত্তিক গেমস ও অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রতি আসক্তি বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে শিক্ষার্থীদের বড় ধরনের শিখন ক্ষতি বা Learning loss হয়ে যাচ্ছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত পড়ালেখায় হয়ে যাচ্ছে অমনোযোগী। PBRC ও BIGD এর গবেষণামতে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ২০ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পর্যায়ের প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী শিখতে না পারার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাল্য বিবাহ, দারিদ্র্যতা এবং অন্যান্য কারণে বড় একটা সংখ্যক শিক্ষার্থীদের ড্রপআউট বা ঝরে পড়ার আশংকার কথাও এ গবেষণায় উঠে এসেছে করোনার প্রভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় এগুলো হতাশার কিছু কথা। কিন্তু আশার কথাও আছে।

পৃথিবী নিজেই যখন মৃত্যু যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে, সেই পৃথিবীর ছোট্ট একটা দেশ বাংলাদেশও যে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শিকার হবে এবং শিক্ষা থেকে শুরু করে অনেক ক্ষেত্রেই ক্ষতির সম্মুখীন হবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষ সব ধরনের প্রতিকূলতাকে এক সময় অতিক্রম করেছে, কঠোর মনোবলে নতুন শক্তিতে, নব উদ্দীপনায় বারবার দাঁড়িয়েছে। পুরো পৃথিবী এমন প্রচেষ্টাতেই নতুন আর এক পৃথিবী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, আর আমাদের দেশ-ও সে প্রচেষ্টার সক্রিয় সাহসী সহযাত্রী। আর তাই করোনাকে আমরা একসময় জয় করতে পারবো, পারবো শিক্ষাসহ সকল ক্ষেত্রের ক্ষতিকে পুষিয়ে নিতে করোনাকালীন শিক্ষাব্যবস্থা চলমান রাখার বহুমুখী পদক্ষেপ সরকার গ্রহণ করেছে।

একটা সময় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সশরীরী উপস্থিতি ও চিন্তা- চেতনা-ভাবনা প্রকাশের মূল কেন্দ্র ছিল শ্রেণিকক্ষ। কিন্তু বর্তমানে মহামারীর এ ভয়াবহ সংকটে চিরন্তন সে স্বরুপ ও চিন্তনের পুরোটাই পরিবর্তন হয়েছে। আমরা এমন একটা সময়ে আছি, যখন শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষতির মধ্যে থেকেও তথ্যপ্রযুক্তির সুবিধা নিয়ে অভূতপূর্ব কিছু ধারণা উদঘাটিত হয়েছে, শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখতে তৈরি হয়েছে নতুন নতুন কৌশল। ডিজিটাল বাংলাদেশ আজ বাস্তব রুপ লাভ করায় ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে প্রান্তিক অঞ্চল পর্যন্ত শিক্ষা পৌছে দেয়া সম্ভব হচ্ছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে শিক্ষায় নতুন নতুন পদ্ধতির উদ্ভাবন ঘটছে, অভিজ্ঞতা সঞ্চিত হচ্ছে এবং তা শিক্ষার্থীদের প্রদান করাও সম্ভব হচ্ছে। গতানুগতিক শিক্ষা ব্যবস্থার যে আমূল পরিবর্তন ঘটে গেছে তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তথ্য প্রযুক্তি নির্ভর এসব শিক্ষা পদ্ধতি সানন্দে গ্রহণ করতে পারলে হয়তো ভবিষ্যতে যেসব নতুন নতুন পদ্ধতি আসবে এবং সেগুলো মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থার প্রসার ও অগ্রগতি বহুগুণে বৃদ্ধি পাবে।

এ-তো গেলো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে দু’একটা কথা। সমগ্র দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে লেখার মতো জ্ঞানও আমার নেই। পেশাগত জীবনে নগন্য একজন শিক্ষক হিসেবে নিজ এলাকার শিক্ষা ব্যবস্থার স্থবিরতা লক্ষ্য করে দু’এক কথা লিখতে ইচ্ছে হলো। অনেক বিজ্ঞজন রয়েছেন। ভেবেছিলাম কেউ না কেউ লিখবেন। তেমনটা হলোনা। তাই অধমের বিবেকের দংশন থেকে মুক্ত হওয়ার হয়তো ব্যর্থ প্রয়াস মাত্র।

যাহোক, প্রযুক্তির ব্যবহার করে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। যার অংশ হিসেবে আমাদের গোপালগঞ্জ শিক্ষা অফিস ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পেজ থেকে তাঁদের ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মাধ্যমে গোপালগঞ্জের শিক্ষা কার্যক্রমও সচল রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। অনলাইন পদ্ধতিতে পাঠদান, এসাইনমেন্ট প্রদান, গ্রহণ ও মূল্যায়নের ব্যাপারে প্রতিষ্ঠান প্রধান ও শিক্ষকদের সাথে অসংখ্য জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে এ জেলার শিক্ষা কার্যক্রম সচল রাখার চেষ্টা শিক্ষা অফিসগুলো করেছে। যদিও এ পদ্ধতি গুলো আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় একেবারেই নতুন সংযোজন।

সরকার ও শিক্ষা অফিসগুলোর নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী অনলাইনে পাঠদান শুরু করলেন। প্রথমদিকে সংসদ টিভির মাধ্যমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালিত রুটিন মাফিক পাঠদান শিক্ষার্থীরা গুরুত্ব দিয়েই অনুসরণ করছিলো। এরপর জেলা শিক্ষা অফিসের পেইজের মাধ্যমে আপলোড করা ক্লাস অথবা লাইভ ক্লাসও কিছু ছাত্র-ছাত্রী অনুসরণ করছিলো। কিন্তু কিছু কারণে শিক্ষার্থীদের এ আগ্রহে ভাটা পড়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে।

প্রথমদিকে প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ তাঁদের বিবেচনায় নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে ভালো শিক্ষকদের এসব ক্লাস নেয়ার দায়িত্ব দেন। সে মোতাবেক শিক্ষকগণ ও অনেক পরিশ্রম করে তাঁর ক্লাসটি নেয়ার চেষ্টা করেন। ফলে মান সম্পন্ন ক্লাসগুলো শিক্ষা অফিসের পেইজে আপলোড হতে থাকে। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসগুলোকে গ্রহণ করে। কিন্তু এক সময় দেখা গেল সকল প্রতিষ্ঠানের সকল শিক্ষকদের দ্বারা এ সকল ক্লাস নেওয়ার নির্দেশনা দেয়া হলো। শুরু হলো গণ ক্লাস।

অধিকাংশ ক্লাস গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষক মন্ডলী স্রেফ একটা লেকচার মোবাইলে ধারণ করে ইন্টারনেট ব্যবহার করে আপলোড করে দেয়া শুরু করেন। প্রায় সকল শিক্ষকের ক্লাস উপস্থাপনা একই ভাষায়। ক্লাসের শুরু এবং শেষ প্রায় একই বাক্য, সাউন্ড সমস্যা, অভিজ্ঞ, অনভিজ্ঞ, প্রযুক্তিগত জ্ঞান সম্পন্ন, কম জ্ঞান সম্পন্ন – সকল শিক্ষক মন্ডলী এই পেজ এ ক্লাস দিয়ে হযবরল অবস্থার সৃষ্টি করে ফেললেন। কিছু অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী লাইভ ক্লাস নেয়া শুরু করলেন। এ ক্ষেত্রেও শিক্ষক শিক্ষার্থীরা বৈষম্য লক্ষ্য করলেন। সমগ্র জেলার মাত্র কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন শিক্ষক এ ক্লাস নেয়ার সুযোগ পেলেন; যা অনেক প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে নেয়নি। অন্যান্য ক্লাসগুলো ও মনিটরিং এর ব্যবস্থা হলো। এখানেও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান প্রাধান্য পেতে থাকলো। কিছু প্রতিষ্ঠানের ত্রুটিপূর্ণ ক্লাস পেইজ এ আপলোড/শেয়ার হতো, পক্ষান্তরে অনেক প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মান সম্পন্ন ক্লাসগুলো ও শেয়ার হতো না। এমন অনেক শিক্ষকের আফসোসের কথা শুনেছি। সবচেয়ে বড়কথা প্রযুক্তির ব্যবহার করে যে মানের ক্লাস আমাদের নেয়ার কথা বা উচিত ছিলো তার ধারের কাছেও আমরা যেতে পারিনি। অনলাইনে পাঠদান মানে ক্লাসের ভিডিও নয় একথা আমরা চিন্তা করিনি। সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কন্টেন্ট তৈরি করার প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমরা কেন শুধু ভিডিও ক্লাস নিতে গেলাম জানিনা। দুঃখের বিষয় হলো- যে সকল শিক্ষক কন্টেন্ট তৈরি করার প্রশিক্ষণ দেন তাঁরাও অনেকে কন্টেন্ট তৈরি না করে ভিডিও ক্লাস দিতে থাকেন।

সব মিলিয়ে প্রায় সমস্ত ক্লাসগুলো হতে থাকে একইরকম, গতানুগতিক। ক্লাস টু ক্লাস, শিক্ষক টু শিক্ষক ক্লাসের কোন ভেরিয়েশন নেই।
এ সমস্ত কারণে এজাতীয় গণ ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রীদের আগ্রহ কমতে থাকে, শিক্ষকদেরও। বর্তমানে এ অনলাইন পাঠদান ব্যবস্থা একেবারেই স্থবির হয়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। এই ক্লাসগুলো অনুসরণ করা ও তা মূল্যায়নের কোনো পন্থা বের না করার কারণে শিক্ষার্থীদের এ পাঠদান প্রক্রিয়ার সাথে আশানুরূপ ভাবে যুক্ত করা যায়নি।

করোনার এ প্রকোপ থেকে আমরা কবে মুক্তি পাবো, কবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হবে, কবেইবা ছাত্র শিক্ষকের পদচারণায় মুখরিত হবে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো তা একমাত্র আল্লাহ ই জানেন। তাই বলে আমরা শিক্ষা কার্যক্রমকে এভাবে লকডাউনে ফেলে দিতে পারি না। এসাইনমেন্ট পদ্ধতির সাথে আমরা অনেক শিক্ষকই পরিচিত নই, মূল্যায়ন পদ্ধতির সাথেও না। তারপরও সরকারের একেক সময় একেক রকম সংশোধনী। সব মিলিয়ে এসাইনমেন্ট পদ্ধতি ও খুব বেশী কার্যকরী হচ্ছে বলে আমার কাছে অন্তত মনে হয় না।

এ অবস্থা চলতে থাকলে আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিল থেকে দুরে চলে যাবে। এটা হতে পারেনা। আমাদের সন্তানদের বইয়ের সাথে সম্পর্ক রাখার উপায় বের করতে হবে। উপজেলা শিক্ষা অফিসের তত্বাবধানে পরিসর ছোট করে মান সম্পন্ন শিক্ষকদের মাধ্যমে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে মান সম্পন্ন ক্লাস পরিচালনা করা খুবই প্রয়োজন। প্রিয় শিক্ষকদের মান সম্পন্ন প্রযুক্তি নির্ভর ক্লাস অনুসরণ করতে অবশ্যই আমাদের শিক্ষার্থীরা আগ্রহী হবে। সপ্তাহে/পনের দিনের ক্লাস পরবর্তী অনলাইনে কোন পরীক্ষা নেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে ভেবে দেখা দরকার। এসাইনমেন্ট প্রনয়নের ব্যাপারেও বিষয় ভিত্তিক অভিজ্ঞ শিক্ষক মন্ডলী অনলাইনে নিয়মিত নির্দেশনা প্রদান করলে আমাদের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে বলে মনে করি।

সমগ্র দেশ বা সমগ্র গোপালগঞ্জে কি অবস্থা জানিনা, তবে আমাদের মুকসুদপুরের শিক্ষা কার্যক্রম একেবারে লকডাউনে আছে বলে আমার মনে হয়। শিক্ষা কর্মকর্তাগণ, প্রতিষ্ঠান প্রধানগণ, শিক্ষক মন্ডলী এবং অভিবাবকগণ সকল পর্যায়ের ব্যক্তিদের আমাদের সন্তানদের নিয়ে ভেবে দেখার সময় হয়েছে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মনোসামাজিক কল্যাণের দিকে আমাদের নজর দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের পড়ার টেবিলে ফিরিয়ে নিতেই হবে। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে এভাবে আমরা লকডাউনে ফেলে রাখতে পারিনা।

মহান আল্লাহ আমাদের এ ভয়াবহ সংকট থেকে মুক্তি দিবেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরায় শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের পদচারণায় মুখরিত হবে সে প্রত্যাশা আজ সবার।

লেখকঃ জাহিদুর রহমান, প্রভাষক ও
প্রচার সম্পাদক, মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ, গোপালগঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From