বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন

জ্বিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন কি সম্ভব? কিভাবে সম্ভব?

কে এম মোবারক হোসেন প্রিন্স
  • প্রকাশ সময়ঃ সোমবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫
প্রশ্নঃ জ্বিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন কি সম্ভব? কিভাবে সম্ভব?
প্রশ্ন : কোনো ঘুমন্ত মহিলার সাথে কি জিন সহবাস করতে পারে?
উত্তর :
ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, জিন জাতি মানুষের মতোই পুরুষ ও স্ত্রী জাতিতে বিভক্ত। জিনরা মানুষের সাথে বিভিন্নভাবে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারে, এমনকি শারীরিক সম্পর্কের বিষয়টিও কিছু বর্ণনায় উঠে এসেছে। তবে, এই বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে।
কিছু কিছু ইসলামিক স্কলার মনে করেন যে, জিনের সাথে মানুষের শারীরিক সম্পর্ক সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে তারা বলেন যে, জিন এবং মানুষ দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন সৃষ্টি, এবং তাদের শারীরিক গঠন ও প্রকৃতি একে অপরের সাথে সঙ্গম করার জন্য উপযুক্ত নয়।
অন্যদিকে, কিছু বর্ণনায় এমন ঘটনার কথা বলা হয়েছে, যেখানে জিনরা মানুষের সাথে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে বলে দাবি করা হয়েছে। তারা বলেন, জাগ্রত ও ঘুমন্ত উভয় অবস্থায় মহিলার সাথে জিন সহবাস করতে পারে।
আর মানুষের সাথে জিনের মিলন সম্ভব বলেই রাসূল (সা.) মিলনের পূর্বে দুআ শিখিয়ে দিয়েছেন— ‘আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা’ (বুখারী হা/৫১৬৫; ফাতহুল বারী।
জ্বিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন সম্ভব। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
فِيهِنَّ قَاصِرَاتُ الطَّرْفِ لَمْ يَطْمِثْهُنَّ إِنسٌ قَبْلَهُمْ وَلَا جَانٌّ
‘তথায় (জান্নাতে) থাকবে আয়ত নয়না রমনীগণ, কোনো জিন ও মানব পূর্বে যাদের ব্যবহার করেনি।’
(সুরা আর-রহমান -৫৬)
এই আয়াতের ব্যাখ্যায় ইমাম বাগাবী তাফসীরে বাগাবীতে লিখেছেন,
في الآية دليل على أن الجني يغشى كما يغشى الإنسي.
“এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, মানুষের মতো জিনের সাথেও মানুষের শারীরিক মিলন সম্ভব।” (তাফসীরে বাগাবি : ৪/২৭৫)
ইমাম খাযেন তাফসীরে খাযেনে লিখেছেন,
في الآية دليل على أن الجني يغشى كما يغشى الإنسي.
“এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, মানুষের মতো জিনের সাথেও যৌন সঙ্গম সম্ভব।” (৬/৩১)
ইমাম ইবনুল জাওযী রহ. লিখেছেন,
فيه دليل على أن الجني يغشى المرأة كالإنس
“এই আয়াতে দলীল রয়েছে যে, জিনের সাথে মানুষের শারীরিক মিলন সম্ভব।” (যাদুল মাসীর, ৪/২১৪)
আর মানুষের সাথে জিনের মিলন সম্ভব বলেই রাসূল (সা.) মিলনের পূর্বে দুআ শিখিয়ে দিয়েছেন— ‘আল্লাহুম্মা জান্নিবনিশ শায়তানা ওয়া জান্নিবিশ শায়তানা মা রাযাক্বতানা’ (বুখারী হা/৫১৬৫; ফাতহুল বারী।
ইমাম ইবনে তাইমিয়ার রহ. বলেন,
وصرعهم للإنس قد يكون عن شهوة وهوى وعشق كما يتفق للإنس مع الإنس وقد يتناكح الإنس والجن ويولد بينهما ولد
“মানুষের মতো জিনের সাথেও শারীরিক সম্পর্ক হতে পারে আবেগ বা প্রেম-ভালোবাসার কারনে। এমনিভাবে জিন ও মানুষের মাঝে বিবাহ ও সন্তানও হতে পারে।” (মাজমাউল ফাতাওয়া, ১৯/৩৯)
ইমাম সুয়ূতী রহ. বলেন, মানুষের সাথে জ্বিনের শারীরিক সম্পর্ক করা সম্ভব। (আল আলাম, পৃ. ৩০১)
শায়খ উসাইমীন রহ. বলেন,
يقول العلماء: إن هذا ممكن، وإنه يمكن للجني أن يجامع امرأة، وإنها تحس بذلك، وكذلك الإنسي يجامع الجنية، الشيخ ابن عثيمين من لقاءات الباب المفتوح، لقاء رقم(٥)
আলেমগণ বলেছেন, কোনো পুরুষ জিন কোনো মহিলা মানুষের সাথে যৌন মিলনে সক্ষম, এমনিভাবে কোনো পুরুষ মানুষ কোনো মহিলা জিনের সাথে যৌন মিলনে সক্ষম। তারা সেটা অনুভবও করতে পারে।
বাস্তবতার নিরিখে দেখা যায় জ্বিন যখন কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে তখন তা ঘুমন্ত ও জাগ্রত উভয় অবস্থাতেই হতে পারে
(১) ঘুমন্ত অবস্থায়:
কোনো জ্বীন যদি কোনো মানুষকে পছন্দ করে তখন ওই জ্বীন সব সময় তার আশেপাশে থাকে।সে যখন ঘুমায় তখন আসে। ঘুমের মধ্যেই শারীরিক সম্পর্ক করে। রোগী তখন বাস্তবতা অনুভব করতে পারে কিন্তু কাউকে দেখে না এবং বলার মতো অনুভূতি শক্তি থাকে না। অর্থাৎ স্বপ্নদোষের মাধ্যমে হয়। তখন অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয়। এটা অনেক সময় বদনজরে আক্রান্ত বা যাদুগ্রস্ত হলে অতিরিক্ত স্বপ্নদোষ হয়। নারী পুরুষ উভয়ের হয়।
(২) জাগ্রত অবস্থায়:
রোগীর শরীর সাময়িকের জন্য অবশ হয়ে যায় বিশেষ করে তার হাত-পা। আর জ্বীন যখন তার সংগে মিলন করে যা রোগী বুঝতে পারে কিন্তু কাউকে ডাক দেওয়া বা কিছু করার উপায় থাকেনা। জাগ্রত অবস্থায় মিলনের সময় জ্বীনকে রোগী দেখতেও পারে, নাও দেখতে পারে। তবে অনুভব হয়।মিলনের সময় যৌনাঙ্গে গরম বাতাসের মত অনুভূত হয়।
আরো বিশেষ কিছু লক্ষ্মণ যা রোগীর মাঝে পরিলক্ষিত হয়
(১) জ্বীনরা দীর্ঘক্ষণ সঙ্গম করে। তাই এই সঙ্গমের পরে রোগী দুর্বল হয়ে যায়, খুব শুকিয়ে যায়, শরীরে ব্যথা অনুভব করে অনেক। এসব লক্ষণ নারী পুরুষ সকলের অনুভব হয়।
(২) রোগী গায়ে বিভিন্ন জায়গায় লাল দাগ দেখা যায়। খামচি বা কামড়ের দাগ। বিশেষ করে গলার নিচের দিকে। শারীরিক সম্পর্ক না হলেও এ রকম দাগ দেখা যায়।
(৩) রোগীর স্মৃতি শক্তি কমে যায়, খাওয়ায় অনীহা সৃষ্টি হয়, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় এবং পড়াশোনা ও সংসারের প্রতি অমনোযোগী হয়ে যায়।
(৪) পুরুষ জ্বীন দ্বারা আক্রান্ত মেয়েরা সাধারণত পুরুষদের পছন্দ করে না। একাকী থাকতে পছন্দ করে। বিবাহিত মেয়েরা স্বামী থেকে দুরে থাকতে পছন্দ করে।অনেক সময় স্বামীর সাথে মিলনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলে।অবিবাহিত মেয়ের সাথে জ্বীন শারীরিক সম্পর্ক করলে সেই মেয়ে বিয়ে বসতে চায় না।
এছাড়াও আরো অনেক আলামত রয়েছে ভুক্তভোগীগনই তা অনুভব করে।

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর