এ প্রত্যাবর্তন নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এটি কারও কাছে প্রত্যাশার, কারও কাছে আবেগের, আবার কারও কাছে অদম্য কৌতূহলের উপলক্ষ। আমার অরাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে প্রাসঙ্গিক কিছু রাজনৈতিক পাদটীকা বন্ধুদের জন্য তুলে ধরছি:
১। জনাব রহমান আগামী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী হবার সম্ভাব্য রাজনৈতিক অবস্থানে রয়েছেন। চ্যাটজিপিটি জানাচ্ছে, তা যদি হয়, তবে সেটি হবে একটা বিরল ইতিহাস। বাবা এবং মা – দু’জনই রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান ছিলেন, আবার সন্তানও প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন – এ রকম ঘটনা আধুনিক পৃথিবীতে মাত্র একবারই ঘটেছে। তারেক রহমান দায়িত্ব পেলে সেটি হবে বিশ্বের দ্বিতীয় উদাহরণ।
২। দেশের বাইরে অবস্থান করেও টানা ১৭ বছর ধরে কোনো শীর্ষ নেতা একটি বৃহৎ দল পরিচালনা করেছেন – এটি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে বিরলতম দৃষ্টান্ত।
৩। বাংলাদেশ এখন বিশৃঙ্খল পরিবেশ ও ভঙ্গুর অর্থনীতির ভিতর দিয়ে ক্রান্তিকাল পার করছে। গণমানুষের প্রত্যাশা আকাশচুম্বী, যা পূরণ করা মানুষরূপী যে কারো পক্ষেই প্রায় অসম্ভব।
৪। মা-বাবার পরিচয়ের সুবিধা যেমন পাচ্ছেন, তেমনি তাঁদের উত্তরাধিকার থেকে জন্ম নেয়া অতিরিক্ত প্রত্যাশার চাপও তাঁকে বিপুল বেগে মোকাবিলা করতে হবে।
৫। দীর্ঘদিন ক্ষমতা ও সুযোগ-সুবিধার বাইরে থাকা অসংখ্য নেতাকর্মীর মন ও চোখের ক্ষুধা মেটানোর অন্যায্য বাড়াবাড়ি নিয়ন্ত্রণ করার জটিল দায়িত্বও পালন করতে হবে।
৬। ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও বৈষম্যের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, মানবিক মূল্যবোধের চর্চা এবং রাজনীতিজীবীদের প্রকৃত অর্থে রাজনীতিবিদে রূপান্তরের কঠিন চ্যালেঞ্জ অনেকটা একা হাতে সামলাতে হবে।
৭। বাংলাদেশ অপার সম্ভাবনার দেশ। চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের সুবিধাকে ঠিকমতো এনক্যাশ করতে হবে। তথ্য-প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষাকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি হাতকে বিশ্বমানের দক্ষ কর্মীর হাতে রূপান্তরের সুস্পষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি।
৮। রাগ, ক্ষোভ, অনুরাগ ও বিরাগের উর্ধ্বে উঠে সবাই মিলে অন্তর থেকে একসাথে বলতে হবে – ইয়েস, উই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।
৯। ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা হলো, ইতিহাস থেকে কেউ তেমন একটা মজবুত শিক্ষা নেয় না। দ্রুত অতীত কিংবা বৃদ্ধ হয়ে যাওয়া ইতিহাসের আরেকটি বিশেষ দুর্বলতা। ৪৭, ৭১, ৭৫, ৯০ এবং ২৪ এর মাইলফলকগুলো অন্তরে ধারণ করতে হবে, লালন করতে হবে এবং নিয়মিত সরেজমিন পরিদর্শন জারি রাখতে হবে। সততা, মানবিকতা আর জনমানুষের ভালবাসা থাকলে নিজেকে ও দেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।
১০। মনে রাখতে হবে, আজকের এই ফেরা একটি অনন্য ঘটনা, যা বাংলাদেশ ও বিশ্ব দেখছে, লিখছে এবং মনে রাখবে। তবে Robert Browning এর The Patriot কবিতার জনগণের চেয়েও আমাদের জনগণ বেশি আবেগি, বেশি অকৃতজ্ঞ – এ কথাও ভুলে গেলে চলবে না।
ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ
সবাই মিলে চলুন গড়ি সুখী বাংলাদেশ।