মতিন সাগর, উত্তরা, ঢাকা: গতকাল রাজধানীর উত্তরা ও গাজীপুরের প্রায় ৫০ জন সাংবাদিক ও তরুণ-তরুণীর অংশগ্রহণে গতকাল অনুষ্ঠিত হলো “ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI)” বিষয়ক দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালা। এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন করেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান মিডিয়া ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (MTI)।
প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান প্রশিক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সময়ের আলোচিত ডিজিটাল সাংবাদিক ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক গবেষক জনাব অমৃত মালঙ্গি। তিনি দিনব্যাপী অংশগ্রহণকারীদের জন্য ডিজিটাল সাংবাদিকতায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, অনলাইন সাংবাদিকতার নৈতিকতা, তথ্যের সত্যতা যাচাই (ফ্যাক্ট-চেকিং), ভুয়া তথ্য মোকাবিলা, এবং সাংবাদিকতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাস্তবসম্মত প্রয়োগ নিয়ে প্রাণবন্ত আলোচনা করেন।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার বাস্তবমুখী চর্চা
প্রশিক্ষণের শুরুতে জনাব অমৃত মালঙ্গি বলেন, “আজকের সাংবাদিকতা কেবল কাগজে কলমে সীমাবদ্ধ নয়। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং মোবাইল সাংবাদিকতা সাংবাদিকতার ধরন পাল্টে দিয়েছে। এখন একজন সাংবাদিককে একইসাথে রিপোর্টার, ভিডিওগ্রাফার এবং তথ্য-প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠতে হচ্ছে।”
তিনি অংশগ্রহণকারীদের হাতে-কলমে দেখান কিভাবে AI টুল ব্যবহার করে তথ্য বিশ্লেষণ, শিরোনাম তৈরি, এমনকি পাঠকবান্ধব কন্টেন্ট তৈরি করা যায়। তবে তিনি সতর্ক করে দেন, “AI কখনো সাংবাদিকের বিকল্প নয়। এটি কেবল একটি সহায়ক হাতিয়ার। সাংবাদিকের সততা, দায়িত্বশীলতা এবং নিরপেক্ষতা কোনো প্রযুক্তিই প্রতিস্থাপন করতে পারবে না।”
আয়োজকের বক্তব্য
উত্তরার নূর ক্যাফে অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এই কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন মিডিয়া ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান জনাব ফরিদ আহমেদ নয়ন।
তিনি বলেন, “আমাদের লক্ষ্য দেশের সাংবাদিকদের আধুনিক ও ডিজিটাল সাংবাদিকতায় দক্ষ করে গড়ে তোলা। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে যদি সাংবাদিকরা ডিজিটাল মাধ্যম এবং AI-এর ব্যবহার শিখতে না পারেন, তবে তাঁরা পিছিয়ে পড়বেন। MTI সবসময় সাংবাদিক সমাজের উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণের পাশে থাকবে।”
বিশেষ অতিথির উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ-এর ঢাকা-১৮ আসনের মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আশরাফুল হক।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আমি যদি জনগণের রায়ে নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পাই, তাহলে মানুষের কল্যাণে কাজ করব। সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। তাই আমি সাংবাদিকদের সহযোগিতা ও দোয়া চাই। গণমাধ্যমের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।”
অংশগ্রহণকারীদের অভিজ্ঞতা
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী সাংবাদিক ও তরুণ-তরুণীরা বিষয়বস্তুকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন। এক তরুণ অংশগ্রহণকারী জানান, “AI নিয়ে আমরা নানা কিছু শুনেছি, কিন্তু কিভাবে সাংবাদিকতায় ব্যবহার করা যায়, সেটি হাতে-কলমে শেখা সত্যিই ভিন্ন অভিজ্ঞতা।”
একজন সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, “ডিজিটাল সাংবাদিকতার নতুন ধারা এবং AI-এর ব্যবহার আমাদের কাজকে যেমন সহজ করবে, তেমনি ভুল তথ্য এড়াতেও সাহায্য করবে। তবে সাংবাদিকতার মূল চেতনা যেন হারিয়ে না যায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।”
সার্টিফিকেট প্রদান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীদের হাতে সার্টিফিকেট তুলে দেন আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এ সময় সবাই প্রশিক্ষণ আয়োজনকে সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে আরও দীর্ঘমেয়াদি ও উন্নত প্রশিক্ষণের আহ্বান জানান।
জনাব ফরিদ আহমেদ নয়ন জানান, ভবিষ্যতে MTI দেশের বিভিন্ন বিভাগীয় শহর ও জেলা পর্যায়ে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করবে।
তাঁর ভাষায়, “আমরা চাই প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাংবাদিকরাও যেন ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও AI প্রযুক্তির ব্যবহার শিখতে পারেন। এটি কেবল ব্যক্তিগত উন্নয়ন নয়, বরং সামগ্রিকভাবে দেশের গণমাধ্যমের মান উন্নয়নের একটি বড় পদক্ষেপ।”
উপসংহার
প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির যুগে সাংবাদিকতায় পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। এ পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদেরও নিজেদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে হবে। মিডিয়া ট্রেনিং ইনস্টিটিউট-এর এই আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের কাছে যেমন জ্ঞান ও অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে, তেমনি ভবিষ্যতের সাংবাদিকতাকে আরও গতিশীল ও প্রভাবশালী করে তুলতে সহায়ক হবে বলেই সবার বিশ্বাস।