বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ০৩:২২ অপরাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম
আবারও ছোটপর্দায় শুরু হচ্ছে দেবাশীষের ‘পথের প্যাচালী’ নাসা গ্রুপ ধসের আড়ালে সাইফুল এর কলকাঠি শেখ হাসিনা-টিউলিপ সিদ্দিক এর বিরুদ্ধে প্লট দুর্নীতি মামলার রায় আজ ক্ষমতায় গেলে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ ও পদ্মা ব্যারেজ করার প্রতিশ্রুতি তারেক রহমানের নির্বাচনে সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক কার্ড পেতে আবেদন করবেন যেভাবে যশোর চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে মামলার আসামিদের অপহরণের চেষ্টা, বাদী ধরা নসিমন দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল তরুণের, ফতেপুরে সড়ক দুর্ঘটনা বোয়ালমারীতে যৌথবাহিনীর অভিযানে যুবদল নেতা আটক, উদ্ধার অবৈধ অস্ত্র ঢাকা-৮-এ প্রচারে নাসীরুদ্দীনের তীব্র আক্রমণ: অপরাধীদের তালিকায় শীর্ষে মির্জা আব্বাস যে কারণে প্লেব্যাক থেকে সরে দাঁড়ালেন অরিজিৎ সিং

ইরানে সাধারণ বিক্ষোভ গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে

ডেস্ক রিপোর্ট
  • প্রকাশ সময়ঃ মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী, ২০২৬
তেহরানের রাস্তায় মানুষের ঢল। ছবি: সংগৃহীত

ইরানের তলানিতে ঠেকে যাওয়া অর্থনীতি এবং মুদ্রার রেকর্ড দরপতনের প্রতিবাদে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই আন্দোলনে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে এ পর্যন্ত শত শত মানুষ নিহত হয়েছেন এবং গ্রেফতার হয়েছেন ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ।

প্রথমে নিত্যপণ্যের দাম কমানোর দাবিতে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নামলেও, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই আন্দোলন বর্তমান ইসলামি শাসনব্যবস্থা ও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির বিরুদ্ধে এক দফার আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।

বিক্ষোভের শুরুটা হয়েছিল গত ২৮ ডিসেম্বর তেহরানের প্রধান প্রধান বাজারগুলো থেকে। দেশটির জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের মান মার্কিন ডলারের বিপরীতে ১৪ লাখ ২০ হাজারে নেমে গেলে বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে আন্দোলনে নামেন। পরদিনই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য বড় শহরগুলোতে। এর জেরে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান মোহাম্মদ রেজা ফারজিন পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

৩০ ডিসেম্বর প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলেও সাধারণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। বরং ৩১ ডিসেম্বর থেকে বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ সহিংস রূপ নিতে শুরু করে।

নতুন বছরের শুরুতেই ১ জানুয়ারি আন্দোলনে প্রথম প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। লরেস্তান প্রদেশের আজনা শহরসহ বেশ কিছু এলাকায় অন্তত সাতজন নিহত হওয়ার তথ্য জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২ জানুয়ারি যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে এক সতর্কবার্তায় জানান, ইরান যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা চালায়, তবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের উদ্ধারে এগিয়ে আসবে। এরপর থেকে ইরানের ৩১টি প্রদেশের মধ্যে প্রায় সব কটিতেই বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।

৩ জানুয়ারি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি বিক্ষোভকারীদের কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে তাদের ‘দাঙ্গাবাসী’ হিসেবে অভিহিত করেন। খামেনির এই বক্তব্যের পর নিরাপত্তা বাহিনী আরও কঠোর অবস্থান নেয়।

৮ জানুয়ারি সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট সেবা এবং আন্তর্জাতিক টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। মানবাধিকার সংস্থা এইচআরএএনএ এবং ইরান হিউম্যান রাইটস-এর তথ্যমতে, এই ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের সুযোগে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক দমন-পীড়ন চালিয়েছে।

১০ জানুয়ারি নাগাদ নিহতের সংখ্যা শতাধিক বলে জানানো হলেও, ১১ ও ১২ জানুয়ারির মধ্যে এই সংখ্যা ৫৫০ ছাড়িয়ে গেছে বলে দাবি করছেন অধিকারকর্মীরা। কোনো কোনো সূত্রমতে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২ হাজার বা তারও বেশি হতে পারে।

বর্তমানে তেহরানের গ্র্যান্ড বাজারসহ বিভিন্ন শহরের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো অচল হয়ে আছে। এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার প্রস্তাব দিলেও দমন-পীড়ন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। দেশটির বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এক চরম সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছে।

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
March 2026
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
232425262728