সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৯:৩৬ অপরাহ্ন

হত্যা চেষ্টা মামলার আসামী নিশির সাথে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সেক্রেটারি লেখকের অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ

সংবাদ দাতার নামঃ
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ২৫ বার পঠিত

বেনজীর হোসেন নিশি’ দেশ জুড়ে ভাইরাল হওয়া একটি সমালোচিত নাম। দেখতে খুব বেশী সুন্দরী না হলেও রুপ-যৌবনকে সময়মত কাজে লাগিয়ে শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের পুরুষত্বকে পূঁজি করে অর্জন করেছেন সস্তা জনপ্রিয়তা। একের পর এক অনৈতিক কর্মকান্ড ও নানা কেলেঙ্কারীর পরও আছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতাদের ছত্র-ছায়ায়। তাদের সাথে তোলা ছবি ও সেল্পি ব্যবহার করে একের পর এক চালিয়ে যাচ্ছেন অপকর্ম। ‘বেনজীর হোসেন নিশি’ মাগুড়া সদর উপজেলার পারনান্দুয়ালী গ্রামের বাবু হোসেনের কন্যা। ‘বেনজীর হোসেন নিশি’ পরিবারের দুই ভাই বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। নিশি পাড়া গায়ের মেয়ে হলেও যৌবনের শুরু থেকেই তার মাঝে উচ্চ বিলাসি স্বপ্ন কাজ করত। স্বপ্ন পূরণ করতে তিনি বেচেঁ নেন ছাত্রদলের নেতা মোহাম্মদ মামুন হোসেনকে। সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের ইকরাম মোল্লার পুত্র মোহাম্মদ মামুন হোসেনের সাথে ১৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন নিশি। তার স্বামী মামুনের নামে সাতক্ষীরায় রয়েছে আলোচিত মামলা। সাতক্ষীরার কালিগঞ্জে বিকাশ এজেন্টের ২৬ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় বন্দুকযুদ্ধে নিহত দুই ছিনতাইকারীর সহকারী ছিলেন বেনজির হোসেন নিশির স্বামী ছাত্রদল নেতা মামুন। কিছুদিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের বিয়ের কাবিননামা ফাঁস হয়। জানা যায়, নিশির দুই ভাইয়ের একজনের নাম জিয়া এবং আরেক জনের নাম এরশাদ। নিশির দুই ভাই বিএনপির অন্যতম শীর্ষ স্থানীয় ক্যাডার বলে জানা গেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেলে ঢাকায় পাড়ি জমান নিশি। নিজের উচ্চ বিলাসী স্বপ্ন পূরণ করতে রাজনীতিতে যুক্ত হন এবং পরবর্তীতে ক্ষমতাসীন পুরুষের দূর্বলতাকে পূজিঁ করে সিড়িঁ বেয়ে উপরে উঠতে শুরু করেন তিনি। হোটেল-রিসোর্টে কখনো অমুক নেতার সাথে রাত্রী যাপন আবার কখনো দলীয় প্রোগ্রামের নামে উঠতি বয়সী ছাত্রলীগ নেতাদের সাথে বিভিন্ন জেলায় ঘুরা-ঘুরি। সর্বশেষ নিশি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন। অভিযোগ উঠেছে বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ লেখক ভট্টাচার্য্যরে সাথে রয়েছে তার গোপন সম্পর্ক। এই সম্পর্কের জের ধরেই নানান অপকর্ম করেও বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন নিশি। লেখক ভট্টাচার্যকে খুশী করতে সময়ে-অসময়ে লঞ্চের কেবিনে, ফ্লাটে ও বিভিন্ন স্থানে রাত্রী যাপন করেন তিনি। এছাড়াও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শামস-ই নোমান এর সাথেও বেনজির নিশির অনৈতিক সম্পর্ক আছে বলে জানা যায়। শুধু দেহ-ই নয়, নেতাদের সাথে বসে একসাথে নেশাদ্রব্য গ্রহন, নেতাদের কথার অবাধ্য কর্মী ও নেত্রীদের মারপিটসহ ক্ষমতার অপব্যবহার করে মিথ্যা নাটক সাজিয়ে ফাসাঁনোর কাজও করেন নিশি। সর্বশেষ গত কয়েকদিন আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রোকেয়া হলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছাত্রলীগ নেত্রী ফাল্গুনী দাস তন্নীকে বেদড়ক পেটায় বেনজীর হোসেন নিশি। পরে আহত ফালগুনী দাস তন্বী কথিত বেনজির হোসেন নিশিসহ আরো ৪ জনকে আসামী করে ঢাকা শাহবাগ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সমালোচনার তোপে হাসপাতালে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য নির্যাতনের শিকার ফাল্গুনী দাসকে দেখতে গিয়ে মিডিয়াকে বেনজির হোসেন নিশির বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার কথা দিলেও সংগঠন থেকে আজও কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। জানা যায়, নিশির প্রতি লেখক ভট্টাচার্যের বিশেষ দুর্বলতাই মূলত নিশির বিরুদ্ধে কোন সাংগঠনিক ব্যবস্থা না নেওয়ার কারন। তা না হলে, এত কিছুর পরও কেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র বিরোধী হয়ে নিশি দলে আছেন। এ প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে দেশের সচেতন মহলে। এভাবে ছাত্রলীগের ট্যাগ ব্যবহার করে অপরাধীরা পার পেয়ে গেলে ছাত্রলীগের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য নষ্ট হওয়ার শংকায় আছেন সাবেক-বর্তমান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ছাত্রলীগ কর্মী বলেন, শীর্ষ নেতার দুইজনের কেউই মধুতে আসেন না। মাস খানেক পর পর তাদের দেখা পাওয়া যায়, সংগঠন এর সকল কার্যক্রম শুধু দুই শীর্ষ নেতার নিজেদের মনগড়া মত হয়। সংগঠন এর অন্য কোন কেন্দ্রীয় নেতাদের মতবিনিময় বা তোয়াক্কা না করেই একের পর এক অসাংগঠনিক কার্যক্রম করে যাচ্ছেন। এছাড়াও গত ৩১ জানুয়ারী ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির শূন্যপদগুলো পূরণ হয়েছে। ছাত্র সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য এক ঘোষণায় শূন্যপদ পূরণ করে ৬৮ জনের নাম ঘোষণা করেছেন। তবে বিতর্কিতদের বাদ দিয়ে যেসব পদ শূন্য করা হয়েছিল, সেসব পদে ফের স্থান পেয়েছেন বিতর্কিতরা। কেন্দ্রীয় কমিটিতে পদ পাওয়া ৬৮ জনের অনেকের বিরুদ্ধে বয়স উত্তীর্ণ হওয়া, ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত, চাঁদাবাজি, মাদক সেবন, বিবাহিত, নিজ সংগঠনের নেত্রীকে মারধর ও ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এদিকে কমিটিতে বিতর্কিতদের স্থান দেওয়ায় সংবাদ সম্মেলন করেছে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অব্যাহতি পাওয়া ২১ নেতা।

নিউজটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Find Us

Address
123 Main Street
New York, NY 10001

Hours
Monday–Friday: 9:00AM–5:00PM
Saturday & Sunday: 11:00AM–3:00PM

© All rights reserved © Janatarnissash 2021

কারিগরি সহযোগিতায়: Freelancer Zone
11223