মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি: মিথ্যে তথ্য দিয়ে ফ্রান্সে রাজনৈতিক আশ্রয় (Asylum) গ্রহণ এবং নিজের ঘর পুড়িয়ে সহানুভূতি আদায়ের মাধ্যমে বিশাল অংকের অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুন্সীগঞ্জের এক প্রবাসীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই প্রবাসীর নাম মোহাম্মদ নান্টু। তার গ্রামের বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলার টংগিবাড়ী থানার আরিয়ল ইউনিয়নের দিঘীরপাড় গ্রামে। তার পিতার নাম জয়নুদ্দিন।
সরেজমিনে তদন্ত ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, মোহাম্মদ নান্টু এলাকায় একজন চতুর এবং ধূর্ত প্রকৃতির লোক হিসেবে পরিচিত। ফ্রান্সে যাওয়ার পূর্বে তিনি সৌদি আরবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ফ্রান্সে স্থায়ী হওয়ার জন্য তিনি সে দেশের অ্যাসাইলাম অথরিটির কাছে নিজের এবং পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে সম্পূর্ণ বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক প্রতিবেশী জানান, “নান্টু ফ্রান্সে গিয়ে দাবি করেছেন যে, বাংলাদেশে তার বাবা-মাকে প্রতিবেশীরা হত্যা করেছে এবং তার ছেলের ওপর হামলা হয়েছে। অথচ বাস্তবে দিঘীরপাড়ে তাদের পরিবারের সাথে প্রতিবেশী বা গ্রামবাসীর কোনো বিবাদ নেই। তার কোনো আত্মীয়-স্বজনকে হত্যা করা তো দূরের কথা, সামান্য ঝগড়াও হয়নি। এছাড়া যে সময়ের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন, তখন তার কোনো বড় ছেলে সন্তানই ছিল না।”
অভিযোগে আরও বলা হয়, প্যারিসে তিনি এক বয়স্ক ফরাসি দম্পতিকে ‘মা-বাবা’ ডেকে আবেগের ফাঁদে ফেলে তাদের সহানুভূতি আদায় করেছেন। এমনকি ফ্রান্সে তার স্ত্রী ও সন্তানদের দ্রুত নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি দেশে এক অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নেন।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত জুলাই মাসে ভিসা প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে নান্টুর পিতা জয়নুদ্দিন নিজে তাদের বাড়ির পাটকাঠির তৈরি পরিত্যক্ত রান্নাঘরে আগুন ধরিয়ে দেন। পরবর্তীতে এই অগ্নিকাণ্ডকে ‘শত্রুপক্ষ দ্বারা হামলা’ হিসেবে চালিয়ে দিয়ে এবং পোড়া ঘরের ছবি ব্যবহার করে প্যারিসে বসবাসরত দেশি-বিদেশিদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ সাহায্য (ভিক্ষা) সংগ্রহ করছেন নান্টু। বর্তমানে সেই ‘সাহায্যের’ টাকায় তারা দেশে পাকা দালান নির্মাণ করছেন বলে জানা গেছে।
নান্টুর পিতা জয়নুদ্দিনকে আরিয়ল বাজারে প্রায়ই জুয়া খেলতে দেখা যায় এবং তিনি নিজেই চায়ের দোকানে বসে ছেলের এই ‘সফল প্রতারণা’র গল্প গর্বের সাথে প্রচার করেন।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রবাসে বসে এমন জঘন্য মিথ্যাচার দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তারা ঢাকাস্থ ফরাসি দূতাবাস (France Embassy Dhaka) এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেছেন। তদন্ত করলেই নান্টুর জালিয়াতি এবং মিথ্যে আশ্রয়ের বিষয়টি প্রমাণিত হবে।