মোঃ আরিফুল ইসলাম (বিশেষ প্রতিনিধি): ৫ আগস্ট পরবর্তী বিপ্লবোত্তর নতুন বাংলাদেশের পুলিশ বাহিনী যখন ভঙ্গুর , চারদিকে যখন মব জাস্টিস নামের হিংস্রতা, থানাগুলো পুড়ে অঙ্গার, ১৭ বছরের স্বৈরাচারী পুলিশ অধিকর্তারা পলাতক, জাতির এমন এক ক্রান্তিকালে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর হাল ধরলেন বাহারুল আলম, বিপিএম, বর্তমান আইজিপি।
সারা জীবন সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালনকারী একজন দৃঢ়চেতা পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে তিনি পূর্বথেকেই পরিচিত। দেশ বিদেশে চাকরী করে বয়ে এনেছেন অনেক সুনাম ও রেমিটান্স। চরম ছিদ্রান্বেষীরাও বাহারুল আলম সম্পর্কে তেমন কিছু না পেয়ে কিছু স্বার্থান্বেষী কুচক্রীমহল পেইড সোশ্যাল মিডিয়া একটিভিস্ট দিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছেন বিভিন্ন মহলে।
অনেকে বলেন পুলিশে এতো কর্মকর্তা থাকতে চুক্তিভিত্তিক আইজিপি কেনো?
তারা হয়তো জানেন না, জুলাই পরবর্তী সময়ে পুলিশের আইজিপি জেলে, প্রায় সকল অতিরিক্ত আইজিপি পলাতক, মামলার আসামী,অথবা ফ্যাসিস্ট সমর্থক। এর বাইরে যারা ছিলেন তারাও দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত অথবা আউট অফ সার্ভিস। একটি শৃঙ্খলা বাহিনীতে প্রতিটি ধাপে চাকরী করার অভিজ্ঞতা না থাকলে অনেক গ্যাপ থেকে যায়। যার ফলে বাহিনীকে সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পরে। এমনি এক পরিস্থিতিতে অনেক অফিসারকে রাতারাতি দুই,তিন ধাপ অতিক্রম করে অতিরিক্ত আইজিপি বানানো হলেও তাদের বাহিনী পরিচালনায় পর্যাপ্ত দক্ষতা অর্জিত হয়নি। তাই, আইজিপি হিসেবে একটা বাহিনী পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতা না থাকায় বর্তমান সরকার অতীতে সুনামের সাথে চাকরী করা অফিসারদের মধ্য থেকে দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার আলোকে একজন যোগ্য ব্যক্তিকেই বেছে নিয়েছেন। যিনি বিগত এক বছরে প্রায় ভঙ্গুর পুলিশ প্রাশসনকে খাদের কিনার থেকে তুলে এনেছেন এবং দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে পুলিশ বাহিনীকে পূনর্গঠনে একনিষ্ঠ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছেন।
একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র ব্যবস্থা গঠনে আইনশৃঙ্খলার উন্নতি অপরিহার্য। এই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার একমাত্র হাতিয়ার পুলিশ। যারা রাষ্ট্রকে দূর্বল করতে চায় তারা চায় পুলিশ বাহিনীকে দূর্বল করতে। আর একটা বাহিনীকে দূর্বল করতে বাহিনী প্রধানকে ঘায়েল করলে কাজটি খুবই সহজ হয়। যারা এই রাষ্ট্রকে দূর্বল বা অকার্যকর দেখতে চায় তাদের উদ্দেশ্য গভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে বর্তমান আইজিপিকে দূর্বল করে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে দূর্বল করা।
না হলে কেনো উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানোর এই অপচেষ্টা!
বর্তমানে আমাদের দেশ এক চরম ক্রান্তিকাল পার করছে। জাতির এ চরম ক্রান্তিকালে নিকট অতীতের সকল আইজিপির বদনাম ছাপিয়ে ব্যক্তি ইমেজ এবং দক্ষতার বলে যিনি পুলিশ বাহিনীকে আলোর পদ দেখানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তাকেই ঘায়েল করার হীনচেষ্টায় মত্ত রয়েছেন কিছু কুচক্রীমহল। তাদের এই হীনচেষ্টা একান্তই দেশ বিরোধী ষড়যন্ত্রেরই অংশ।
পুরোজাতি যখন নির্বাচনের জন্য উম্মুখ, বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী যার নেতৃত্বে একটি সুশৃঙ্খল নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য তৈরী, তাকে নিয়ে মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছাড়ানো যথাসময়ে নির্বাচন বানচালেরও একটা সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রের অংশ।
যেখানে আর মাত্র দুমাসের মধ্যে একটা জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের সার্বিক প্রস্তুতি চলমান সেখানে পুলিশের আইজিপিকে নিয়ে মিথ্যা এবং বানোয়াট তথ্য ছড়িয়ে বাহিনীকে দূর্বল করার হীন চেষ্টা প্রতিহত করে পুলিশ বাহিনীকে শক্তিশালী করতে সকলকে এগিয়ে আসতে হবে