বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০২:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘হাবিবি’ নিয়ে আসছেন নুসরাত ফারিয়া “এসো নিজেকে নিজে চিনি” পরিবার আয়োজিত বাউল গানের প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালে ২০ অক্টোবর শুধুমাত্র অনুদানের সিনেমা দিয়েই মুখর সিনেপাড়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে ‘বাংলাদেশকে আমরা পাপুয়া নিউগিনির চেয়ে ওপরে দেখি না’: স্কটল্যান্ড কোচ শেন বার্জার টি ২০ বিশ্বকাপ ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ শুরু ইভ্যালির ওয়েবসাইট-অ্যাপ বন্ধের ঘোষণা কুমিল্লার ঘটনার পেছনের কারণ খোঁজা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না’ এটাই বাস্তব

একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ড. ইনামুল হক’র চির বিদায়

ফিরোজ আলম
  • প্রকাশ সময়ঃ সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০২১
  • ৮৫ বার পড়া হয়েছে

একুশে পদকপ্রাপ্ত গুণী অভিনেতা, নাট্যকার, নির্দেশক ও শিক্ষক ড. ইনামুল হক চির বিদায় জানিয়ে চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আজ দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে হঠাৎই মৃত্যুবরণ করেন এই গুনী নাট্যব্যক্তিত্ব। আজ তার এই বিদায়ের মধ্যে দিয়ে নাট্যাঙ্গনের একটি স্বর্নালী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো।

ইনামুল হক ভাষা, স্বাধীনতা, সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনেও ভূমিকা রেখেছিলেন। ’৬২’র শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৯’র গণঅভ্যুত্থান, ’৭০’র নির্বাচন এবং ’৭১’র মুক্তিযুদ্ধে তিনি অংশগ্রহণ করেছেন।

১৯৪৩ সালের ২৯ মে ফেনী সদরের মটবী এলাকায় ওবায়দুল হক ও রাজিয়া খাতুনের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন ইনামুল হক। ফেনী পাইলট হাইস্কুল থেকে এসএসসি, ঢাকার নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি এবং পরবর্তীকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগ থেকে তিনি অনার্স ও এমএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে মানচেস্টার ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি লাভ করেনন ড. ইনামুল হক।বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা পেশায় নিয়োজিত থাকার সময় ১৫ বছর রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং দুই বছর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নটরডেম কলেজে পড়াকালীন তিনি প্রথম মঞ্চে অভিনয় করেন। ফাদার গাঙ্গুলীর নির্দেশনায় তখন তিনি ‘ভাড়াটে চাই’ নাটকে প্রথম অভিনয় করেন। ১৯৬৮ সালে প্রতিষ্ঠিত ‘নাগরিক নাট্যসম্প্রদায়’র অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন তিনি। দলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন ড. ইনামুল হক। এই দলের হয়ে প্রথম তিনি মঞ্চে অভিনয় করেন আতাউর রহমানের নির্দেশনায় ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রো’ নাটকে। এরপর এই দলের হয়ে ‘দেওয়ান গাজীর কিসসা’, ‘নূরুল দীনের সারা জীবন’সহ আরো বহু নাটকে অভিনয় করেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এই দল থেকে বের হয়ে প্রতিষ্ঠিত করেন ‘নাগরিক নাট্যাঙ্গন’। বর্তমানে দলটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন গুণী এই নাট্যজন।

ইনামুল হক অভিনীত প্রথম টিভি নাটক মোস্তফা মনোয়ার পরিচালিত ‘মুখরা রমনী বরশীকরণ’। তার লেখা প্রথম নাটক ‘অনেকদিনের একদিন’ নির্মাণ করেন আব্দুল্লঅহ আল মামুন। দেশ স্বাধীনের পর বিটিভির প্রথম নাটক ‘বাংলা আমার’ এবং একুশের প্রথম নাটক ‘মালা একশত মালঞ্চের’র তারই লেখা ছিলো।

একটি সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন নাটক সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার এই বাক্যটি মনে প্রাণে বিশ্বাস করতেন তিনি। ড. ইনামুল হকের পুরো পরিবারই সংস্কৃতি জগতের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন। তার দাম্পত্য সঙ্গী দেশের আরেক বরেণ্য নাট্যজন লাকী ইনাম। তাদের সংসারে দুই মেয়ে হৃদি হক (স্বামী লিটু আনাম) আর প্রৈতি হক (স্বামী সাজু খাদেম)। তারাও নাটকের সাথেই জড়িত। বড় মেয়ে হৃদি হক চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তার প্রথম সিনেমার কাজ প্রায় শেষ করে এনেছেন।

৭৮ বছর বয়সে পরপারে পাড়ি জমানো এই গুনী নাট্যব্যক্তিত্ব তার কাজের মধ্য দিয়ে বেচে রইবেন অনন্তকাল এই কামনা রইলো।

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From