রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১১:৩৯ পূর্বাহ্ন

করোনায় কোরবানীর গরুর হাট

হেলাল মাহমুদ তন্ময়
  • Update Time : সোমবার, ১৯ জুলাই, ২০২১
  • ৮ Time View

করোনার হাট বসান, গরু খাইয়া মইরা গেলে জনসংখ্যা কমলে খুব একটা ক্ষতি হবেনা, তাইনা?

কি আর হইবে? মরার আগে গরু খাইয়া একটু চিল্লাইবে, সারাবছর গার্মেন্ট বন্ধ থাকলে করোনায় তাগোরে ধরতোনা। গারমেন্ট ফ্যাক্টরিগুলোতো সব কাপড় না বানাইয়া করোনা উৎপাদন করে!!!
গায়ে কাপড় নাই এমন মানুষও শিল্প মালিকদের ফকিরনীর পুত, এমনকি রক্তচোষা বইলা গালি দেয়। তাদের ভাষায় প্রণোদনার ৫ হাজার কোটি খাইয়া পেট নাকি এখনো ভরে নাই। অথচ প্রনোদনা কি এরা কি জানে? কি ছিলো এর শর্ত ?

১- প্রনোদনার পুরো টাকাটা ব্যাংক কাস্টমার রিলেশনের ভিত্তিতে ১ বছরের জন্য ৪% সুদে দেয়া হইছিলো।

২- টাকাগুলো সরাসরি কর্মচারীদের একাউন্টে গেছে বেতন বাবদ। সেই লোনটাও প্রসেস করেছে সেই ব্যাংক যে ব্যাংকে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির শ্রমিকদের বেতনের একাউন্ট আছে।

৩- এই হান্কি পান্কি শর্তে না যাইয়া গত বছরে কাজ না করে হাজার হাজার শ্রমিকরে ৩ মাস বেতন অনেক উদ্যোক্তা পকেট থেকে দিছে। এতো বাজে সময়েও খুব কম কারখানা ছাঁটাই বা লেঅফে গেছে। ইপিজেডের ফ্যাক্টরিগুলোতো সব ইউনিক।
৩- এর বাইরে ক্যাশ ক্যাপিটালের একটা ঋন ছিলো কঠিন শর্তে। যে ব্যাংকে আগে থেকেই মর্টগেজ করে লোন ফ্যাসিলিটি করা আছে সেই ব্যাংক থেকে (অর্থ্যাৎ আবারো ব্যাংকিং কাস্টমার রিলেশনের ভিত্তিতে) বাড়তি ঋন নেয়া। সেই ঋনের ৪% সুদ গ্রহিতা দিবে বাকি ৪% সরকার। এই ঋন সর্বোচ্চ এক বছরের মধ্যে সুদ সহ ফেরত দিতে হবে। বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো পুরো সুদের টাকাটা আগেই কেটে নিয়া গেছে বা ব্লক করে দিছে। এই প্রনোদনা (!) গত জুনে যারা নিলো এই জুলাইয়ে এসে পুরোটা শোধ দিতে হইছে।
এর চেয়ে ভালো রেইটে অফশোর ব্যাংকিং থেকে ঋন নেয় অনেকেই বিদেশী ব্যাংকে থেকে।

পৃথিবীর কোন দেশে ৩-৪% এর বেশী বানিজ্যিক ঋনের সুদ আছে? জানা আছে?
গরু খাইয়া গরুর মগজ মাথায় ঢোকানো গালাগালকারী মানুষের বাচ্চাদের বলছি, হাটে যাইয়া যে করোনায় আক্রান্ত হইয়া হাসপাতালের বেড না পাইয়া ফ্লোরে চিকিত্সাধীনে প্রভুর প্রীয় হইয়া তার ডাকে সারা দিবেন সেই ফ্লোরটাও ব্যবসায়ীদের ট্যাক্সের টাকায়। তাদের গালি না দিয়া নিজেদের দেন। দলকানা না হইয়া ট্রেজারী খালি করইন্নাদের দেন। ব্যবসায়ীদের দিয়েন না। কোন না কোন ভাবে আপনিও আপনার পরিবারের সদস্যরা এই ব্যাবসায়িদের আয়ের কিছুটা হলেও সুবিধাভুগী।

আরেকটা তথ্য দেই। গারমেন্ট ফ্যাক্টরি ও ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ মিলাইয়া আধা কোটির বেশী শ্রমিক আছে। সেইখানে ৩০০০ (তিন হাজার) ও আক্রান্ত হয়নাই গত দেড় বছরে। আর মৃত্যু সেইটাও ৩০ এর বেশী না। কেনো এতো ভালো অবস্থা জানতে হলে একটা ফ্যাক্টরি বা তাদের অফিসের যাতায়াত সহ করোনাকলীন ব্যবস্থাপনা দেখে আসেন। পন্ডিতদের বলছি, ঐ শ্রমিকদের থেকে শিখে আসেন কিভাবে দুর্যোগ মোকাবেলা করতে হয় জীবিকা ঠিক রেখে। এইটা কিন্তু আমেরিকা থেকে এসে বায়াররা কইরা দেয় নাই। এখানকার মালিকরাই করছে। হ্যা আমি করছি, আমরা করছি, নিজেদের টাকায় করছি।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From