Loading...

চলে গেলেন চলচ্চিত্র ব্যাক্তিত্ব ‘মিষ্টি মেয়ে’ কবরী

অসম্পূর্ণ অনেক কাজ, অনেক স্বপ্ন রেখেই চলে গেলেন কবরী।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে ১৩ দিনের মাথায় তিনি চলে গেলেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

১৯৬৪ সালে সুভাষ দত্তের ‘সুতরাং’ দিয়ে চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় কবরীর। ১৯৬৫ সালে অভিনয় করেন ‘জলছবি’ ও ‘বাহানা’য়, ১৯৬৮ সালে ‘সাত ভাই চম্পা’, ‘আবির্ভাব’, ‘বাঁশরি’, ‘যে আগুনে পুড়ি’। ১৯৭০ সালে ‘দীপ নেভে নাই’, ‘দর্পচূর্ণ, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘বিনিময়’ ছবিগুলো।

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়ি চলে যান তিনি। সেখান থেকে পাড়ি জমান ভারতে। কলকাতায় গিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে জনমত সৃষ্টি করতে বিভিন্ন সভা-সমিতি ও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেন কবরী। তখনকার স্মৃতি স্মরণ করে একবার কবরী বলেছিলেন, ‘সেখানকার এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অবস্থার কথা তুলে ধরেছিলাম। কীভাবে আমি মা-বাবা, ভাইবোন, আত্মীয়স্বজন সবাইকে ছেড়ে এক কাপড়ে পালিয়ে সেখানে পৌঁছেছি, সে কথা বলেছিলাম। সেখানে গিয়ে তাদের মাধ্যমে বিশ্ববাসীর কাছে আমাদের দেশকে সাহায্যের আবেদন করি।’

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর আবারও চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেন কবরী। শতাধিক ছবিতে অভিনয় করেছেন তিনি। ১৯৭৩ সালে ঋত্বিক ঘটক পরিচালিত ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ সেসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য। নায়ক রাজ্জাকের সঙ্গে ‘রংবাজ’ পায় বেশ জনপ্রিয়তা।

১৯৭৫ সালে নায়ক ফারুকের সঙ্গে ‘সুজন সখী’ ছাড়িয়ে যায় আগের সব জনপ্রিয়তাকে। এরপর কেবলই এগিয়ে চলা সামনের দিকে। জনপ্রিয় ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘আগন্তুক’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘ময়নামতি’, ‘সারেং বৌ’, ‘দেবদাস’, ‘হীরামন’, ‘চোরাবালি’, ‘পারুলের সংসার’। ৫০ বছরের বেশি সময় চলচ্চিত্রে রাজ্জাক, ফারুক, সোহেল রানা, উজ্জ্বল, জাফর ইকবাল ও বুলবুল আহমেদের মতো অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি। ঢাকার চলচ্চিত্র ইতিহাসের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি ছিলেন রাজ্জাক-কবরী।

তাঁদের বিপুল জনপ্রিয়তা ও গ্রহণযোগ্যতা প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কবরী বলছিলেন, ‘আমরা এতটাই আবেগ দিয়ে অভিনয় করতাম যে ছবির প্রতিটি দৃশ্যকেই জীবন্ত করে তুলতাম।’ অভিনয়ের জন্য পেয়েছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার,বাংলাদেশ বিনোদন সাংবাদিক সমিতি বাবিসাস আজীবন সম্মাননাসহ বহু পুরস্কার ও সম্মাননা।

২০০৫ সালে ‘আয়না’ নামের একটি ছবি নির্মাণের মাধ্যমে চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করেন কবরী। এমনকি ওই ছবির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে তিনি অভিনয়ও করেছিলেন। এরপর রাজনীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। ২০০৮ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

মিষ্টি মেয়ে সারাহ বেগম কবরীর মৃত্যুতে  বাংলাদেশ  আওয়ামী সাংস্কৃতিক  লীগ ও ধারা মিডিয়া গভীর শোক প্রকাশ করছে। আমরা তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি জানাচ্ছি গভীর সমবেদনা।

সুত্রঃ সাংবাদিক, চলচ্চিত্র প্রযোজক, সংগঠক আবুল হোসেন মজুমদারের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।

কবরী। এ দেশে এই নামটি উচ্চারণই যথেষ্ট। এক লহমায় চোখে ভেসে ওঠে বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্পের ইতিহাস। হ্যাঁ, তাঁকে আমি এ দেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রধান ইতিহাসই বলবো। যে স্তম্ভটি বাদ দিলে অসম্পূর্ণ নয়, হুড়মুড় করে ধসে পড়বে এই চলচ্চিত্র শিল্পের বেড়ে ওঠা। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলায় ১৯৫০ সালের ১৯ জুলাই জন্মগ্রহণ করেন মীনা পাল (কবরী)। তার বাবা শ্রীকৃষ্ণ দাস পাল, মা শ্রীমতী লাবন্য প্রভা পাল। বোয়ালখালীতে জন্ম নিলেও তাঁর শৈশব ও কৈশর কাটে চট্টগ্রাম নগরীতেই। ১৯৬৩ সালে মাত্র ১৩ বছর বয়সে নৃত্যশিল্পী হয়ে মঞ্চে আসেন মীনা পাল। তখনই সুভাষ দত্তের নজরে পড়েন তিনি। ছবির নায়িকা হতে রাজী হয়ে যান। পর্দা নাম রাখা হয় কবরী।

১৯৬৪ সালে মুক্তি পায় কবরী অভিনীত প্রথম ছবি, সুভাষ দত্ত পরিচালিত “সুতরাং”। দেশে ব্যাপক সাফল্যের পাশাপাশি ছবিটি অর্জন করেছিলো আন্তর্জাতিক পুরস্কার। আর পেছনে তাকাতে হয়নি কবরীকে। এর পরে চলচ্চিত্রের ইতিহাসটা যেন কবরীর ইতিহাস। তাকে বাদ দিলে ১৯৬০ দশকের বাকি অংশ এবং ১৯৭০ দশকের চলচ্চিত্র অর্ধেকের বেশি কমে যাবে। পাশাপাশি চলে আসে নায়করাজের সঙ্গে তার জুটি গড়ে ওঠা। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে সবচেয়ে সফল রোমান্টিক জুটি রাজ্জাক-কবরী। যাদের কোন রকম শুটিং ব্যাতিরেকে, কেবলমাত্র চুক্তিবদ্ধ করে, অফিসে দুজনের ছবি টানিয়েই পুরো ছবির টাকা প্রদর্শকদের কাছ থেকে ঘরে এনেছেন অনেক প্রযোজক এবং পরিবেশক। বলা যেতে পারে এ দেশের চলচ্চিত্রে বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রভাবশালী নায়িকা কবরী। একাধিকবার পেয়েছেন জাতীয় পুরস্কার, বাচসাস পুরস্কার এবং আরও অনেক অনেক পুরস্কার, পদক ও সম্মাননা।
অভিনয়ের পাশাপাশি চলচ্চিত্র পরিচালনাও করেছেন। রাজনীতিতেও ছিলেন সক্রিয়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সারাহ বেগম কবরী। ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর তিনি এ দেশে একটি আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনে সক্রিয় হন। ১৯৯৯ সালে সফল ভাবে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। “বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোট” এর প্রথম সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। এখন এর একাংশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মনে হয় কিছুই লেখা হলো না। নিজের লেখা গুলোই মনে হচ্ছে এলোমেলো। আরও অনেক অনেক লিখলেও শেষ হবে না এই কিংবদন্তির কথা। কিন্তু আজ শেষ হয়ে গেল এই নায়িকার বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের। আজ, ১৭ এপ্রিল, বাংলাদেশ সময় ০০.২০ মিনিটে (১৬ এপ্রিল দিবাগত রাত ১২ টা ২০ মিনিট) করোনা আক্রান্ত সারাহ বেগম কবরী প্রয়াত হয়েছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজেউন। প্রার্থনা করি মহান আল্লাহ যেন তাঁর সকল গুনাহ মাফ করেন এবং তাঁকে বেহেশত নসীব করেন।
সুত্রঃ সাংবাদিক, চলচ্চিত্রকার মুজতবা সউদের ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *