শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ১১:২৪ অপরাহ্ন

ফরিদপুরের ৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে পানি, স্কুল খোলা নিয়ে সংশয়

হেলাল মাহমুদ তন্ময়
  • প্রকাশ সময়ঃ মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ২৫৮ বার পড়া হয়েছে
পানি উঠেছে ফরিদপুর সদরের আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

ফরিদপুর জেলার পাঁচটি উপজেলার ৪৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ এবং পাঁচটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে বন্যার পানি রয়েছে। এছাড়া সদর উপজেলার নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের গোলডাঙ্গি এলাকায় অবস্থিত পদ্মারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কামারডাঙ্গি এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌসী মোহন মিয়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে রয়েছে। এ অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর ওইসব বিদ্যালয়গুলো খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে বিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ফরিদপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তৌহিদুল ইসলাম জানান, জেলার সদর, ভাঙ্গা, সদরপুর, চরভদ্রাসন ও মধুখালী উপজেলায় ৪৪টি বিদ্যালয়ের মাঠে বন্যার পানি জমে রয়েছে। এছাড়া পাঁচটি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি রয়েছে। এ অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ওই সব বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরম্ন করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে।বন্যার পানি যদি কমেও যায় তা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করে ক্লাস উপযোগী করতে সময় লাগবে। তাতে নির্দিষ্ট ওই দিনে স্কুল খোলা সম্ভব হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

আজ মঙ্গলবার সকালে সরেজমিনে ফরিদপুর সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গদাধরডাঙ্গি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, পদ্মা নদী সংলগ্ন ওই গ্রামে অবস্থিত গদাধরডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে হাঁটু পানি জমে রয়েছে। বড় রাস্তা থেকে স্কুলে যাওয়ার পথটিও পানি প্লাবিত রয়েছে। পাশের একটি ভবনে প্রধানশিক্ষক নাজমুন নাহার লাবনীসহ শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা পানিতে বুক পর্যন্ত ভিজে অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিতে আসছে।

ওই স্কুলের প্রধানশিক্ষক নাজমুন নাহার লাবনী জানান, আমাদের স্কুলটি পদ্মা নদী তীর সংলগ্ন। ফলে বন্যা শুরু হতে না হতেই স্কুলে পানি ঢুকে পড়ে। পানিতে ভিজে আমরা পাঁচজন শিক্ষক ও ১৬৩ জন শিক্ষার্থীরা স্কুলে যাই। শুধু তাই নয়। পাশের কমিউনিটি ক্লিনিক ও সেন্টারটিও পানি প্লাবিত। এতে ওই পথে শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ও স্কুলে যাতায়াত করে। আমরা শিক্ষকরাও পানিতে ভিজে স্কুলে যায়। কিন্তু বর্তমানে স্কুল মাঠ ও সিঁড়িতে পানি থাকায় আমরা স্কুলে যেতে পারছি না। এ অবস্থায় ১২ সেপ্টেম্বর স্কুল খোলা একেবারেই অসম্ভব। পানির মধ্যে ঝুঁকি নিয়ে শিশুদের ক্লাসে আসতে বলতে পারি না। তিনি বলেন, ফরিদপুর-চরভদ্রাসন আঞ্চলিক সড়কের পাশের কাদিরদী বাজার সংলগ্ন সরু একটা রাস্তা দিয়ে আমাদের স্কুলসহ ওই দুটি প্রতিষ্ঠানে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে রাস্তাটি উচুঁ করা ও বন্যার পানি বেরিয়ে যাওয়ার জন্য একটি কালভার্ট নির্মাণের দাবি জানান।

জেলার চরভদ্রাসনের গাজীরটেক ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী জানান, এ ইউনিয়নের রমেশবালাডাঙ্গি গ্রামে অবস্থিত মন্ডলডাঙ্গি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টিতে পানি উঠেছে। পানি না কমলে ওই স্কুলে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হবে না।

ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাকুজ্জামান জানান, ইউনিয়নের দুটি স্কুল পদ্মারচর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কামারডাঙ্গি এলাকায় অবস্থিত ফেরদৌসী মোহন মিয়া জুনিয়র উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠেও পানি জমে রয়েছে। এ অবস্থায় সেখানে ক্লাস নেওয়া সম্ভব হবে না। পানি নেমে গেলে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

দয়া করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরো খবর
© All rights reserved © 2022 Janatarnissash
Theme Dwonload From