সোমবার, ২৫ অক্টোবর ২০২১, ১০:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘হাবিবি’ নিয়ে আসছেন নুসরাত ফারিয়া “এসো নিজেকে নিজে চিনি” পরিবার আয়োজিত বাউল গানের প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালে ২০ অক্টোবর শুধুমাত্র অনুদানের সিনেমা দিয়েই মুখর সিনেপাড়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে ‘বাংলাদেশকে আমরা পাপুয়া নিউগিনির চেয়ে ওপরে দেখি না’: স্কটল্যান্ড কোচ শেন বার্জার টি ২০ বিশ্বকাপ ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ শুরু ইভ্যালির ওয়েবসাইট-অ্যাপ বন্ধের ঘোষণা কুমিল্লার ঘটনার পেছনের কারণ খোঁজা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না’ এটাই বাস্তব

অদ্ভুত উটের পিঠে আমাদের মিডিয়া: সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী

জ.নি. ডেস্কঃ
  • প্রকাশ সময়ঃ শনিবার, ২৪ জুলাই, ২০২১
  • ৭০ বার পড়া হয়েছে

প্রজাপতির পাখা থেকে সৃষ্ট কিঞ্চিৎ হাওয়ার সমন্বিত ফল ঘূর্ণিঝড়। এটা আমরা অনেকেই জানি। তারমানে পৃথিবীতে সামান্য কিংবা নগণ্য বলে আসলেই কিছু নেই। সবকিছুরই একটা আফটার ইফেক্ট আছে। আমি মিডিয়ার মানুষ। মিডিয়া বলতে গণমাধ্যম এবং এর নানা শাখা। বিনোদন জগতও মিডিয়ার অংশ। ভুলে হোক কিংবা দুরন্ত স্বপ্নের তাগিদে, সাংবাদিকতার নানাকিছু যেমন গত ৩২ বছর যাবত শিখছি, তেমনিভাবে চার বছর বয়স থেকে সঙ্গীতের সাথে আর ১৯৯৭ সাল থেকে বিনোদন জগৎ কিংবা টেলিভিশনের সাথে আত্মীয়তা চলছে। ছাত্রজীবন থেকেই ফিল্ম সোসাইটি বা ফিল্ম ক্লাব আন্দোলনের সাথে ছিলাম। ১৯৮০ সালে এই ঢাকা শহরে যে’কটা ফিল্ম ক্লাব ছিলো তার একটার প্রতিষ্ঠাতাও আমি। বাংলাদেশ সরকারের নিবন্ধন নম্বর ৫।

আগের লেখায় বলেছি, টেলিভিশনের যুগ দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। কেউ একজন আমার সাথে দ্বিমত পোষণ করে বলেছে নিউজ এবং খেলাধুলা দেখার তাগিদে মানুষ টেলিভিশন দেখবে। একারণেই নাকি টেলিভিশনের যুগ শেষ হবেনা। ভুল! এক সময় মানুষ নিউজ আর খেলাধুলার খবর জানতে রেডিওর আশ্রয় নিতেন। এখন রেডিও হারানোর পথে। ঠিক একইভাবে আর ২-৩ বছর পর নিউজ কিংবা স্পোর্টস চলে যাবে মোবাইল ফোনে কিংবা ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে। তারমানে এগুলোর জন্যেও আর টেলিভিশনের প্রয়োজন থাকবে না।

যেহেতু আমি নিজেও এখন বিনোদন সেক্টরের সাথে সম্পৃক্ত তাই এর ভবিষ্যত নিয়ে আমায় ভাবতেই হয়। প্রথমেই বলে নিই, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র এবং নাটক সেক্টরে বর্তমানে কর্মরত মানুষের সংখ্যাটা কয়েক হাজার। এক সময় চলচ্চিত্র প্রযোজনা কোম্পানিগুলোর আস্তানা ছিলো গুলিস্তান এলাকায়। মিউজিক কোম্পানিগুলোর পাটুয়াটুলিতে। এরপর ফিল্ম কোম্পানিগুলো সরে আসতে শুরু করলো কাকরাইল এলাকায় আর অডিও প্রযোজনা কোম্পানীগুলো পাটুয়াটুলি ত্যাগ করে ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলো এখানে-ওখানে। এখন অডিও প্রযোজনা কোম্পানিগুলো আর নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় নেই। চলচ্চিত্র প্রযোজনা কোম্পানিগুলো এখনও মূলত কাকরাইল এলাকাতেই। কিন্তু নাটক প্রযোজনার প্রায় সব কোম্পানী ক্রমশ নিকেতন এলাকায় চলে আসছে। এক সময়ের হাতিরঝিলের জলাশয় আজকের নিকেতন আবাসিক এলাকা। বর্তমানে এই এলাকায় মিডিয়া কোম্পানীর সংখ্যা সম্ভবত প্রায় এক শ। আগামীতে আরো বাড়বে। তারমানে বোঝাই যাচ্ছে, এই সেক্টর ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

বাংলা চলচ্চিত্র এবং নাটকের আগামী গন্তব্য ইউটিউব চ্যানেল আর ওটিটি প্ল্যাটফর্ম। টেলিভিশন চ্যানেল নয়। আমাদের এখানকার ইউটিউব চ্যানেলগুলোর জনপ্রিয়তা এখন বাংলাদেশের সীমানায় আটকে নেই। পশ্চিম বঙ্গের লাখলাখ বাঙ্গালী বাংলাদেশী ইউটিউব চ্যানেলে নাটক দেখতে ভালোবাসেন। আগে আমাদের গানগুলোও ওরা শুনতেন। এখন খুব একটা শোনেননা। কারণ, সঙ্গীতের নামে আমরা ফাজলামো করছি বেশ ক’বছর থেকেই। নকল সুর, শ্রীহীন লিরিক্স আর এর সাথে প্রায় পাল্লা দিয়ে সঙ্গীত না জানাদের তাণ্ডবে আমাদের সঙ্গীত এরই মাঝে সম্মান হারাতে বসেছে। অডিও প্রযোজনা কোম্পানিগুলো দেখছে গানে বিনিয়োগ করাটা পুরোপুরি লোকসান। তাই ওরা গানের বদলে নাটক নিয়ে ব্যস্ত। এটা করতে ওরা বাধ্য হয়েছে এবং হচ্ছে। আমাদের অডিও সেক্টরকে ধ্বংসের জন্যে টেলিভশন চ্যানেলগুলোর লাইভ অনুষ্ঠানও কম দায়ী নয়। প্রায় প্রতিরাতেই কোনো না কোনো শিল্পী চ্যানেলে হাজির। কয়েক ঘন্টাজুড়ে লাইভ গান নিয়ে। মানুষ একই গান অনেক জায়গায় শুনবে কেনো? একারণেই লাইভমুখী শিল্পীদের ইউটিউব ভিউজ কমে যাচ্ছে। আর গানের সেক্টরে গীতিকার এবং সুরকারদের রয়ালটি তো কোনো কালেই ছিলোন। এখনও নেই। গান মানেই যেনো কণ্ঠশিল্পীর একক স্বত্ব। অথচ ওই গানের যারা স্রষ্টা – গীতিকার ও সুরকার, ওনাদের নামটাও আজকাল চ্যানেলের লাইভে শিল্পীরা উচ্চারণ করতেও কুণ্ঠিত।

বাংলা চলচ্চিত্র এবং নাটকের ভবিষ্যত নির্ভর করছে ইউটিউব আর ওটিটি প্ল্যাটফর্মে। এখানেও একটা বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতে হবে। ইউটিউব চ্যানেলে যেমন আমরা টেলিভিশন চ্যানেলে দেখানো নাটকই দেখাতে পারছি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ক্ষেত্রে এটা সম্ভব নয় একদম। এমনকি টেলিভিশন চ্যানেলে চলা ধারাবাহিক নাটকও ওটিটি প্ল্যাটফর্মে অচল। কারণ কি? আগেই বলেছি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে সিনেমা হল, সেটা টেলিভিশন সেট, কম্পিউটার কিংবা মোবাইল ফোন যেখানেই হোক। অর্থাৎ, ওই প্ল্যাটফর্মের জন্যে নির্মিত সবকিছু হতে হবে ফিল্মী। সবকিছুতেই একটা ফিল্মী ঘ্রাণ বা ফিল্মী ছোঁয়া থাকতে হবে। যারা নেটফ্লিক্স কিংবা আমাজন ওটিটি প্ল্যাটফর্ম দেখেন, ওনারা বুঝবেন, ওগুলোর সিরিজগুলোর সাথে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোয় প্রচারিত ধারাবাহিকগুলোর পার্থক্য। দুটোর নির্মাণ ফর্মেটই আলাদা। ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলোর কন্টেন্ট গুলোর নির্মাণে ওয়াইডনেস (wideness) থাকতে হবে, যা সিনেমায় দেখা যায়। তারমানে, দর্শকরা যখন একটা সিরিজও দেখছেন, ওনাদের মনে হবে সিনেমা দেখছেন। কারণ আগেই বলেছি, ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হচ্ছে ডিজিট্যাল সিনেমা হল।

এবার বাণিজ্যিক বিষয়টায় আসি। আমাদের চলচ্চিত্রের ভালো সময়ে সারাদেশে সিনেমাহলের সংখ্যা কতো ছিলো? দশ হাজারেরও অনেক কম। একটা সুপারহিট সিনেমা মোট কজন দর্শক দেখতেন? গড়ে ত্রিশ লাখের বেশী না। আর এখন শুধু বাংলাদেশেই মানুষের হাতে আট কোটির বেশী মোবাইল ফোন, যার অন্তত ষাট ভাগ স্মার্টফোন। পাশের দেশ পশ্চিমবঙ্গে বাঙ্গালী আছেন প্রায় নয় কোটি। ওনাদের হাতেও চার কোটির বেশী মোবাইল ফোন। তারমানে, বাংলা ভাষাভাষী সম্ভাব্য দর্শকের সংখ্যাটা স্মার্টফোনেই ১১ কোটির বেশী। একটা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে যদি মাত্র দু’কোটি সাবসক্রাইবার থাকেন তাহলে প্রতি মাসে যে পরিমাণ টাকা আসবে তা দিয়ে অন্তত এক ডজন সিনেমা আর বহু ডজন ৯০-মিনিটের সিনেমা ও অনেকগুলো সিরিজ সফলভাবে চালানো সম্ভব। সঠিকভাবে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সম্প্রসারিত হলে এবং এগুলোয় দর্শক টানার মতো সিনেমা, সিরিজ এবং ৯০-মিনিটের সিনেমা থাকলে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্প আবার প্রচণ্ড বেগে ঘুরে দাঁড়াবেই। গাজীপুর জেলায় বঙ্গবন্ধু ফিল্ম সিটি হয়েছে। সেটাকে আধুনিক প্রযুক্তির সব যন্ত্রপাতি ও সুবিধা দিয়ে সমৃদ্ধ করতে হবে। পাশাপাশি আমাদের চলচ্চিত্র সেক্টরের জন্যে সর্বোচ্চ বাৎসরিক ৩ পার্সেন্ট সুদে অন্তত তিন শ কোটি টাকা সরকারকেই বরাদ্দ দিতে হবে। এটা করা গেলে মাত্র এক বছরে আবারও বাংলাদেশে প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ টা নতুন সিনেমা ডিজিট্যাল প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে এবং সফলভাবে ওগুলোর বিনিয়োগ উঠে আসবে।

কিন্তু দুঃখের সাথেই বলছি, বর্তমানে আমাদের এখানে ওটিটি প্ল্যাটফর্মের নামে ছেলেমানুষী হচ্ছে। ওরা বুঝতে সক্ষম হচ্ছেন না উট আর ওটিটি এক জিনিষ না। একারণেই অদ্ভুত উটের পিঠে চড়ে বসেছে আমাদের ওটিটি প্ল্যাটফর্মগুলো।

সূত্রঃ সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী’র ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত।

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From