সোমবার, ০৮ মার্চ ২০২১, ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ন

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে রুগী ভর্তি নিয়ে তুলকালাম

জ.নি. রিপোর্ট
  • আপডেট সময়ঃ শনিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২১
  • ২৩ বার পঠিত

ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের মহিলা কেবিনে রোগী ভর্তি করা নিয়ে তুলকালাম কাণ্ড ঘটেছে। কেবিনের অন্য সিটে আরেকজন রোগী ভর্তি করিয়ে বিপদে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তার ক্ষমতার দাপটে তারা বদলি আতঙ্কে আছেন।

জানা যায়. স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জনৈক কর্মকর্তা গাউসুল আজমের মা হাসিনা (৫২) ১৭ জানুয়ারি সকালে অ্যাজমাসহ শ্বাস কষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। দ্বিতীয় তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডের মহিলা কেবিনে তার চিকিৎসা চলছিল। একই কেবিনের অপর খালি সিটে ১৯ জানুয়ারি হৃদরোগে আক্রান্ত জেলা শহরের এইচএসএস সড়কের মৃত আব্দুল লতিফের স্ত্রী রবিউল নেছাকে ভর্তি করা হয়। এতে সে সময় কেবিনে উপস্থিত গাউসুল আজম ক্ষিপ্ত হয়ে ভর্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের হুমকি-ধমকি দেন।

মেডিসিন ওয়ার্ডের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স মমতাজ বেগম অভিযোগ করেন, কেবিনে অন্য রোগী ভর্তির বিষয়ে আগে থেকেই আপত্তি ছিল আজম সাহেবের। কিন্তু একটি সিট খালি থাকায় প্রতিদিন ২৭৫ টাকা ভাড়া হিসাবে রশিদ মূলে মুমূর্ষু ওই রোগীর জন্য সিট বরাদ্দ দেন কর্তৃপক্ষ।

মমতাজ বেগম জানান, বরাদ্দ ছাড়া বিনা ভাড়ায় কেবিনে ছিলেন ওই কর্মকর্তার মা হাসিনা। এমনকি গাউসুল আজমের পরিচয় জানতেন না তিনি। বেলা তখন ১১টা। আজমের ছোট চাচা একই হাসপাতালের অফিস সহকারী ফেরদৌসসহ ৮-১০ জন মেডিসিন ওয়ার্ডে ছুটে আসেন। কেবিনে নতুন রোগী ভর্তি করায় তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সরকারি নিয়মের কথা জানালে তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন। শুধু তাই নয়, সুনামগঞ্জের তাহেরপুর হাসপাতালে বদলি করার হুঙ্কার দেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সদর হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সমন্বয়ক ও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জাকির হোসেন জানান, এ ঘটনার পর থেকে তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার হারুর-অর-রশিদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কেবিনে নতুন রুগী ভর্তি করে কোনো অপরাধ করেননি নার্স। অথচ দুঃখজনক ভাবে বিষয়টি মন্ত্রণালয় পর্যন্ত গড়িয়েছে। ওই নার্সের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগে কর্মরত একাধিক ডাক্তার-নার্স-অফিস সহকারী অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ে কর্মরত আজমের ক্ষমতার দাপটে তারা আতঙ্কে আছেন। ভাতিজা মন্ত্রণালয়ে চাকরি করায় তার চাচারাও বেপরোয়া। কথায় কথায় বদলির ভয় দেখান।

দাপুটে এ কর্মকর্তার বাড়ি ঝিনাইদহের পিড়াগাতি গ্রামে। তার বাবার নাম আছাদুজ্জামান আশা। বর্তমানে জেলা শহরের মডার্নপাড়ায় থাকেন। তার ছোট চাচা ফেরদৌস ১৫ বছর ধরে সদর হাসপাতালে অফিস সহকারী হিসাবে কর্মরত। আরেক চাচা হাবিবুর রহমান সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান (সিসিটি) পদে কর্মরত। ভাতিজার ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সব সময় ডাক্তার নার্স ও স্টাফদের তটস্থ রাখেন।

আরও অভিযোগ হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মা ও শিশু স্বাস্থ্য এবং স্বাস্থ্যসেবা পুষ্টি খাতে বিশেষ অনুদান (এনজিওর জন্য) বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা এই গাউসুল আজম। ভুয়া প্রকল্প, কাগজপত্র, প্রস্তুত করে চাচা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের সিসিটি (কোল্ড চেইন টেকনিশিয়ান) হাবিবুর রহমানের মাধ্যমে প্রতি বছর বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে গাউসুল আজমের মোবাইল নম্বরে (০১৮৩২-০৬৭৮৬১) বারবার ফোন ও খুদে বার্তা পাঠানো হয়। কিন্তু তিনি উত্তর দেননি।

তবে তার ছোট চাচা সদর হাসপাতালের অফিস সহকারী ফেরদৌস বলেন, ভাতিজা আজম কোন পদে চাকরি করেন সঠিক ভাবে জানা নেই। তবে প্রশাসনিক কর্মকর্তা হতে পারেন।

এ সময় অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি পাল্টা মেডিসিন ওয়ার্ডের সমন্বয়ক বিশেষজ্ঞ ডাক্তার জাকির হোসেন ও ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স মমতাজ বেগমকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, এক হাজার টাকা জমা দিয়ে কেবিনে ভর্তি করা হয় তার মেজ ভাইয়ের স্ত্রী (গাউসুল আজমের মা) হাসিনাকে। আর ঘটনার দিন নার্স মমতাজ আমাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ করেছেন।

সূত্রঃ যুগান্তর

নিউজটি সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর

Find Us

Address
123 Main Street
New York, NY 10001

Hours
Monday–Friday: 9:00AM–5:00PM
Saturday & Sunday: 11:00AM–3:00PM

© All rights reserved © Janatarnissash 2021

কারিগরি সহযোগিতায়: Freelancer Zone
11223