বুধবার, ২৭ অক্টোবর ২০২১, ০৩:৫৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
‘হাবিবি’ নিয়ে আসছেন নুসরাত ফারিয়া “এসো নিজেকে নিজে চিনি” পরিবার আয়োজিত বাউল গানের প্রতিযোগিতার গ্রান্ড ফিনালে ২০ অক্টোবর শুধুমাত্র অনুদানের সিনেমা দিয়েই মুখর সিনেপাড়া বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশ ও স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য একাদশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেখা যাবে যেসব চ্যানেলে ‘বাংলাদেশকে আমরা পাপুয়া নিউগিনির চেয়ে ওপরে দেখি না’: স্কটল্যান্ড কোচ শেন বার্জার টি ২০ বিশ্বকাপ ওমান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে আজ শুরু ইভ্যালির ওয়েবসাইট-অ্যাপ বন্ধের ঘোষণা কুমিল্লার ঘটনার পেছনের কারণ খোঁজা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ‘দেশ বিক্রি করে তো আমি ক্ষমতায় আসব না’ এটাই বাস্তব

অডিও পাড়ায় ঈদ আর আসেনা এখনঃ শোয়েব চৌধুরী

সুহৃদ রোমিও
  • প্রকাশ সময়ঃ শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১
  • ১২৭ বার পড়া হয়েছে

আজ থেকে ঠিক কুড়ি বছর আগে, এমনকি ১২-১৪ বছর আগেও এ সময়টায় ঢাকার অডিও বাজার থাকতো ভীষণ ব্যস্ত। রেকর্ডিং ষ্টুডিও, মিউজিশিয়ান, গীতিকার, সুরকার, কণ্ঠশিল্পী, ডিজাইনার, ছাপাখানাসহ হাজার-হাজার মানুষ। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো তখন ব্যস্ত থাকতো ঈদ উপলক্ষে এক কিংবা একাধিক গান প্রকাশ নিয়ে। গোটা সঙ্গীতাঙ্গনেই বইতো ঈদের আমেজ। এই সুযোগে হাতে গোনা কজন কণ্ঠশিল্পী, যাদের অধিকাংশই পুরুষ, ওরা প্রতিযোগীতা শুরু করে দিলেন নিজেদের রেইট বাড়ানোর। বলতে থাকলেন, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ওনাদের ঠকাচ্ছে, অতএব ইন্ডাস্ট্রির স্বার্থেই নাকি ওনাদের ওই দর বাড়ানোর দৌঁড়।

এরই মাঝে ক্যাসেট কিংবা সিডির জমানা চলে গেলো। ইউটিউব নামের মাধ্যম হয়ে উঠলো গান প্রচারের একমাত্র স্থান। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের হিসেবটাও সবার জন্যে উন্মুক্ত হলো। সোজা হিসাব, একটা গানের ভিডিও দশ লাখ ভিউজ হলে আয় হয় ৮-১০ হাজার টাকা। তারমানে, একটা গান এবং মিউজিক ভিডিওতে যদি এক লাখ টাকাও খরচ হয়, তাহলে ওই বিনিয়োগ তুলতে গানটার ভিউজ হতে হবে অন্তত এক কোটি। যারা মিডিয়া সংশ্লিষ্ট, ওনাদের সবাই জানেন একটা গান করতে খরচ কতো। এখনও কিছু কণ্ঠশিল্পী নিজেদের সম্মানী দাবী করেন ষাট হাজার থেকে এক লাখ। মানে, ওনাদের একটা গান করতে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে খরচ দুই থেকে আড়াই লাখ। ওই বিনিয়োগ উঠে আসতে গানটার ভিউজ হতে হবে অন্তত দুই থেকে আড়াই কোটি।

বাংলাদেশে প্রতি বছর মুক্তিপ্রাপ্ত গানের শতকরা ১ ভাগের বিনিয়োগও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ফেরত পায়না। যেসব কণ্ঠশিল্পী লাখ টাকা সম্মানী হাঁকেন কিংবা নেন, ওনাদের মুক্তিপ্রাপ্ত গানের ভিউজগুলো যাচাই করলেই বোঝা যাবে, কেনো বাংলাদেশে অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমশ গান বাদ দিয়ে নাটকের দিকে ঝুঁকে পড়ছে।

নামকরা অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলোর ঈদ ব্যস্ততা এখন নাটক নিয়ে। গানের দিকে ওদের এর একটুও আগ্রহ নেই, কিংবা একেবারেই সামান্য আগ্রহ আছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে, আগামী ২-৩ বছর পর বাংলাদেশে আর অডিও প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান বলে কিছুই থাকবেনা। আমি নিশ্চিত।

এবার প্রশ্ন হলো, অডিও সেক্টরের সাথে হাজার-হাজার মানুষের জীবিকা নির্ভরশীল। ওনাদের ঘরে ঈদের আনন্দ তো অনেক আগেই ফিকে হয়ে গেছে। এখন ওনাদের অনেকেই আর্থিক কষ্টেও আছেন। কোভিদ এর আগে দেশের বিভিন্ন স্থানে লাইভ কনসার্ট হতো। এটাই ছিলো তখন কণ্ঠশিল্পী এবং মিউজিশিয়ানদের আয়ের মূল উৎস। এখন সেটাও আর আগের মতো নেই। তাছাড়া, লাইভ কনসার্টে বা অনুষ্ঠানে অংশ নিতে হলেও শিল্পীদের নতুন গান চাই। মৌলিক গান। গত কয়েক বছরে কয়টা মৌলিক গান জনপ্রিয়তা পেয়েছে? অনেক কণ্ঠশিল্পীর তো নতুন কোনো গানই আর নেই। সেই কয়েক যুগের পুরনো গানই এখনও ওনারা শ্রোতাদের শোনাচ্ছেন। এভাবে শ্রোতারাও বিরক্ত হয়ে পড়ছে।

বাংলাদেশে সঙ্গীত প্রমোট করার একটা আলাদা টিভি চ্যানেল আছে। ক্রমশ ওই চ্যানেলের চাহিদা কিংবা জনপ্রিয়তা তলানীত ঠেকছে। এখন টিভি দর্শকদের একেবারেই ক্ষুদ্রাংশও আর ওই চ্যানেল দেখেন না। এটার কারণ ওই চ্যানেলের মালিক নিজেই একজন মিউজিশিয়ান এবং কণ্ঠশিল্পী। অতএব ওখানে সবকিছুতেই তিনি। মানে ওয়ান ম্যান শ কিংবা একজন মানুষকে কেন্দ্র করেই সব আয়োজন। অনেকটা ফ্যামিলি শ। একারণেই ওই চ্যানেল আস্তে-আস্তে ডুবে যাচ্ছে।

অডিও সেক্টরের জন্যে আপাতত কোনো সুখবর অন্তত আমার কাছে নেই। কিন্তু এই সংকট অতিক্রম করে গীতিকার, সুরকার, মিউজিশিয়ান, সঙ্গীত পরিচালক এবং কণ্ঠশিল্পীদের অমোঘ অন্ধকার থেকে উদ্ধারের একটা প্রস্তাব দিতে চাই।

বাংলাদেশে বর্তমানে প্রতি বছর কমপক্ষে তিন হাজার টিভি নাটক নির্মিত হচ্ছে। এর সিংহভাগই হচ্ছে বিভিন্ন প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে। ওই নাটকগুলোয় যদি টাইটেল সং বা শিরোনাম সঙ্গীতের পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক একটা করে গানও সংযুক্ত করা যায়, তাহলে গীতিকার, সুরকার, মিউজিশিয়ান, সঙ্গীত পরিচালক এবং কণ্ঠশিল্পীরা আবারও চলমান মন্দ সময় থেকে নিস্তার পাবেন। জানি, ক্রাউন এন্টারটেইনমেন্ট এবং ক্রাউন ক্রিয়েশনস্ নিজেদের নাটকে টাইটেল সং দেয়ার ব্যাপারে খুব আন্তরিক। কিন্তু অন্যদের মাঝে এটা নেই। এক্ষেত্রে আসলে গীতিকার, সুরকার, মিউজিশিয়ান, সঙ্গীত পরিচালক এবং কণ্ঠশিল্পীদের আন্তরিকতা খুব জরুরী। ওনাদের অবশ্যই আগের সেই দাম হাকাহাকির বদঅভ্যাসটা ত্যাগ করতে হবে, নিজেদের এবং সঙ্গীতের স্বার্থে।

যদি সবাই এবিষয়ে এক্ষুনি মনোযোগী হন, তাহলে স্রষ্টার দয়ায়, সঙ্গীত সেক্টরের বিদ্যমান অমানিশা কেটে যাবে নিশ্চিত।

সূত্রঃ সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী ফেসবুক স্ট্যাটাস থেকে সংগৃহীত

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2021 Janatarnissash
Theme Dwonload From