রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী- প্রত্যাশা ও প্রাপ্তী

সবুজ আল সাহবা
  • Update Time : সোমবার, ২১ জুন, ২০২১
  • ৫৬ Time View

জাতি গঠনের প্রতিটি সোপান এবং স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে অবদান রাখা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতা অর্জনে নেতৃত্ব দানকারী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭২তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী।

স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় ঐক্যের রুপকার আওয়ামী লীগ বাঙ্গালী জাতির স্বতন্ত্র জাতিরাষ্ট্র ও আত্মপরিচয় প্রতিষ্ঠার সুমহান ঐতিহ্যের প্রতীক। আধুনিক বাংলাদেশ ও আওয়ামী লীগ যেন এক সূতোয় গাঁথা। আওয়ামী লীগের ইতিহাস, রক্তের ইতিহাস। উপমহাদেশের ঐতিহ্যবাহী এ দলের সবচেয়ে বড় শক্তি তার সুবিশাল কর্মী বাহিনী; যারা দেশ ও দলের প্রয়োজনে অতীতে কখনো রক্ত দিতে কুন্ঠাবোধ করেনি। আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে এ দেশের সকল অর্জনই যেন আওয়ামী লীগের কর্মীদের শ্রম ও রক্তের ফসল। মহান স্বাধীনতার সূবর্ণ জয়ন্তীর এ বর্ষে স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্ব দানকারী এ দলের ৭২ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী তাই অন্যরকম গুরুত্ব বহন করে।

১৯৪৭ সালে বৃটিশ শাসনের অবসান এবং পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর মুসলিম লীগের দুঃশাসন ও প্রচন্ড দমননীতির মুখে এক প্রবল বৈরী পরিবেশে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে এম দাশ লেনের রোজ গার্ডেনে এক কর্মী সম্মেলনের ভেতর দিয়ে আনুষ্ঠানিক আত্মপ্রকাশ করে আওয়ামী লীগ।

মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, টাংগাইলের সামচুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং কারাগারে বন্দী অবস্থায় শেখ মুজিবুর রহমান অন্যতম যুগ্ম সম্পাদক নির্বাচিত হন। অচিরেই আওয়ামী লীগ হয়ে উঠে পূর্ব বাংলার জনগণের স্বার্থরক্ষাকারী সুসংগঠিত রাজনৈতিক শক্তি।
প্রতিষ্ঠার সময়ে ”পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” নাম ধারণ করলেও ১৯৫৫ সালে ধর্মনিরপেক্ষতাকে আদর্শ হিসাবে গ্রহণ করে দলের নামকরণ করা হয় “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ”।

৫২’র ভাষা আন্দোলনের বিজয়ের বিজয়ের পটভূমিতে ১৯৫৪ সালে তিন জাতীয় নেতা শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর নেতৃত্বে গঠিত যুক্তফ্রন্টের নিরংকুশ বিজয় গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করে; যার পিছনে আওয়ামী লীগ ছিল মূল চালিকাশক্তি।

কুটিল প্রাসাদ ষড়যন্ত্র ও বিভেদ সত্ত্বেও পূর্ব বাংলার দুই বছরের আওয়ামী লীগ শাসন এবং কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনের এক বছরের শাসন ছিল গণতন্ত্র বিকাশের বিপুল সম্ভাবনার সময়। পূর্ব বাংলায় আওয়ামী লীগ সরকার নিশ্চিত করতে পেরেছিলো এক মুক্ত গণতান্ত্রিক পরিবেশ।

আওয়ামী লীগের উদ্যোগেই তখন বাংলা অন্যতম রাষ্ট্র ভাষার আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রীয় মর্যাদা লাভ করে; ২১ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত হয়- শহীদ দিবস, জাতীয় ছুটির দিন।। শুধু তাই নয়- তৎকালীণ আওয়ামী লীগ সরকারের উদ্যোগেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের নির্মাণ কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়; প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলা একাডেমি।

এ সময়ে তৃণমূল পর্যায়ে দলীয় সংগঠন গড়ে তোলার কাজে আত্মনিয়োগ করার জন্য শেখ মুজিবুর রহমান মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে এক অনন্যসাধারণ দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাই আজও আওয়ামী লীগ তৃণমূলে অত্যন্ত শক্তিশালী গণমানুষের দল হিসেবে পরিচিত।

১৯৫৬ সালের সংবিধানের আন্দোলন, ১৯৫৮ সালের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ১৯৬২ সালের শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলন, দুই দশকের বঞ্চনা, ১৯৬৪ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা এবং ১৯৬৫ সালে সংঘটিত পাক–ভারত যুদ্ধের বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে ১৯৬৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির মুক্তির সনদ ছয় দফা কর্মসূচি উত্থাপন করেন। এই দাবি সমগ্র বাঙ্গালি জাতিকে সহসা সচকিত করে তোলে। শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে স্বায়ত্তশাসন ও স্বাধিকারের এ আন্দোলন অভূতপূর্ব জাতীয় জাগরণের সৃষ্টি করে। ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পড়ে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী।
ফলে ১৯৬৬ সালের মে মাসে শেখ মুজিবসহ আওয়ামী লীগের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়; রুজু করা হয় আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা। ১৯৬৯ সালে ছাত্র সমাজের নেতৃত্বে ৬ দফা ভিত্তিক ১১ দফা আন্দোলন
গণ-অভ্যূত্থানে পরিণত হলে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করতে সরকার বাধ্য হয়। শেখ মুজিব মুক্ত হয়ে ফিরে এলে ছাত্র–জনতা তাঁকে ”বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত করে। এর পরে ১৯৭০ সালের নির্বাচনে ১৬৯ টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনে জয়লাভের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বাংলার জনগণের নিরংকুশ সমর্থন লাভ করে এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবির্ভূত হন বাংলার গণ মানুষের অবিসংবাদিত নেতা হিসেবে।

এরপরই শুরু হয় নতুন ষড়যন্ত্র। বাঙ্গালীদের কাছে তথা আওয়ামী লীগের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর না করার লক্ষ্য থেকেই ১৯৭১ সালের ৩ মার্চ ঢাকায় আহুত জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ১ মার্চ স্থগিত ঘোষণা করা হলে লক্ষ-কোটি বাঙালি স্বাধীনতার দাবিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে স্বাধিকার আন্দোলন রুপান্তরিত হয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। অতঃপর
৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধুর সেই জগৎ বিখ্যাত ভাষন, যার মাধ্যমে কার্যত: তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং স্বাধীনতার লক্ষ্য অর্জনে চুড়ান্ত সংগ্রামের আহ্বান জানিয়ে জাতিকে দেন সুস্পষ্ট দিক- নির্দেশনা। ২৫ মার্চ কালরাতে হানাদার বাহিনী নিরীহ বাঙালির উপর ঝাপিয়ে পড়ে এবং ২৬ মার্চ রাতে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করার পূর্বে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। অত:পর আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে পরিচালিত ৯ মাসের বীরোচিত মুক্তিযুদ্ধের ত্রিশ লক্ষ শহীদদের রক্ত ও দুই লক্ষ মা বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ চুড়ান্তভাবে স্বাধীনতা অর্জন করে।
এভাবেই বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের হাত ধরে বিশ্বের মানচিত্রে স্থায়ীভাবে জায়গা করে নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আর বাঙালি পায় তাঁদের স্বপ্নের স্বাধীনতা ও প্রাণের লাল-সবুজ পতাকা।

স্বাধীনতার পর বস্তুত, ধ্বংসস্তুপে দাঁড়িয়ে শুন্য হাতে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারকে দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করতে হয়। মাত্র ৯ মাসের মাথায় ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা সমৃদ্ধ একটি সংবিধান উপহার দিতে সক্ষম হয়। ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ স্বাধীন দেশের প্রথম অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনে জনগণ রাষ্ট্রের শাসনভার তুলে দেন আওয়ামী লীগ সরকারকে। খুলে যায় সম্ভাবনার নতুন দুয়ার, বাংলাদেশ ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করে। ঠিক সে মূহুর্তে স্বাধীনতার পরাজিত শত্রুরা মরণ আঘাত হানে। দুর্ভাগ্য বাঙ্গালী জাতির; ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট কালরাত্রিতে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। বাংলার মানুষ আবার হোচট খায়। পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বাংলাদেশকে শোষণ করা শুরু করে। তাঁরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করে, একে একে ধ্বংস করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গুলোকে। এমনকি ইন্ডেমনিটি অধ্যাদেশের বৈধতা দিয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করে জিয়া সরকার ন্যায় বিচারের মুখে কালিমা লেপন করে।

পাকিস্তানি প্রেতাত্মারা শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেই থেমে থাকেনি, তাঁরা ৩ নভেম্বর জেলখানার নিরাপদ প্রকোষ্ঠে জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করে এবং সমগ্র বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর চালায় হত্যা, জেল-জুলুম, নির্যাতন-নিপীড়ন, মামলা–হামলা। চেষ্টা করে আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দেয়ার। এমন পরিস্থিতিতে একটি রাজনৈতিক দলের সার্ভাইব করা বিশ্বের ইতিহাসে বিরল। যাহোক এ পরিস্থিতিতে যখন নেতাকর্মীরা কিংকর্তব্যবিমূঢ়, তখনই এ দেশের আশীর্বাদ হিসেবে জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৮১ সালের ১৪,১৫ ও ১৬ ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্মেলনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর ১৯৮১ সালের ১৭ মে আওয়ামী লীগের দায়িত্বভার গ্রহণের জন্য ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং দ্বিধা বিভক্ত এ দলের হাল ধরেন। তাঁর এ হাল ধরার মাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নব উদ্যোগে সংগঠিত হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও বাঙালি জাতির হারানো গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের এক নবতর পথে যাত্রা করে আওয়ামী লীগ।
মানুষের অধিকার আদায়ে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনসহ নানামুখী আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে ২১ বছর পর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে। শেখ হাসিনার এ ক্ষমতায় আসার পথও মসৃণ ছিলোনা। বহুবার তাঁকে হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে, কোটালিপাড়ায় জনসভাস্থলে ৭৬ ও ৮৭ কেজি বোমা পেতে রাখা হয়েছে। শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য ২০০৪ সালে সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা ঘটানো হয়। বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে আওয়ামী লীগের জনসভায় বৃষ্টির মতো গ্রেনেড হামলা করা হয়।এবারও শেখ হাসিনা ভাগ্যগুণে প্রাণে বেঁচে যান, কিন্তু আইভি রহমানসহ দলের অনেকেই নিহত ও আহত হন। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার উপর এসকল আঘাতে আওয়ামী লীগ ৭৫ এর ন্যায় দুর্বল না হয়ে বরং শক্তিশালী হয়েছে। আর তাই ১৯৯৬ এর পর মাঝখানে এক মেয়াদ ক্ষমতার বাইরে থেকে ২০০৯ সাল থেকে অদ্যাবধি টানা ৩ মেয়াদে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের টানা এক যুগেরও বেশি শাসনামলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে দেশ বিদেশে আলোচিত হয়েছে। বাংলাদেশ এখন উন্নয়নের রোল মডেল। শেখ হাসিনার সুযোগ্য ও সুদক্ষ রাষ্ট্র পরিচালনায় স্থিতিশীল অর্থনীতি, কৃষি উন্নয়নে গতিশীলতার মাধ্যমে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন, ডিজিটাল বাংলাদেশ এর স্বপ্নাতীত বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করণ ও এখন পর্যন্ত করোনা মোকাবেলায় সফলতা, বিদ্যুৎ উৎপাদনে বৃদ্ধি, নারীর ক্ষমতায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, পদ্মা সেতু, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, মেট্রোরেলসহ বড় বড় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়নের ফলে বিশ্বের বুকে বাংলাদেশকে একটি আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে করেছে।

পার্বত্য শান্তি চুক্ত ও ভারতের সাথে পানি সমস্যার দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের অসাধারণ অর্জন। এছাড়াও জাতির পিতার হত্যাকান্ডের বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে সাপমুক্ত করা হয়েছে। জঙ্গি দমনেও এসময় বাংলাদেশ বিশ্বের নজর কেঁড়েছে। মাথাপিছু আয় ২২’শ ডলার অতিক্রম করেছে এবং বিশ্বের যেকোন সূচকেই এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল রাস্ট্রে উন্নীত হয়েছে বাংলাদেশ।

প্রায় ৪০ বছর যাবৎ নিরবচ্ছিন্ন নেতৃত্ব দিয়ে, প্রতিনিয়ত মৃত্যু ভয়কে ছিন্ন করে শেখ হাসিনা অসাম্প্রদায়িক ও গণতান্ত্রিক ভাবধারায় আওয়ামী লীগকে পরিচালিত করে কোটি কোটি বাঙালির প্রাণের সংগঠনে পরিণত করেছেন। তিনি আজ বিশ্বনেতাদের অন্যতম হিসেবে নিজেকে দাঁড় করিয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ত্রিশটির মতো আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করে দেশের জন্য গর্ব বয়ে এনেছেন। তবে টানা তিনবার ক্ষমতায় আসার পথে ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপিসহ দেশের বড় বড় দল অংশগ্রহণ না করায় অর্ধেকের বেশি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টি সমালোচিত হয়েছে, ২০১৯ সালের সর্বশেষ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত ছিলোনা- এমন সমালোচনা ও রয়েছে। যদিও সাংবিধানিক বিবেচনায় এসব সমালোচনার সুযোগ নেই।
সাত দশকের লড়াই সংগ্রামের অভিযাত্রায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ গণতান্ত্রিক অধিকার ও অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নিরন্তর সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে। সুশাসন, গণতন্ত্রের অধিকতর উন্নয়ন ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে দেশকে শুধু উন্নত দেশই নয়, সভ্য দেশে রুপান্তরিত করার কাজটি ও আওয়ামী লীগকেই করতে হবে। কারণ আওয়ামী লীগের কাছে বাংলার জনগণের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের অর্জিত সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলার জনগণ বিশ্বাস করে- শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই বাংলাদেশ এক অসাম্প্রদায়িক, উন্নত-সমৃদ্ধ, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাস্ট্র হিসেবে বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।

লেখক- জাহিদুর রহমান
প্রচার সম্পাদক
মুকসুদপুর উপজেলা আওয়ামী লীগ,
গোপালগঞ্জ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From